তওবা আরবি শব্দ। যার অর্থ অনুশোচনা করা, মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। কোরআন ও হাদিসে শব্দটি আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয় ত্যাগ করা ও তাঁর আদেশকৃত বিষয়ের দিকে ফিরে আসা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ইসলামি ধর্মতত্ত্বে নিজের কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং তা পরিত্যাগের দৃঢ়সংকল্পকে বোঝানো হয়েছে। ইসলামে তওবার গুরুত্ব অনেক। তওবা ছাড়া বড় পাপ ক্ষমা হয় না।
মানুষ মাত্রই ভুল করে। গুনাহ করে। গুনাহের পর মুমিন অনুশোচনাবোধ করে। আল্লাহতায়ালাও চান মানুষ গুনাহের পর তওবা করে তাঁর কাছে ফিরে আসুক। মানুষের ফিরে আসা তিনি পছন্দ করেন। তওবা কবুল করেন। গুনাহ মাফ করেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের থেকে (গুনাহের) বোঝা কমাতে চান। কেননা মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ২৮)
ব্যক্তি ও সমাজজীবন পাপমুক্ত রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই তওবার মূল উদ্দেশ্য। তওবা শুধু বড় পাপের জন্যই করতে হয়। কারণ ছোট পাপগুলো নিয়মিত নেক আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যায়।
মানুষ পাপ করার পরও যদি আল্লাহতায়ালার কাছে তওবা করে, তিনি পাপ মোচন করে দেবেন। পাপকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তবে তারা নয় যারা তওবা করবে, ঈমান আনবে, আর সৎ কাজ করবে। আল্লাহ এদের পাপগুলো পুণ্যে পরিবর্তিত করে দেবেন; আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭০)
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসাসহকারে তাঁর তাসবিহ পড়ো এবং তাঁর কাছে মাগফিরাত চাও। অবশ্যই তিনি তওবা কবুলকারী।’ (সুরা নাসর, আয়াত : ৩) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তওবার শিক্ষা দিয়ে আল্লাহতায়ালা মানুষকে তওবার প্রতি উদ্বুদ্ধ করছেন। ভুল বা গুনাহ হলে তাঁর কাছে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন। তিনি তওবা কবুল করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ছিল ইসলামের জন্য উৎসর্গিত। তিনি প্রতিটি মুহূর্ত কাটাতেন উম্মতের মুক্তির চিন্তায়। আল্লাহর আদেশ পালন আর নির্দেশ বর্জন ছিল তাঁর জীবনের সেরা ব্রত। এরপরও তিনি প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তওবা করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “অবশ্য কখনো কখনো আমার ‘কলব’ পর্দাবৃত হয় (অর্থাৎ মানুষ হিসেবে দুনিয়ার কাজকর্মে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহর জিকির থেকে গাফিল হয়) এবং আমি আল্লাহর কাছে দৈনিক ১০০ বার ইস্তিগফার করে থাকি।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১৫) রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমার মনে কখনো কখনো অলসতা দেখা দেয়, তাই আমি দৈনিক ১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকি।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৬১২)
অন্য আরেকটি হাদিসে ৭০ বার তওবা করার কথা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করি ও তওবা করি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩০৭)
চিন্তা করুন, মহানবী (সা.) নিষ্পাপ হয়েও দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ বার তওবা ও ইস্তিগফার করেছেন, সেখানে আমাদের মতো গুনাহগারের কয়বার করা জরুরি হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) এ জন্য তওবা করতেন না যে, তিনি পাপাচারে লিপ্ত ছিলেন; বরং উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া ও শুকরিয়া আদায়ের জন্যই এমনটা করতেন।
লেখক : আলেম ও গবেষক