নীল কোট পরা এনসিপি নেতা আব্দুল জলিল ও মাথায় টুপি পরিহিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান। ছবি: খবরের কাগজ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ছাড়াতে অনুরোধ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক আব্দুল জলিল।
গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা আব্দুল জলিলের মধ্যকার একটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করেন। ভূমি অফিসের নামে জমির নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য সেবা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি অর্থ আদায় করতেন এবং বিভিন্ন কাজ নিয়ে দিনে একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিস ও পৌর ভূমি অফিসে যাতায়াত করতেন। তাকে এভাবে ভূমি অফিসের বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে এবং দালালি বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার পরও তিনি ভূমি অফিসে বারবার আসা-যাওয়া বহাল রাখেন এবং মৌখিক সতর্কতায় কর্ণপাত করেননি বিধায় তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় তিনি এসব অভিযোগ স্বীকার করলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তার প্রতিষ্ঠানে সেবামূল্য তালিকা না থাকায় সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
মোবাইলের একটি অডিও বার্তায় শোনা যায়, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানকে বলেন, মিলন আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে একবার শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর আব্দুল জলিলকে বলতে শোনা যায়, ‘ঠিক আছে, এমপি স্যারকে বলি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমাদের দলীয় নেতার বিষয়টি জানতে পেরে এসি ল্যান্ডকে ফোন করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে সুপারিশ করা সাংগঠনিক আইন পরিপন্থি। এটা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। অফিসের বাইরে তার ঘোরাঘুরির একাধিক ফুটেজও রয়েছে। এ ছাড়া তার প্রতিষ্ঠানে কোনো মূল্যতালিকা টানাননি। আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কীভাবে ভালো কাজ করবেন। অপরাধীকে আটক করলে বা সাজা দিলে আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী তার জন্য অনুরোধ করবে সেটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দলীয় পরিচয় দিয়ে সুপারিশগুলো সম্বন্ধে আপনাদের মতামত কী? দয়া করে বলবেন।’