ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিরিশ সুবাস আমেরিকার জর্জিয়ার বাসিন্দা। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় শিরিশ আবিষ্কার করে ফলের কীটনাশক যাচাইয়ের জন্য এআইনির্ভর টেস্ট কিট পেস্টস্ক্যান্ড। গত বছর আমেরিকা টপ ইয়াং সায়েন্টিস্ট চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় তার এই আবিষ্কার সাড়া ফেলে দেয় ক্ষূদে বিজ্ঞানী মহলে।
ছোটবেলায় ফলমূল খাওয়ার আগে আর সব মায়ের মতো শিরিশ সুবাসের মা ও ফলমূল ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিতেন। শিরিশের মনে তখন থেকেই মনে প্রশ্ন জাগে মা কেন তাকে সব সময় ফলগুলো ধুয়ে খেতে বলেন। কৌতূহলী কিশোর শিরিশ ভাবত এভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই কি ফলের জীবাণু, কীটনাশক দূর করা সম্ভব? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানতে পারে, ৭০ ভাগ খাবার ধোয়ার পরও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়। যা থেকে ক্যানসার এবং আলঝেইমারের মতো রোগ হতে পারে। শিরিশ ভাবে যদিও সে এগুলো শনাক্ত করতে পারে তাহলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
এই ভাবনা থেকেই সে উদ্ভাবন করে পেস্টিস্ক্যান্ড নামের এক বিশেষ টেস্ট কিট। এআইনির্ভর এই যন্ত্রটি খাবার স্ক্যান করতে সক্ষম। এটি স্পেকট্রোফটোমেট্রি ব্যবহার করার মাধ্যমে ফল এবং সবজির পৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত আলো পরিমাপ করে। আলোর এই তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায় অবশিষ্ট থাকা কীটনাশক। খাবার স্ক্যান করার পর, পেস্টিস্ক্যান্ড এআই মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে আলোক তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে কীটনাশকের উপস্থিতি নির্ধারণ করে। এতে ব্যবহার করা সেন্সর ও প্রসেসর দিয়ে স্ক্যানারটি ৮৫ শতাংশ নির্ভুলভাবে কাজ করে। যদিও বর্তমানে এটি একটি প্রোটোটাইপ আকারে বানিয়েছে সে। শিরিশ তার পরীক্ষায় আপেল, পালংশাক, স্ট্রবেরি এবং টমেটোর ১২ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করেছে।
শিরিশ এই যন্ত্রটি বানিয়ে গত বছর থ্রি এম ইয়াং সায়েন্টিস্ট চ্যালেঞ্জে ২৫ হাজার ডলার পুরস্কার জিতে নেয়। সেই সঙ্গে আমেরিকার অন্যতম কিশোর বিজ্ঞানীর খেতাব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় চার মাস ধরে তার প্রকল্পটি নিয়ে লড়েছিল শিরিশ। তারপর ফাইনালে মাত্র ২০ ডলার দিয়ে বানানো পেস্টিস্ক্যান্ডের জন্য বিজয়ী হয় সে।ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পেস্টিক্যান্ড বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে শিরিশের। শিরিশের পছন্দের বিষয় পদার্থবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিদ্যা। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিষয়ে পৃথিবীর অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় মেসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার স্বপ্ন দেখে সেই কিশোর।