ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

দৃষ্টিনন্দন ১০ পর্যটন স্থান

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩২ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৩ এএম
দৃষ্টিনন্দন ১০ পর্যটন স্থান
পাখির চোখে স্পেনের বার্সেলোনা

পৃথিবীতে ঘোরার মতো হাজারও পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু আছে উল্লেখযোগ্য। জনপ্রিয়তা, পর্যটক সমাগম, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, দৃষ্টি নান্দনিকতা, সুযোগ-সুবিধাসহ নানা বৈশিষ্ট্যের কারণে এসব পর্যটন কেন্দ্র একেকটা একেক রকম। ২০২৩ সালে বিখ্যাত সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে সেরা ৫০টি পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি এবং জনপ্রিয় আরও চারটিসহ মোট দশটি পর্যটন কেন্দ্রের খবর।

১. ডমিনিকা

বলা হয় ক্যারিবিয়ান সৌন্দর্য সংরক্ষিত আছে ডমিনিকায়। পাহাড়ি সবুজ বলতে যা বোঝায়, সেটাই হচ্ছে উত্তর আমেরিকার ছোট্ট একটা দ্বীপদেশ ডমিনিকা। অভিযানপ্রিয় পর্যটকদের স্বর্গ ডমিনিকায় রয়েছে রেইন ফরেস্ট, জলপ্রপাত, উষ্ণ ঝরনা এবং আগ্নেয়গিরি। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ হাইকিং ট্রেইলও রয়েছে এখানে। ১১৫ মাইল বা ১৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ট্রেইলের নাম ওয়েটুকুবুলি ন্যাশনাল ট্রেইল। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একমাত্র সি-কায়াকিং ট্রেইলও রয়েছে এখানে। এসবের বাইরে পর্যটকদের আবাসনের দারুণ সব ব্যবস্থা তো আছেই। আর সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ডমিনিকা।

২. বার্সেলোনা, স্পেন

বিশ্বের ঐতিহাসিক শহরগুলোর একটি বার্সেলোনা। এই শহরে রয়েছে ১৭৬ বছর ধরে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত লিসিউ অপেরা। স্পেনের উত্তর-পূর্ব উপকূলের এই শহর স্পেনের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে রয়েছে আন্তোনি গাউদির নকশা করা বিস্ময়কর স্থাপত্য এবং অসম্পূর্ণ সাগ্রাদা ফ্যামিলিয়া। আছে সম্প্রতি সম্পন্ন করা ধর্মপ্রচারক লুক এবং মার্কের টাওয়ার, যা ভার্জিন মেরির টাওয়ারের সঙ্গে এসে মিশেছে। প্যাশন টাওয়ার বা অ্যাপসল টাওয়ারে উঠে শহরের দৃষ্টিনন্দন ভবনগুলো দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে পর্যটকদের জন্য। আর এ সবকিছু মিলে বার্সেলোনা হয়ে উঠেছে পর্যটকদের পছন্দের একটি স্থান।

৩. তরেস দেল পাইন জাতীয় উদ্যান, চিলি

চিলির দক্ষিণের পাতাগোনিয়া অঞ্চলের এমন একটি স্থান এটি, যেখানে পর্বতমালা, হিমবাহ, হ্রদ ও নদীর দেখা মিলবে। বছরে পঁচিশ লাখেরও বেশি পর্যটকের আনাগোনা হয়, যার মধ্যে শতকরা ৫৪ ভাগই বিদেশি। নানা ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ জায়গা পর্যটকদের ভীষণ পছন্দের।

৪. লাদাখ, ভারত

ভারতের উত্তরে কুনলুন পর্বতশ্রেণি এবং দক্ষিণে হিমালয় বেষ্টিত অঞ্চল লাদাখ। এই লাদাখেই রয়েছে ভারত ঘোষিত দেশটির প্রথম ডার্ক স্কাই রিজার্ভ অঞ্চল। স্থানটি লাদাখের রাজধানী লেহ থেকে ১৬৮ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে, হানলি গ্রামে। বছরের প্রায় ২৭০ দিনই এ গ্রামের রাতের আকাশ থাকে পরিষ্কার। আর সে কারণে জায়গাটি জ্যোতিপর্যটনের আদর্শ একটি কেন্দ্র। প্রাকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি লাদাখে কৃত্রিম বেশকিছু পর্যটন স্থান আছে। আর আছে বিখ্যাত সব মোগলাই খাবারের ব্যবস্থা। 

