এর আগেও নব্বইর ঘরে গিয়েছিলেন দুইবার। কিন্তু দেখা মেলেনি তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। তৃতীয়বারের মতো যখন ছুঁলেন নব্বই, তখন তাওহিদ হৃদয় আহত এক সৈনিক। ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো দলকে টেনে নেওয়ার পথে পায়ের পেশিতে ক্র্যাম্প। দৌড়ে রান নেওয়াই তখন কষ্টকর।
হৃদয়ের রান যখন ৯৯, টাইগার ড্রেসিংরুমে চাপা উত্তেজনা। টিভি পর্দায় চোখ রাখা বাংলাদেশের কোটি ভক্তের বুকে চলছে দুরুদুরু কম্পন। মোহাম্মদ শামির বল ডিপ পয়েন্টে ঠেলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে প্রান্ত বদল করলেন হৃদয়। ব্যস, হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি। আলতো করে হেলমেট খুলে ব্যাটটা উঁচিয়ে ধরলেন বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের দিকে। ততক্ষণে হৃদয়ের লড়াকু সেঞ্চুরির অভিবাদন জানাতে দাঁড়িয়ে করতালিতে ব্যস্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তসহ গোটা টিম। হৃদয়ের মুখাবয়বে তখন ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি।
হদয়ের এই সেঞ্চুরি শুধুই সেঞ্চুরি নয়, এর মাহাত্ম্য অনেক। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করার সাহস নিয়েছিলেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু শুরুর গল্পটা তো শরীর হিম করার মতো। ৩৫ রানে নেই পাঁচ উইকেট। দল ১০০ করতে পারবে কি না, এমন শঙ্কা তখন তীব্র। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ২২৮ রান করতে পারল, সেটা তো হৃদয়ের প্রবল দৃঢ়তা ও সংকল্পে ভর করেই।
প্রথম দুই ওভারে নেই দুই উইকেট। ৩৫ রানে নেই পাঁচ উইকেট। জাকেরের ক্যাচটা রোহিত শর্মা নিতে পারলে উইকেট পতনের সংখ্যাটা দাঁড়াত ছয়ে। হয়ে যেত অক্ষর প্যাটেলের হ্যাটট্রিকও। কিন্তু হয়নি। সেখান থেকেই বাংলাদেশকে ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচান ষষ্ঠ উইকেটে হৃদয়-জাকেরের রেকর্ড গড়া জুটি। দুজনে মিলে করেন ১৫৪ রানের জুটি। যা শুধু বাংলাদেশ দলেরই ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি নয়, ভারতের বিপক্ষে যেকোনো দলের এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেই এই উইকেটে সর্বোচ্চ। দুজনই ফিফটি তুলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত খেলেছেন রয়েসয়ে। শেষ দিকে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে হাত খুলতে গিয়েই জাকের ফেরেন ৬৮ রান করে। তবে হৃদয় ছিলেন শেষ ওভার পর্যন্ত।
৮৭ বলে জাকের যখন ফিফটি করেন, তখনো হৃদয়ের রান ৪৯। পরের ওভারে জাদেজাকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হৃদয় পূর্ণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি। বল খরচ করতে হয় ৮৫টি। অথচ পরের পঞ্চাশ করতে হৃদয় খরচ করেন মাত্র ২৯ বল। সব মিলিয়ে ১১৪ বলে হৃদয় পান কাঙিক্ষত প্রথম সেঞ্চুরি। হর্ষিতের বলে বিদায় নেওয়ার সময় হৃদয়ের রানের সমীকরণটা ১১৮ বলে ঠিক ১০০।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে ছক্কার মার দেখা গেছে চারটি। এর দুটিই এসেছে হৃদয়ের ব্যাট থেকে। বাকি দুটি রিশাদের। হৃদয় বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন মাত্র ছয়টি। তার মানে, হৃদয়ের ব্যাট থেকে চার-ছক্কায় রান এসেছে সাকুল্যে ৩৬। বাকি ৬৪ রান নিয়েছেন তিনি দৌড়ে। ৪৫তম ওভার থেকে ক্র্যাম্পের কারণে প্রবলভাগে ভুগতে হয় হৃদয়কে। শেষ দিকে তো নড়তেই পারছিলেন না। সেটির প্রভাব পড়ে ব্যাটিংয়ে। নইলে তার ও দলের রান বেশি হতে পারত আরও। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান এখন তাওহিদ হৃদয়।