প্রশ্ন: ইসলামে বিনা কারণে ছবি ব্যবহার তো হারাম। তা হলে আমরা ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ অনলাইনে যেসব ইমোজি ব্যবহার করি, এটা কি হারাম হবে?
উত্তর: ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. মুখমণ্ডল বা পূর্ণ প্রাণীর অবয়বযুক্ত ইমোজি
যদি কোনো ইমোজিতে মুখমণ্ডল কিংবা প্রাণীর পূর্ণ দেহাবয়ব স্পষ্ট থাকে, তা হলে তা নিষিদ্ধ ছবির আওতাভুক্ত হবে। এর কারণ হলো, মুখমণ্ডল আঁকাও প্রাণীর সম্পূর্ণ ছবি আঁকার নামান্তর। ছবির আকার ছোট হলেও বিধানের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই এ ধরনের ছবিযুক্ত স্মাইলি বা ইমোজি ব্যবহার জায়েজ হবে না।
হাদিসের নির্দেশনা
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক ছবি নির্মাতা জাহান্নামে যাবে। তার নির্মিত প্রতিটি ছবির পরিবর্তে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে। (বুখারি ২২২৫, ৫৯৬৩, মুসলিম ৫৬৬২)
২. কোলন, ব্র্যাকেট বা অক্ষর দিয়ে তৈরি ইমোজি
যেসব ইমোজি কোলন ও ব্র্যাকেটের সমন্বয়ে বা শুধু অক্ষর যোগে বানানো হয়, যেমন- 🙂 😞 😀 😉 -এগুলো নিষিদ্ধ ছবির আওতাভুক্ত হবে না। কারণ, এগুলোতে প্রকৃত মুখের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, যেমন- চোখ, মুখ, নাক, মাথা ও কান। তাই এগুলোর ব্যবহার জায়েজ হবে। তবে অকারণে এগুলোর ব্যবহার পরিহার করাই তাকওয়ার (আল্লাহভীতির) পরিচয়।
হাদিসের নির্দেশনা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ছবি হলো মাথার অংশ, আর মাথা কেটে ফেললে ছবি থাকে না। (সহিহ আলজামি, ৩৮৬৪)
৩. জায়েজ ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি:
ক. জেন্ডার এবং মাহরামের মধ্যে সীমাবদ্ধতা: জায়েজ ইমোজিগুলোর ব্যবহার কেবল একই জেন্ডার এবং মাহরাম (যাদের সঙ্গে বিবাহ হারাম) ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কারণ প্রথমত, বিপরীত জেন্ডারের গাইরে-মাহরাম ব্যক্তির সঙ্গে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা জায়েজ নেই। দ্বিতীয়ত, পর্দার বিধান ঠিক রেখে একান্ত প্রয়োজনে কথা বলা জায়েজ হলেও, নারীর প্রতি নির্দেশ হলো এমন কোনো আচরণ প্রকাশ না করা, যার মধ্যে ফেতনার আশঙ্কা থাকে।
অতএব, পরনারী-পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলার সময় ইমোজিগুলো ব্যবহার করা জায়েজ হবে না। কারণ, এগুলো মানুষের অনুভূতি প্রকাশ করে এবং মনে হতে পারে যে সে হাসছে বা লাজুক অভিনয় করছে। এতে বিপরীত প্রান্তের ব্যক্তির মনে তার চেহারার কল্পনা আসা অস্বাভাবিক নয়, যা ফেতনার কারণ হতে পারে।
খ. কাউকে তাচ্ছিল্য বা বিদ্রূপ না করা: ইমোজি ব্যবহারের উদ্দেশ্য যেন কাউকে তাচ্ছিল্য বা বিদ্রূপ করা না হয়। ইসলামে কাউকে উপহাস করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
গ. গর্হিত সিম্বল পরিহার: কিছু ইমোজি রয়েছে যেগুলো কুফর, শিরক, সমকামিতা, নগ্নতাসহ বিভিন্ন গর্হিত বিষয়ের সিম্বল হিসেবে পরিচিত। একজন মুমিন হিসেবে অবশ্যই এসব ইমোজি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।