ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কে? ৮৮ বছরের খরা কাটিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র একদিনের ব্যবধানে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দাম মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলা, পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বলবেন রোনালদো! ছুটির দিনে ঢাকার বাতাস ‘সহনীয়’ এইচএসসিতে ঝরে পড়া বাড়ার দায় কার? লালমনিরহাটে ৪ দিন পর্যন্ত অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া-মিসর: দুই দলেরই ইতিহাস গড়ার হাতছানি নবিজি (সা.) যাদের অভিশাপ দিয়েছেন নির্ধারিত ৬০ পণ্যে বাজেটের সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা বিস্ফোরণে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত খামেনির জানাজায় যোগ দেবে ৯০ দেশের প্রতিনিধি রূপকথা নাকি রাজত্ব লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা, বাঁধে ধস গ্রাহকের ঘাড়ে ‘বাড়তি’ বিলের বোঝা সুচালো মাথা ব্যাঙের কথা বিদ্যুৎসংকটে দিশেহারা শেরপুরবাসী বাড়ি যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার ক্যানভাস ট্রুম্যান-বুশের পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আয়ে রেকর্ড ট্রাম্পের কানসাসে নকআউট যুদ্ধ: কলম্বিয়ার সামনে ঘানা ৩ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ভারতে এআই-সৃষ্ট ভুয়া নজিরে রায়, সুপ্রিমকোর্টে বাতিল দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ৩ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মেসিকে নিয়ে আবেগ-পেশাদারত্বে কেপ ভার্দে শেষ ষোলোতে স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল, ম্যাচ কবে-কখন?

জাকসু নির্বাচন হতাশ ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:১৯ এএম
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:২০ এএম
হতাশ ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী
জাকসু নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দাবিতে গতকাল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেন। ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনার অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা নির্বাচন কমিশনের অব্যব্যস্থাপনা নিয়ে সরব হয়েছেন।  

বৃহস্পতিবার রাতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ম্যানুয়ালি (হাতে) গণনা হওয়ায় ফল প্রকাশে শুক্রবার দুপুর হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কমিশন ঘোষিত সময়ে ফল প্রকাশ সম্ভব হয়নি। বিকেলে শুক্রবার রাত ১১টার মধ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে ফল ঘোষণার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সকালে ভোট গণনায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। গণনায় অস্বাভাবিক বিলম্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। বিশেষ করে ভোট গণনার পদ্ধতি নিয়ে সবাই সমালোচনা করছেন। টানা পরিশ্রমের ফলে ভোট গণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসুস্থ ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।


ফলাফল প্রকাশে নির্দিষ্ট সময় দাবি
ফলাফল প্রকাশে নির্দিষ্ট সময় দাবি করে সিনেট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিবির-সমর্থিত প্যানেল, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন, বাগছাস সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। পরে তারা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে সময় নির্ধারণের দাবি জানান। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ জানান, প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সময় জানাবে।

শিবির-সমর্থিত প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট সময় চাই- সেটা মেশিনে বা হাতে গণনা যেভাবেই হোক না কেন। তবে আজ (শুক্রবার) রাতের মধ্যেই শেষ করতে হবে।’ একই দাবি তোলেন শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল। 

স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘হল সংসদের ভোট হাতে গোনা হয়েছে। এখন যদি কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট মেশিনে গোনা হয় তাহলে দুভাবে ফলাফল তৈরি হবে। তাই এটাও হাতে গোনা উচিত।’ তিনি আজ ( শুক্রবার) রাতের মধ্যেই ফল প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত টেবিল ও জনবল বাড়ানোর দাবি জানান।

তিন দিনেও ভোট গণনা শেষ হবে না: রিটার্নিং অফিসার 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও জাকসু নির্বাচনের পোলিং অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক সুলতানা আক্তার।

গতকাল বিকেল ৫টায় জাকসু নির্বাচন কমিশন অফিসের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অ্যানালগ পদ্ধতিতে ভোট গণনা করলে তিন দিনেও ভোট গণনা শেষ হবে না। প্রথমে নির্বাচন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল, ভোটগুলো ওএমআর মেশিনে গণনা করা হবে। পরে প্রক্রিয়াটি বদলে হাতে গণনা শুরু হয়। হাতে গণনাই যদি করতে হতো, তবে হল পর্যায়ে কেন করা হলো না?

