রমজান মাসে পবিত্র কোরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। আরবি ভাষায় এটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণও উল্লেখ করা হয়েছে কোরআনে। আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল) আমি তোমার ভাষায় কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা দুখান, আয়াত ৫৮)
আল্লাহ আরও বলেন, ‘আমি (সুস্পষ্ট কিতাব) অবতীর্ণ করেছি আরবি ভাষায় কোরআনরূপে, যাতে তোমরা বুঝতে পার।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত: ৩)
মাতৃভাষায় ভাবের আদান-প্রদান যতটা স্বাভাবিক ও সাবলীল হয়, অন্য ভাষায় ততটা নয়। মাতৃভাষা আল্লাহর সেরা দান। স্থানীয়ভাবে নিজস্ব নিয়মে প্রাকৃতিক অবয়বে গঠিত ধ্বনি ও শব্দমালার মাধ্যমে মানুষ ভাবের আদান-প্রদান করে থাকে। এলাকা বিশেষে নিজেদের মধ্যে সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নিজস্ব ভাষা অন্যতম অবলম্বন হিসেবে কাজ করে। অঞ্চল, গোত্র ও গোষ্ঠীর মধ্যে স্বাতন্ত্র্য নির্দেশক হিসেবেও এবং নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতির উদ্ভব ও বিকাশে বাহন হিসেবে ভাষা একটি অন্যতম নিয়ামক।
আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল হওয়ার মধ্যে যে উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় ও যৌক্তিকতা স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন, তার মধ্যে চিন্তা ও উপলব্ধির অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। একজন উম্মি রাসুলের কাছে তার নিজ ভাষাতে অহি (প্রত্যাদেশ) এসেছে এবং তার অনুসারীদের মধ্যে তা প্রকাশ, প্রচার ও ব্যাখ্যার সুবিধার জন্য তো বটেই। কিন্তু তার চেয়ে বড় কারণ-আরবি এমন একটি সমৃদ্ধ ও সুপ্রাচীন ভাষা, এর গঠন ও প্রকাশশৈলী এমনই কাব্যিক ও সুরেলা, যার মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদানে ব্যাখ্যা ও বয়ানে বিশেষ আবেগ ও আন্তরিকতার আবহ সৃষ্টি হয়।
কোরআন হলো মানুষকে শিক্ষার দিকে জ্ঞান আহরণ আর উপলব্ধির দিকে অনিবার্য আহ্বানের এক ঐশী সওগাত, যা রমজান মাসেই পাঠানো হয়েছে।
রমজান মাসের অশেষ কল্যাণ ব্যক্তি তথা সমাজ জীবনে নিশ্চিত করতে কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনা এক বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। কোরআন এবং মাহে রমজান পাস্পরিক সূত্রে গাঁথা এবং মানবতার সার্বিক কল্যাণে এক অবিনশ্বর অবলম্বন। আধুনিক বিশ্বে মানবতার আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রেক্ষিত পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধের বিকাশ অতীব প্রয়োজন।
লেখক : সাবেক সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর