বান্দরবান জেলার উজানিপাড়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নেই আধুনিক জীবনযাপনের যাবতীয় মৌলিক ব্যবস্থা। এমনই এক এলাকার ছোট একটি কক্ষ থেকে ভেসে আসে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র গিটারের সুর। নানান বয়সী মারমা কিশোর-কিশোরী সমবেত হয়ে সুর তোলে গিটারের তালে।সুস্থ বিনোদনের মধ্যদিয়ে কিশোর-কিশোরীদের মাদক ও স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখতে ‘বেসিক লার্নিং গিটারিস্ট স্কুল’ নামে এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন বমরাম আমলাই নামের এক তরুণ গায়ক।
বমরাম আমলাই নিজেও একজন মারমা শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য এবং চিম্বুক ব্যান্ড দলের বেজ গিটারিস্ট। ২০১৮ সালে তিনি প্রথম উদ্যোগ নেন স্থানীয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি গিটার শেখার প্রতিষ্ঠান শুরু করার। সে সময় তার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচজন। কয়েক বছরের ভেতর প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয় প্রায় অর্ধশত মারমা শিক্ষার্থী। মারমা ভাষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, চাকমা, ত্রিপুরা বিভিন্ন ভাষায় গিটারে গান তুলছেন এই কিশোর-কিশোরীরা। অনেকে আবার যোগ দিচ্ছেন সংগীতের স্থানীয় ব্যান্ডগুলোতে।
বমরাম তার এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে স্মার্টফোন, গেমিং, সোশ্যাল মিডিয়া, ভার্চুয়াল জগতেই আসক্ত শিশু-কিশোররা। স্ক্রিন টাইমের প্রতি অতিরিক্ত এই আসক্তি কেড়ে নিচ্ছে তাদের সোনালি কৈশোর, মানসিক বিকাশ আর ভাবনার জগৎ। সুরের মধ্যদিয়ে সৃজনশীলতা আর বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে শুরু করেন এই উদ্যোগ। পাশাপাশি মারমা, বাংলা বিভিন্ন ভাষায় গান শেখার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে সচেতন হয়ে উঠতে পারবে নতুন প্রজন্ম।
সাংস্কৃতিক এই কেন্দ্রে গিটার শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভেতরও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। ক্রমেই ভার্চুয়াল জগৎ ছেড়ে সুর আর সংস্কৃতির জগতে বুঁদ হচ্ছে এই কিশোর-কিশোরীরা। উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের অনেকের ছোটবেলা থেকেই গিটার শেখার ইচ্ছা ছিল। তবে বান্দরবানের মতো দুর্গম এলাকায় এমন সুন্দর পরিসরে সেই সুযোগ পেয়ে যাবে আগে স্বপ্নেও ভাবেনি। ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক এই প্রতিভা কাজে লাগিয়ে তারা সৃজনশীলতার ছাপ রাখবে প্রতিটি কাজে।