ওই শিক্ষক বলেন, ‘তার সহকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস ভোট গণনার চাপেই মারা গেছেন। যদি মেশিনে ভোট গণনা হতো, হয়তো আমরা আমাদের সহকর্মীকে হারাতাম না। তিন দিন ধরে আমরা অমানুষিক পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমাদের কি পরিবার নেই? শারীরিক-মানসিক ক্লান্তি নেই?’

তিনি আরও বলেন, ‘চারুকলা বিভাগের শিক্ষিকার মৃত্যুতে তার অন্য সহকর্মীরা ভেঙে পড়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক রিটার্নিং ও পোলিং অফিসারও রয়েছেন। তারা এখন কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন? আমরা শিক্ষক, এসব আর মেনে নিতে পারছি না।’ জান্নাতুলের মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়ী করে তিনি তার পরিবারের জন্য বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

ভোট গণনায় সহযোগিতা করবে প্রশাসন: উপাচার্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা যেকোনো উপায়ে চালু রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ভোট গণনা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।

গণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘অমানবিক পরিশ্রম করে আপনাদের কাজটি করতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের যেকোনো প্রয়োজন আমি পূরণ করব। আপনাদের কষ্টের কথা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

উপাচার্য বলেন, ‘একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেশিনে গণনা স্থগিত করা হয়েছে। জুলাইয়ের অঙ্গীকার হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ডাকসু হয়েছে, জাকসু হচ্ছে। এর মাধ্যমে চব্বিশের যে গণ-আকাঙ্ক্ষা ছিল সেটা পরিপূর্ণ হবে। আমি বিশ্বাস করি, সেই চেতনার জায়গা থেকে আপনারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাকসুর সভাপতি হিসেবে আমি এখানে আশপাশেই অবস্থান করছি। আমি শারীরিকভাবে আপনাদের কোনো কাজ করে দিতে পারছি না। কিন্তু আমি হৃদয় দিয়ে আপনাদের পাশে আছি। জুলাইয়ের যে রক্ত সেটি এখনো শুকায়নি, তারা রক্ত দিয়েছে বাংলাদেশটাকে নতুন করে গড়তে ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা আগে যেমন পেয়েছি, সেটা অব্যাহত থাকবে এই আশা রাখছি।’

নির্বাচন বানচালের অভিযোগ শিবিরের

জাকসু নির্বাচনের ফল প্রকাশে বিলম্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা অনলাইন বৈঠক করে নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তুলেছে শাখা ছাত্রশিবির। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে শিবির নেতা-কর্মীরা কমিশনার অধ্যাপক লুৎফুল এলাহীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে এসব অভিযোগ করেন তারা। তাদের অভিযোগ, নানা অজুহাতে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।

শিবিরের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন, সেখানে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচন বর্জন করেছেন। এমনকি বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা অনলাইনে লন্ডনে মিটিং করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত কি লন্ডন থেকে আসবে- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘বাহির থেকে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা নেবে।’

গভীর রাতে জাবি ফটকে শিবিরের উপস্থিতি
ভোট গণনা চলাকালীন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন গেটে অবস্থান নিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থকরা। এ সময় প্রধান ফটকে দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৯ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইনকে। একই সঙ্গে গতকাল সারা দিন ও রাতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফটকে দেখা গেছে শিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে মাওলানা আফজাল হোসাইন প্রায় ১৫-২০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী প্রবেশের পর থেকেই ঝামেলা শুরু হয়। এখন খোঁজখবর নিতে এসেছি।’ পরে তিনি স্থান ত্যাগ করলেও তার নেতা-কর্মীরা অবস্থান করেন। ডেইরি, প্রান্তিক ও বিশমাইল গেটে শত শত শিবির-সমর্থক রাতভর অবস্থান নেন। তাদের অনেকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পর জাবিতেও শিবির জয়ী হলে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে।’

এ নিয়ে শাখা বাগছাস-সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের জিএস পদপ্রার্থী তৌহিদ সিয়াম বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সারা রাত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জামায়াত-শিবিরের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভবিষ্যতে তারা বহিরাগত ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে পারে। এটাই সেই দল, যারা নব্বইয়ের দশকে বহিরাগত এনে অস্ত্রের মুখে সালাম-বরকত হল দখল করেছিল। পরে জাবির ছাত্রীদের ঝাড়ু মিছিলের মুখে তাদের পিছু হটতে হয়েছিল। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে সেই দিনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। 

