জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনার অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা নির্বাচন কমিশনের অব্যব্যস্থাপনা নিয়ে সরব হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ম্যানুয়ালি (হাতে) গণনা হওয়ায় ফল প্রকাশে শুক্রবার দুপুর হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কমিশন ঘোষিত সময়ে ফল প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বিকেলে শুক্রবার রাত ১১টার মধ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে ফল ঘোষণার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সকালে ভোট গণনায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। গণনায় অস্বাভাবিক বিলম্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। বিশেষ করে ভোট গণনার পদ্ধতি নিয়ে সবাই সমালোচনা করছেন। টানা পরিশ্রমের ফলে ভোট গণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
ফলাফল প্রকাশে নির্দিষ্ট সময় দাবি
ফলাফল প্রকাশে নির্দিষ্ট সময় দাবি করে সিনেট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেল, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, বাগছাস সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পরে তারা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে সময় নির্ধারণের দাবি জানান। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ জানান, প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সময় জানাবে।
শিবির-সমর্থিত প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট সময় চাই- সেটা মেশিনে বা হাতে গণনা যেভাবেই হোক না কেন। তবে আজ (শুক্রবার) রাতের মধ্যেই শেষ করতে হবে।’ একই দাবি তোলেন শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘হল সংসদের ভোট হাতে গোনা হয়েছে। এখন যদি কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট মেশিনে গোনা হয় তাহলে দুভাবে ফলাফল তৈরি হবে। তাই এটাও হাতে গোনা উচিত।’ তিনি আজ ( শুক্রবার) রাতের মধ্যেই ফল প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত টেবিল ও জনবল বাড়ানোর দাবি জানান।
তিন দিনেও ভোট গণনা শেষ হবে না: রিটার্নিং অফিসার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও জাকসু নির্বাচনের পোলিং অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক সুলতানা আক্তার।
গতকাল বিকেল ৫টায় জাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অ্যানালগ পদ্ধতিতে ভোট গণনা করলে তিন দিনেও ভোট গণনা শেষ হবে না। প্রথমে নির্বাচন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল, ভোটগুলো ওএমআর মেশিনে গণনা করা হবে। পরে প্রক্রিয়াটি বদলে হাতে গণনা শুরু হয়। হাতে গণনাই যদি করতে হতো, তবে হল পর্যায়ে কেন করা হলো না?
ওই শিক্ষক বলেন, ‘তার সহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস ভোট গণনার চাপেই মারা গেছেন। যদি মেশিনে ভোট গণনা হতো, হয়তো আমরা আমাদের সহকর্মীকে হারাতাম না। তিন দিন ধরে আমরা অমানুষিক পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমাদের কি পরিবার নেই? শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি নেই?’
তিনি আরও বলেন, ‘চারুকলা বিভাগের শিক্ষিকার মৃত্যুতে তার অন্য সহকর্মীরা ভেঙে পড়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক রিটার্নিং ও পোলিং অফিসারও রয়েছেন। তারা এখন কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন? আমরা শিক্ষক, এসব আর মেনে নিতে পারছি না।’ জান্নাতুলের মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে তিনি তার পরিবারের জন্য বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
ভোট গণনায় সহযোগিতা করবে প্রশাসন: উপাচার্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা যেকোনো উপায়ে চালু রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ভোট গণনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
গণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘অমানবিক পরিশ্রম করে আপনাদের কাজটি করতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের যেকোনো প্রয়োজন আমি পূরণ করব। আপনাদের কষ্টের কথা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেশিনে গণনা স্থগিত করা হয়েছে। জুলাইয়ের অঙ্গীকার হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডাকসু হয়েছে, জাকসু হচ্ছে। এর মাধ্যমে চব্বিশের যে গণ-আকাঙ্ক্ষা ছিল সেটা পরিপূর্ণ হবে। আমি বিশ্বাস করি, সেই চেতনার জায়গা থেকে আপনারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাকসুর সভাপতি হিসেবে আমি এখানে আশপাশেই অবস্থান করছি। আমি শারীরিকভাবে আপনাদের কোনো কাজ করে দিতে পারছি না। কিন্তু আমি হৃদয় দিয়ে আপনাদের পাশে আছি। জুলাইয়ের যে রক্ত সেটি এখনো শুকায়নি, তারা রক্ত দিয়েছে বাংলাদেশটাকে নতুন করে গড়তে ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা আগে যেমন পেয়েছি, সেটা অব্যাহত থাকবে এই আশা রাখছি।’
নির্বাচন বানচালের অভিযোগ শিবিরের