৫. চার্চিল, ম্যানিটোবা, কানাডা

মেরুপ্রভা বা অরোরা দেখার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। মেরুপ্রভা দেখার সবচেয়ে চমৎকার একটি স্থান হচ্ছে কানাডার ম্যানিটোবা রাজ্যের চার্চিল নামক জায়গা। এখানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বছরের ৩০০ দিনই রাতের আকাশে আলোর নৃত্য দেখা যায়। দৃষ্টিনন্দন আলোর নৃত্য দেখার জন্য অনেক পর্যটকের আনাগোনা ঘটে এখানে। এ ছাড়া হাজার হাজার বেলুগা তিমি গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলের সাগরে প্রবেশ করে। ট্যুর অপারেটর কোম্পানিগুলো ‘সাগর ক্যানারি’ হিসেবে বিখ্যাত বেলুগার শব্দের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করায়।

৬. প্যারিস, ফ্রান্স

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান ফ্রান্সের প্যারিস। প্রধান আকর্ষণ আইফেল টাওয়ার ছাড়াও দৃষ্টিনন্দন ভবন, ঐতিহাসিক ও আধুনিক আর্ট গ্যালারি ও জাদুঘরের কারণে বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ পর্যটকের কাছেই এ শহরের আকর্ষণ রয়েছে। খাবার-দাবার থেকে শুরু করে যানবাহনের সুবিধা আর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সৌন্দর্য ও আধুনিকতার সমন্বয় প্যারিসের বৈশিষ্ট্য। 
 
৭. বালি, ইন্দোনেশিয়া

বিশ্বের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার বালি অন্যতম। জাভা ও লম্বুকের মাঝে বালি দ্বীপের অবস্থান। সাদা বালির সৈকত, পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, পুরোনো মন্দিরসহ রয়েছে অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থান। বালির সূর্যাস্তের দৃশ্য, নীল জলের সৌন্দর্য, জঙ্গলের পাখির গানের সঙ্গে সংগীত, নৃত্য, শিল্প, ধর্ম এবং চিত্রকলায় বালিনিজ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। উষ্ণ আতিথেয়তার কারণেও পর্যটকদের মধ্যে বালি খুব জনপ্রিয়। 

৮. মালদ্বীপ

স্ফটিক স্বচ্ছ নীল পানি, দোলনা পামগাছ এবং চকচকে সাদা বালির জন্য বিখ্যাত মালদ্বীপ। সারা বছর এখানকার আবহাওয়া বেশ মনোরম। অ্যাডভেঞ্চার, হানিমুন বা অবসর ছুটি কাটানো পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপ তুমুল জনপ্রিয়। মালদ্বীপে ৬০টিরও বেশি ডাইভ সাইট রয়েছে, যেগুলো বিশ্বের সেরা ডাইভিং গন্তব্যগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে। 

. সান্তোরিনি, গ্রিস

প্রায় ৬ হাজার দ্বীপের দেশ গ্রিস। এসব দ্বীপের মধ্যে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় সান্তোরিনি। এ দ্বীপকে বিশ্বের অন্যতম গ্রীষ্মকালীন গন্তব্য হিসেবে ধরা হয়। এজিয়ান সাগরের সাইক্লেড দ্বীপগুলোর একটি এই সান্তোরিনির রয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর সৌন্দর্য। আছে দর্শনীয় সূর্যাস্ত, ঐতিহ্যবাহী সাদা বাড়ি, পুরোনো দুর্গ, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং মাছ ধরার বন্দর। এ ছাড়া আমাউদি উপসাগরের সূর্যাস্ত, প্রাগৈতিহাসিক থেরা মিউজিয়াম, ফোকলোর মিউজিয়ামের সঙ্গে আরও আছে ৩ হাজার ৬০০ বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের লাভার নিচে চাপা পড়া প্রাচীন মিনোয়ান বসতি- অ্যাক্রোটেরিয়ার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

১০. লোহিত সাগর, সৌদি আরব

২০৩০ সালের মধ্যে বছরে দশ কোটি পর্যটককে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে সৌদি আরব। এ জন্য প্রাচীন ঐতিহ্যের স্থানের সঙ্গে নতুন করে তৈরি করা কিছু গিগা-প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটি। লোহিত সাগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডার্ক স্কাই রিজার্ভ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১২৫ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখায় ম্যানগ্রোভ কায়াকিং, লোহিত সাগরের ৯০টি দ্বীপে নৌকাভ্রমণ এবং ৩০০ বছরের পুরোনো কাঠের জাহাজে করে নতুন নতুন সাগর এলাকায় ডুবসাঁতার ও ডাইভিংসহ নানা জলনির্ভর কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। আবার পায়ে হাঁটা পর্যটকদের জন্য গ্রানাইট পাহাড়ে হাইকিং, আগ্নেয় লাভা পাড়ি দিয়ে পাহাড়ি বাইকিং এবং পরিযায়ী পাখি ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পর্যটকদের আবাসনের জন্য পানির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বিলাসবহুল হোটেল। আর সে কারণে নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বিশ্বের সেরা ৫০টি পর্যটন কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে সৌদি আরবের লোহিত সাগর।

টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সুনামগঞ্জের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০৪:৫৪ পিএম
টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সুনামগঞ্জের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলল
টাঙ্গুয়ার হাওর। ছবি : খবরের কাগজ

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। 

রবিবার (২৩ জুন) দুপুরে এ ঘোষণা দেয় তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা পারভীন জানান, সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং যাদুকাটাসহ নদনদীতে প্রবল স্রোত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে কোনো পর্যটক এসে যাতে খারাপ পরিস্থিতি বা বিপদে না পড়েন এসব বিষয় মাথায় রেখে ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সব পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় যেহেতু বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে তাই আজ থেকে আবারও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সব পর্যটন স্পট খুলে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলার দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা ও আনোয়ারপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাহিরপুরের সঙ্গে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) বন্যা পরিস্থিতিতে কোনো পর্যটন যাতে খারাপ পরিস্থিতিতে না পড়েন এবং বন্যা পরিস্থিতিতে এসে তাহিরপুরের আটকা না পড়েন তাই তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সব পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী/সালমান/

পর্যটন সূচকে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:১৭ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:১৭ পিএম
পর্যটন সূচকে বাংলাদেশ

গত মাসে অর্থাৎ ২০২৪ সালের মে মাসে ‘ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচক ২০২৪’ প্রকাশ করেছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে থাকে। চলতি বছর ১১৯টি দেশের মধ্যে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে ভারত ৩৯। এরপর শ্রীলংকা ৭৬, পাকিস্তান ১০১, নেপাল ১০৫। এই সূচকে বাংলাদেশের পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে জিম্বাবুয়ে, হন্ডুরাস, নাইজেরিয়া, বেনিন, আইভোরিকোস্ট, মালাউয়ি, অ্যাঙ্গোলা, ক্যামেরুন, সিয়েরা লিওন ও মালি।

সূচক তৈরিতে পাঁচটি বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছে- সহায়ক পরিবেশ, ভ্রমণ ও পর্যটনবিষয়ক নীতি, অবকাঠামো ও সেবা, পর্যটন ও ভ্রমণের সম্পদ এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব। এই সূচক তৈরিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামকে সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়। সূচক তৈরিতে নিজেদের সংগ্রহ করা তথ্য ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সূচকের প্রথম পাঁচটি দেশ হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, জাপান, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার প্রথমে জাপান- সূচক ৩। এরপর চীন- সূচক ৮, সিঙ্গাপুর- সূচক ১৩, দক্ষিণ কোরিয়া- সূচক ১৪, ইন্দোনেশিয়া- সূচক ২২, মালয়েশিয়া- সূচক ৩৫।