কমিশনার মাফরুহী সাত্তারের পদত্যাগ
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে তিনি জাবি ক্যাম্পাসে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক মাফরুহী বলেন, ‘নির্বাচনে আমি অনেকগুলো অনিয়ম ও মারাত্মক ত্রুটি দেখেছি, যা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নির্বাচন কমিশন আমার মতামতের সুরাহা না করেই ভোট গণনা শুরু করেছে। সময় কম থাকায় আমার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। ফলে পদত্যাগ করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উপায় ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে আমরা যা বুঝি, নির্বাচনে তা ছিল না। যাতে আমি পদত্যাগ না করি, সে জন্য গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকেই আমার ওপর চাপ ছিল, তবু পদত্যাগ করছি।’

মাফরুহীর পদত্যাগে যা বলল শিবির
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার পদত্যাগ করার প্রতিক্রিয়ায় শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের এজিএস প্রার্থী ফেরদৌস আল হাসান বলেছেন, ‘যুদ্ধের ময়দানে এসে তিনি লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। তার এই পদত্যাগ আমাদের কাছে মনে হয়, নির্বাচনকে ঘিরে তার যে হীন ষড়যন্ত্র ছিল, সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেছেন।’ গতকাল রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।  তিনি বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এটি খুবই প্রহসনমূলক আচরণ। তিনি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা। তিনি কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করার কমিটিতে থাকেন। তিনি যে অভিযোগগুলো করে পদত্যাগ করেছেন, সেগুলো ভিত্তিহীন।’

বিলম্বের প্রতিবাদে ঢাকায় শিবিরের বিক্ষোভ
জাকসু নির্বাচনে অব্যবস্থাপনা ও ফল প্রকাশে বিলম্বের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার উদ্যোগে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ।


তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করেছিলাম ডাকসুর মতো জাকসুতেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রশাসন টালবাহানা শুরু করেছে। ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছে। ইতোমধ্যে একজন বহিরাগত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’

শিবিরের এ নেতা অভিযোগ করেন, লন্ডনের প্রেসক্রিপশনে বিএনপিপন্থি কোনো কোনো শিক্ষক নির্বাচন-প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

 

জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের একটি কক্ষের বারান্দায় কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। একই ঘটনায় ওই কক্ষের চার আবাসিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১লা জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হলের ওয়ার্ডেন অধ্যাপক ড. মীর ফেরদৌস হোসেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন হলের ওয়ার্ডেন সহযোগী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল এবং সহকারী অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন। কমিটিকে তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

হল প্রশাসন জানায়, ২ জুলাই চার শিক্ষার্থী রসায়ন বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের আরিফ হাসনাত শামীম, রসায়ন বিভাগের ৫২তম ব্যাচের মো. গিয়াসউদ্দিন, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের মো. রাকিব এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের সাদ আব্দুর রহমানকে পৃথকভাবে একই ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

নোটিশে বলা হয়, গত ২৭ জুন হলের তৃতীয় তলার ‘এ’ ব্লকের ৩০২ নম্বর কক্ষের বারান্দায় একটি কালেমা খচিত পতাকা টানানো দেখা যায়। পরে এ–সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কক্ষটির আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে এ ঘটনার দায় তারা এড়াতে পারেন না। আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কার্যালয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীর ফেরদৌস হোসেন বলেন, “আজ আমরা প্রথম বৈঠক করেছি। চার শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি, তবে বাকিদের পাওয়া যায়নি। তাই সবাইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে লিখিত বক্তব্য জমা দেবেন। এরপর সোমবার আবার বৈঠকে বসে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে লিখিত বক্তব্য পাওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

অভিযোগের বিষয়ে আরিফ হাসনাত শামীম বলেন, “আমাদের ওই রকম কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা একজন মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে এবং দাওয়াতের নিয়তে পতাকাটি টাঙিয়েছিলাম। মানুষ ফুটবল নিয়ে যেভাবে মত্ত হয়ে আছে, সেখান থেকে ধর্মীয় সচেতনতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

তিনি বলেন, পতাকাটি প্রায় দুইদিন টানানো ছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এলে সেটি নামিয়ে ফেলা হয়।

তালেবান বা অন্য কোনো উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে পতাকাটির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের ওই রকম কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এ ধরনের কোনো প্রশ্নই আসে না।”