জাকসু নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা অনলাইন বৈঠক করে নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তুলেছে শাখা ছাত্রশিবির। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে শিবির নেতা-কর্মীরা কমিশনার অধ্যাপক লুৎফুল এলাহীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে এসব অভিযোগ করেন তারা। তাদের অভিযোগ, নানা অজুহাতে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
শিবিরের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন, সেখানে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচন বর্জন করেছেন। এমনকি বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা অনলাইনে লন্ডনে মিটিং করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত কি লন্ডন থেকে আসবে- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘বাহির থেকে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা নেবে।’
গভীর রাতে জাবি ফটকে শিবিরের উপস্থিতি
ভোট গণনা চলাকালীন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন গেটে অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থকরা। এ সময় প্রধান ফটকে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৯ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইনকে। একই সঙ্গে গতকাল সারা দিন ও রাতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটকে দেখা গেছে শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে মাওলানা আফজাল হোসাইন প্রায় ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী প্রবেশের পর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়। এখন খোঁজখবর নিতে এসেছি।’ পরে তিনি স্থান ত্যাগ করলেও তার নেতা-কর্মীরা অবস্থান করেন। ডেইরি, প্রান্তিক ও বিশমাইল গেটে শত শত শিবির-সমর্থক রাতভর অবস্থান নেন। তাদের অনেকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর জাবিতেও শিবির জয়ী হলে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে।’
এ নিয়ে শাখা বাগছাস-সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের জিএস পদপ্রার্থী তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সারা রাত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জামায়াত-শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে তারা বহিরাগত ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে পারে। এটাই সেই দল, যারা নব্বইয়ের দশকে বহিরাগত এনে অস্ত্রের মুখে সালাম-বরকত হল দখল করেছিল। পরে জাবির ছাত্রীদের ঝাড়ু মিছিলের মুখে তাদের পিছু হটতে হয়েছিল। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে সেই দিনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি জাবি ক্যাম্পাসে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
অধ্যাপক মাফরুহী বলেন, ‘নির্বাচনে আমি অনেকগুলো অনিয়ম ও মারাত্মক ত্রুটি দেখেছি, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নির্বাচন কমিশন আমার মতামতের সুরাহা না করেই ভোট গণনা শুরু করেছে। সময় কম থাকায় আমার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। ফলে পদত্যাগ করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উপায় ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে আমরা যা বুঝি, নির্বাচনে তা ছিল না। যাতে আমি পদত্যাগ না করি, সে জন্য গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই আমার ওপর চাপ ছিল, তবু পদত্যাগ করছি।’
মাফরুহীর পদত্যাগে যা বলল শিবির
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করার প্রতিক্রিয়ায় শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের এজিএস প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান বলেছেন, ‘যুদ্ধের ময়দানে এসে তিনি লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। তার এই পদত্যাগ আমাদের কাছে মনে হয়, নির্বাচনকে ঘিরে তার যে হীন ষড়যন্ত্র ছিল, সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেছেন।’ গতকাল রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এটি খুবই প্রহসনমূলক আচরণ। তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা। তিনি কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার কমিটিতে থাকেন। তিনি যে অভিযোগগুলো করে পদত্যাগ করেছেন, সেগুলো ভিত্তিহীন।’
বিলম্বের প্রতিবাদে ঢাকায় শিবিরের বিক্ষোভ
জাকসু নির্বাচনে অব্যবস্থাপনা ও ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার উদ্যোগে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম ডাকসুর মতো জাকসুতেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন টালবাহানা শুরু করেছে। ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছে। ইতোমধ্যে একজন বহিরাগত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’
শিবিরের এ নেতা অভিযোগ করেন, লন্ডনের প্রেসক্রিপশনে বিএনপিপন্থি কোনো কোনো শিক্ষক নির্বাচন-প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।