তার অর্থ এশিয়ার দেশগুলো পর্যটনে অনেক পিছিয়ে রয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার তুলনায়। কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, এশিয়ার সর্বশেষ সূচকে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের পরে এশিয়ার আর কোনো দেশ নেই। কিন্তু কেন বাংলাদেশ পর্যটন সূচকে এতটা পিছিয়ে? কেন সম্ভাবনা থাকার পরও বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিকাশ হচ্ছে না। বাংলাদেশের পর্যটনে মূল সমস্যা কোথায়?

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটক এসেছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার। ২০২২ সালে এসেছিল ৫ লাখ ২৫ হাজার ৬৫৬ জন। ২০২১ সালে ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৬, ২০২০ সালে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫১৮, ২০১৯ সালে ৬ লাখ ২১ হাজার ১৩১ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ জন।

বিদেশি পর্যটক যে হারে বাড়ছে, তাতে একটা সংশয় রয়ে যায়। সংশয়টা কী? ২০৪১ সাল নাগাদ দেশে ৫৫ লাখ বিদেশি পর্যটক আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ড। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদেশি পর্যটক বাড়ার হার মোটেও সন্তোষজনক নয়। 
পর্যটনের সঙ্গে কিছু বিষয় ওতোপ্রোতভাবে জড়িত- পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার সড়ক, যানবাহন, নিরাপত্তা, বিশ্রাম, বিনোদন, টয়লেট, খাবারের মান ও মূল্য, থাকার জায়গা ইত্যাদি।

যদিও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আপাতত দেশের পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। এরপর আরও কিছু স্পটকে উন্নত করা হবে।

দেশের ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে ভারত থেকে। এরপর এশিয়ার মধ্যে চীন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জাপানের পর্যটকরা আসেন বাংলাদেশে। এশিয়ার বাইরে থেকে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, তুরস্ক এবং রাশিয়া থেকে পর্যটক বেশি আসেন।

অন্যদিকে ২০২১ সালে ৩ হাজার ৯২৩ বাংলাদেশি গিয়েছিলেন মালদ্বীপ ভ্রমণে। আর ২০২২ সালে মালদ্বীপ বেড়াতে যান ১৬ হাজার ৮০৭ জন বাংলাদেশি। ২০২৩ সালে ২৮ হাজার ৩৩৬ বাংলাদেশি। মালদ্বীপের ১৫তম পর্যটক উৎস এখন বাংলাদেশ। যদিও বছরে কতজন বাংলাদেশি বিদেশে ঘুরতে যান, সেটার চূড়ান্ত হিসাব নেই। তবে স্থলবন্দর দিয়ে বছরে ২০ লাখ বাংলাদেশি যাচ্ছেন ভারতে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পর্যটন খাতে সবচেয়ে বেশি জিডিপি আসে মালদ্বীপের- দেশটির জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার সাড়ে ১২ শতাংশ, নেপালের ৬ শতাংশ, ভুটানের সাড়ে ৫ শতাংশ এবং ভারতের সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তবে দেশের পর্যটনের বড় আয় আসে দেশের ভেতরে থাকা পর্যটক থেকে- বিদেশি পর্যটক থেকে নয়।

অথচ কোনো বিদেশি পর্যটক যদি ১ হাজার ডলার নিয়ে বাংলাদেশে আসেন, তিনি ৮০০ ডলারই খরচ করেন আবাসন, খাবার ও ভ্রমণের কাজে। বাকি ২০০ ডলার শপিংয়ে খরচ করেন। এই শপিংয়ে তিনি বাংলাদেশি পণ্যই কেনেন। ফলে ১ হাজার ডলারের প্রায় সবটাই রয়ে যায় দেশে।

মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের অর্থনীতি অনেকটাই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। ‘দেউলিয়া’ হয়ে পড়া শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত পর্যটনের ওপর ভর দিয়ে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অথচ কী নেই বাংলাদেশে? পাহাড়, সমুদ্রসহ পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো সবই আছে। নেই প্রচার, নেই পরিকল্পনা, নেই বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুযোগসুবিধা, নেই পর্যাপ্ত বিনোদনের ব্যবস্থা এবং নেই পর্যটনবান্ধব নীতি। এত নেইয়ের মধ্যে থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বছরে ৫৫ লাখ বিদেশি পর্যটক কি আমরা আনতে পারব?

