নতুন সূর্যোদয় মানেই আরেকটি আনন্দময় নতুন দিন। কিন্তু দিনের শুরুতেই যদি অলসতা, ক্লান্তিকর অনুভূতি হয় তাহলে সারা দিন আমাদের বিষণ্ন, মন খারাপ লাগে। আবার বড়দের মতো কিশোর-কিশোরীদেরও সকালের ব্যস্ততা কম নয়। স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া, সারা দিনের প্রস্তুতি যদি সময়মতো না হয় তবে দিনের বাকি সময়টাও তাড়াহুড়া আর এলোমেলোভাবে কেটে যায়। সারা দিনের সুস্থতা, শক্তি ও কাজের পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার অনেকটাই নির্ভর করে কিশোর-কিশোরীদের সকালের রুটিনের ওপর। প্রাণবন্ত, কর্মোচ্ছল দিন পেতে সকালে কি করণীয় জেনে নাও।
নির্ধারিত সময়ে জাগা
সকালের নরম রোদের ঘুম হয়তো অনেকের প্রিয়। তবে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সকালে বেশিক্ষণ ঘুমিয়ে থাকা ক্ষতিকর। আবার দেরি করে ওঠার অভ্যাস থাকলে সারা দিনের কাজের জন্যও সময় কম পাওয়া যায়। তাই ভোর হওয়ার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জাগার চেষ্টা করো। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এবং সকালে ওঠার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে পারো। কিছুদিন নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার অভ্যাস করলে শরীর ও মস্তিষ্ক এই সময়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এতে করে ওই সময়ের ভেতর জাগতে পরে বেগ পেতে হবে না।
নিজের বিছানা গোছানো
প্রতিদিন সকালে নিজের বিছানা গোছানোর অভ্যাস হয়তো নিতান্তই ছোটখাটো একটি কাজ মনে হতে পারে। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রখ্যাত অ্যাডমিরাল উইলিয়াম এইচ ম্যাকরেভেন জোর দিয়েছিলেন বিছানা গোছানোর ওপর। ম্যাকরেভেনের ভাষায়, ‘আপনি যদি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা নিজে গুছিয়ে ফেলেন তবে আপনি দিনের প্রথম কাজটি সম্পন্ন করে ফেললেন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে এবং দিনের অন্য কাজগুলোও সম্পন্ন করার শক্তি পাবেন। আবার বিছানা গোছানোর মতো ছোটখাটো কাজগুলোই যদি আপনি গুছিয়ে করতে না পারেন তবে দিনের বড় কাজগুলোও সঠিকভাবে করতে পারবেন না।
শরীর হাইড্রেটেড করা
রাতে ঘুমিয়ে থাকার কারণে পানি পান করার সুযোগ হয় না। এদিকে ঘুমের ভেতরেও শ্বাস-প্রশ্বাস ও ঘাম ঝরার সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। আবার রাতে কম ঘুমালে আমাদের শরীরে থাকা ভেসোপ্রেসিন নামক হরমোন ঠিকভাবে নিঃসরণ হতে পারে না। তখন শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই এক গ্লাস পানি পান করতে পারো। এতে শরীর পুনরায় ডিহাইড্রেটেড হয়ে উঠবে এবং সারা দিন সতেজ অনুভব হবে।
শরীরচর্চা
রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর কারণে আমাদের শরীর সহজে স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে না। অন্যদিকে সারা দিনের চলাফেরা, কাজের জন্য শরীরের নতুন করে শক্তি প্রয়োজন। সকালে শরীরচর্চা হতে পারে সারা দিনের জন্য শক্তি বাড়িয়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়। সকালে নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে তুলে ও মাংসপেশি সবল করে। আবার সকালের সতেজ বাতাসে মনও ফুরফুরে হয়ে ওঠে। বিভিন্ন গবেষণা জানায়, ভোরবেলা নিয়মিত শরীরচর্চা করলে উদ্বেগ ও হতাশা অনেকাংশেই কমে যায়। ঘুম ভাঙার পর পরিচ্ছন্ন হয়ে মুক্ত বাতাসে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট জগিং, ইয়োগা কিংবা হাঁটার অভ্যাস করতে পার।
পুষ্টিকর প্রাতঃকালীন নাশতা
রাতের খাবার খাওয়ার পর সকাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সময় আমাদের পাকস্থলী খালি অবস্থায় থাকে। আবার সকালবেলা পাকস্থলীর খাবার হজম ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সারা দিন কাজের শক্তি জোগাতে সকালেই করে নিতে পার দিনের সবচেয়ে ভারী নাশতা। সকালের খাবারে শর্করা জাতীয় খাবারসহ রাখতে পারো ডিম, দুধ, ফল, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বি জাতীয় খাবার।
নিয়মিত পড়ার অভ্যাস
সকালের প্রাত্যহিক রুটিনে নির্দিষ্ট একটি সময় রাখো পড়াশোনার জন্য। স্কুলে যাওয়ার আগে প্রতিদিনের খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে নিতে পারো। এতে করে চারপাশে কী ঘটছে সেই সম্পর্কে সচেতন ও অবগত থাকা যাবে। কেউ আবার কবিতা পড়তে, গান গাইতে ভালোবাসে। যারা গান গায় তাদের জন্য সকালে রেয়াজ করা ভালো। আবার সকালে উঠে কবিতা পড়লে, সাবলীল বাচনভঙ্গির অনুশীলন করলে ভালো আবৃত্তিকার হওয়া যায়। তা ছাড়া ভালো ও নতুন কিছু পড়ার মধ্য দিয়ে দিনের শুরু করলে চিন্তা-ভাবনার বিকাশ হয় ও পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়ে।
সারা দিনের পরিকল্পনা
পরিকল্পনা মাফিক কাজ করলে কম সময়েও বেশি কাজ সম্পন্ন করা যায়। আবার গুছিয়ে কাজ করার জন্যও নির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন। সারা দিন কী কী কাজ করা প্রয়োজন সেগুলো মনে করে দিনের শুরুতেই একটি পরিকল্পনা করে নাও। কোন কাজের জন্য কেমন সময় লাগবে, কাজের ফাঁকে কখন অবসর নেবে এসব কিছুর একটি তালিকা তৈরি করে নিতে পারো। প্রতিদিন কাজের ব্যস্ততা একই রকম থাকে না। ছুটির দিনগুলোতে নতুন কিছু শেখার কিংবা সৃজনশীল কাজের জন্য সময় রাখতে পারো।