তদন্ত কমিটির বিষয়ে আরিফ হাসনাত শামীম বলেন, পরীক্ষার কারণে তিনি প্রথম বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হল প্রশাসনের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লিখিতভাবে দেবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৩০২ নম্বর কক্ষের বারান্দায় কালেমা খচিত একটি পতাকা টানানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে হল প্রশাসনের নির্দেশে পতাকাটি নামিয়ে ফেলা হয়।

আমানউল্লাহ/নাঈম

ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
ঢাবিতে ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজারের বেশি গাছ আছে
ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথমবারের মতো পরিচালিত সমন্বিত বৃক্ষ শুমারি ২০২৫-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৬২টি গোত্রের ২৭৭টি প্রজাতির মোট ১৭ হাজার ১৬১টি বৃক্ষ শনাক্ত ও গণনা করে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই শুমারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

প্রজাতির ভিত্তিতে ৫৮ শতাংশ দেশি এবং ৪২ শতাংশ বিদেশি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। তবে বৃক্ষ সংখ্যার ভিত্তিতে দেশি ও বিদেশি বৃক্ষের অনুপাত যথাক্রমে ৫৪ শতাংশ ও ৪৬ শতাংশ।

সর্বাধিক আধিক্যসম্পন্ন ১৫টি বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে পাঁচটি বিদেশি প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে মেহগনি, দেবদারু, ম্যাকারথুরি পাম, রেইনট্রি এবং সেগুন উল্লেখযোগ্য।

শুমারি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বৃক্ষসমূহের মোট ভূ-উপরিভাগীয় জীবভর ৯,৯০০ মেট্রিক টন এবং ভূ-নিম্নীয় জীবভর ২,৩৭০ মেট্রিক টন। এসব বৃক্ষের মাধ্যমে মোট ৪,৬৫০ মেট্রিক টন কার্বন মজুদ রয়েছে। জীবভরের ক্ষেত্রে দেশি ও বিদেশি বৃক্ষের অবদান যথাক্রমে ২১.৫ শতাংশ এবং ৭৮.৫ শতাংশ।

উপযোগিতার ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষসম্পদের মধ্যে ফলদ বৃক্ষ ২৫ শতাংশ, প্রাণিকূল সহায়ক বৃক্ষ ২২ শতাংশ, ঔষধি বৃক্ষ ২১ শতাংশ, কাঠ উৎপাদনকারী বৃক্ষ ২০ শতাংশ এবং শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ ১২ শতাংশ।

বৃক্ষের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে মোট ১,৮১১টি বৃক্ষকে বিভিন্ন মাত্রার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে এবং ২,২১৩টি বৃক্ষকে সম্ভাব্য বৃক্ষজনিত বিপর্যয় শ্রেণিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বৃক্ষ শুমারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদ সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সবুজায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি ক্যাম্পাসে পরিণত করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীরা নির্মল পরিবেশে স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ সংরক্ষণ, ফলজ ও উপকারী গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই ক্যাম্পাস গঠনে বৃক্ষ শুমারি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তাছড়া ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পর্যায়ক্রমে নতুন বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবিরসহ আরও অনেক উপস্থিত ছিলেন।  

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরিকালচার সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

২০২৫ সালে পরিচালিত এ শুমারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে পাঁচটি প্রধান জরিপ একক এবং ৪৫টিরও বেশি উপ-এককে বিভক্ত করে প্রতিটি বৃক্ষের তথ্য ডিরেক্ট মেজারমেন্ট মেথড অনুসরণ করে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, জীবভর, কার্বন মজুদ এবং অন্যান্য সূচক নিরূপণ করা হয়।

একইসঙ্গে গুগল মাই ম্যাপস এবং এআরসিজিআইএসের সহায়তায় একটি উন্মুক্ত, ডিজিটাল ও মানচিত্রভিত্তিক বৃক্ষ ডাটাবেজও তৈরি করা হয়েছে।

এই শুমারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদের প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, পরিবেশগত অবদান, কার্বন মজুদ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং স্থানিক অবস্থানের একটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজায়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আরিফ জাওয়াদ/এএফ

ফিনিক্স সামিটে দেশের সেরা জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ফিনিক্স সামিটে দেশের সেরা জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের অন্যতম বৃহৎ সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক আয়োজন ‘ফিনিক্স সামিট ঢাকা ২০২৬’-এ ‘বেস্ট সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব ইন বাংলাদেশ ২০২৬’ সম্মাননা অর্জন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব।

দেশের প্রায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবগুলোর মধ্যে কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সচেতনতা তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ২৩ থেকে ২৭ জুন অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনব্যাপী ফিনিক্স সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন জাককানইবি সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম।

সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, সদস্যদের নিরলস পরিশ্রম, দলগত প্রচেষ্টা এবং সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা তৈরিতে ধারাবাহিক কাজের ফল হিসেবে এ স্বীকৃতি এসেছে। এটি শুধু সাইবার সিকিউরিটি ক্লাবের অর্জন নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেরও। এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও আশা করি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ অব রিসার্চ এ এস এম শামীম রেজা, থিম্পু টেকপার্কের চিফ প্রোগ্রাম অফিসার কিনলে শেরিং, অ্যাক্সেনটেক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদিল হোসেন নোবেল এবং রয়্যাল হলোওয়ে, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সাইবার সিকিউরিটি ডিরেক্টর ফাউজিয়া ইদ্রিসসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, দেশের অন্যতম বড় এই তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলনে ১০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী, ৭৩টি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব পার্টনার একত্রিত হয়। পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিশেষ সামিটে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি (এনসিএসএ)।

উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাইবার সিকিউরিটি ক্লাব বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ আয়োজন, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা চর্চায় উৎসাহিত করতে নিয়মিত কাজ করে আসছে।

তাসনিম/এএফ 

চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন সম্পন্ন

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন সম্পন্ন
ছবি: খবরের কাগজ

উৎসবমুখর পরিবেশ, প্রাণচাঞ্চল্য ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের  ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে দুই ধাপে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

সকাল ৯টায় শুরু হওয়া প্রথম পর্বে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। এতে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, স্থাপত্য, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, পানিসম্পদ কৌশল এবং ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও  ৫টি অনুষদের ডীনবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন চুয়েটের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীরা দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স, স্যামসাংসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা কর্মরত আছেন। সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতেও চুয়েটের একজন সাবেক শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।”

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “তোমাদের এই যাত্রা একটি সুন্দর যাত্রা। লেখাপড়ার পাশাপাশি সৃজনশীলতা বিকাশ করতে হবে। মাদক ও যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”

গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, “চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কেবল ভালো ফলাফল নয়, বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, গবেষণার মনোভাব, নেতৃত্বগুণ ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, আজকের এই নবীনদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক ও শিল্পনেতা তৈরি হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা নবাগত শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শ দেন।

কেন্দ্রীয় পর্ব শেষে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগে বিভাগীয় পরিচিতি ও নির্দেশনামূলক সভায় অংশ নেন। সেখানে বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নবীনদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা, নিয়মাবলী বিষয়ক আলোচনা এবং নবীনদের হাতে পরিচিতিমূলক হ্যান্ডবুক তুলে দেওয়ার আয়োজনও ছিল।

নবীনবরণের অনুভূতি প্রকাশ করে স্থাপত্য বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থী লাবণ্য বর্মন বলেন, “চুয়েটের সবুজ ক্যাম্পাস দেখতে খুব ভালো লাগছে। নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের সঙ্গে কথা হতো, আজ সরাসরি পরিচিত হতে পেরে ভালো লাগছে।”

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা গত ১৭ জানুয়ারি চুয়েট ক্যাম্পাসসহ চট্টগ্রাম শহরের আরও দুটি উপকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় ১২ হাজার ৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রকাশিত মেধাতালিকার ভিত্তিতে পাঁচ ধাপে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ৯৩১টি আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম আগামী রবিবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হবে।

ইবাদ/নাঈম

চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আজ

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:১১ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আজ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া  শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন আজ (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে দুই ধাপে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম আগামী রবিবার থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ওরিয়েন্টেশনের প্রথম পর্ব সকাল ৯টায়। এ পর্বে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল, জৈব চিকিৎসা কৌশল এবং ইলেকট্রনিকস ও টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।

দ্বিতীয় পর্ব সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। এতে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পানিসম্পদ কৌশল, মেকাট্রনিক্স ও শিল্প প্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্থাপত্য বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।

কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন শেষে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগে বিভাগীয় পরিচিতি ও দিকনির্দেশনামূলক সভায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও রাখা হয়েছে।

পরে শিক্ষার্থীদের দুপুর আড়াইটার মধ্যে নিজ নিজ আবাসিক হলে উপস্থিত হয়ে হল-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। সম্মানিত অতিথি চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে এবার খোলা মাঠের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করা হয়েছে। স্থানসংকুলানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানটি দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

ইবাদ/হীরা