জাহ্নবী

তোমার নাকি ইটালিতে ঘোরার আছে প্ল্যান: রোমেন রায়হান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৪, ১২:১৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৪, ১২:১৫ পিএম
তোমার নাকি ইটালিতে ঘোরার আছে প্ল্যান: রোমেন রায়হান

তোমার নাকি ইটালিতে ঘোরার আছে প্ল্যান!
কী বললে! নাই একদম ইটালিয়ান জ্ঞান!

ইটালিয়ান ভাষা শেখার পাচ্ছ না ইশকুল!
সত্যি বলি, ভাষা নিয়ে টেনশনটাই ভুল। 

ইটালিয়ান ভাষা লাগে বলেছে কোন লোক! 
যাও তো সুখে ঘুরে বেড়াও, জুড়াও নিজের চোখ! 

কোথায় যাবে? ফ্লোরেন্স, ভেনিস, মিলান, নাকি রোম!
বুঝবে গেলেই, ইটালি তো নিজের বাড়ি, হোম!

খুঁজছ কিছু? কিনবে কিছু? কোথায়? পথের ধার!
বাংলাভাষায় কথা বলে সব ঝামেলা পার।

খাবার হোটেল, ছোটো বড় মনোহারী শপ
ঢুকে গিয়ে বাংলাভাষায় করতে পারো গপ! 

মনে হবে বাংলা ছাড়া কোনো ভাষাই নাই। 
ইটালিতে পা বাড়ালে শুধুই দেশি ভাই।

এরপরে আর ভাষা নিয়ে করো না ঘ্যানঘ্যান 
যাও তো বাপু ঘুরে এসো, টেনশন নাও ক্যান!

জাহ্নবী

সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:৫৬ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৪, ০৭:৫২ এএম
সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে টানা বৃষ্টি ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে ২০ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় জেলার দুই উপজেলার সবকটি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে দুই উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় সবকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, মায়াবী ঝর্ণা, বিছানাকান্দি, রাতারগুল জলাবন, পান্থুমাই এবং কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর, উৎমা ছড়াসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আপাতত যেতে পারবেন না পর্যটকরা।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘সিলেটের গোয়াইনঘাটে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, জনস্বার্থে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনজিৎ কুমার সিংহ বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় জননিরাপত্তার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পর্যটন কমিটির সভায় উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে।’

শাকিলা ববি/অমিয়/

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:২৬ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:২৬ পিএম
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ
ছবি: খবরের কাগজ

সুনামগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলার দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা ও আনোয়ারপুর সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় তাহিরপুরের সঙ্গে সুনামগঞ্জের সড়ক পথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুরের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন।

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভীন জানান, সুনামগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। যদিও এখনও তাহিরপুরের বন্যা পরিস্থিতি ততটা খারাপ হয়নি। তারপরও যেকোনো সময় পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। আবার বৃষ্টিপাতের সঙ্গে প্রচুর বজ্রপাত হয়।

তিনি জানান, পাহাড়ি ঢলে যাদুকাটাসহ নদ-নদীতে প্রবল স্রোত থাকে। এই খারাপ পরিস্থিতিতে এসে পর্যটকেরা বিপদে না পড়েন এবং পর্যটক যাতে বন্যা পরিস্থিতিতে এসে তাহিরপুরের আটকা না পড়েন তাই পর্যটকের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে সুনামগঞ্জের সব উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, আগামী ২৪ ঘন্টায় বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এখন পর্যন্ত ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী/অমিয়/