চাঁদপুরের পদ্মা- মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় এক সপ্তাহ পরে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আসছে। কর্মহীন হয়ে পড়বেন জেলেরা। বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা এখন দিনরাত চষে বেড়াচ্ছেন নদী। কিন্তু ইলিশের বদলে জালে ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ।
সাধারণত এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। অন্যদিকে পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়।
বুধবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন ইলিশের আড়তগুলোতে দেখা যায় ইলিশ ও পাঙাস কেনাবেচার হাকডাক। তবে মুহুর্তের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ইলিশ। কিন্তু পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে কিছুটা ধীরগতিতে।
চাঁদপুর শহর থেকে ইলিশ কিনতে আসা আব্দুল্লাহ জানান, এখানে তাজা ইলিশ পাওয়া যায়। জেলেরা নিয়ে এলে নিজে পছন্দ করে কেনা যায়।
ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বহুদিনের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়েছে। সাগর উত্তাল হওয়ায় সাগর থেকে অনেক জেলে নিরাপদে চলে এসেছেন। ঠিক এই মুহূর্তে কিছু ইলিশ বিপরীতে অর্থাৎ সাগর থেকে নদীতে উজানের দিকে আসছে।
আরেক ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ইলিশ মাছ কিছুটা আমদানি বেড়েছে। আজকে আমাদের আড়তে কমপক্ষে তিন থেকে চার টন ইলিশ খুচরা ও পাইকারি বিক্রি হয়েছে। তবে এ বছর ইলিশ ছোট এবং বড় সাইজের। মাঝারি সাইজের ইলিশ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। আর যারা গুল্টি জাল দিয়ে ইলিশ ধরে তাদের জালে ছোট থেকে শুরু করে বড় সাইজের ইলিশ ও পাঙাশ পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেক জেলেই কমবেশি পাঙাশ পাচ্ছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বৃষ্টি ও নদীতে পানি বাড়লে ইলিশের প্রাপ্যতা কিছুটা হলেও বাড়ে। আর ঠিক এই মৌসুমটাতে পদ্মা- মেঘনা নদীতে ইলিশের বিচরণও বাড়বে। তবে আমরা এখন মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সচেতনতামূলক প্রচারকাজ নিয়ে ব্যস্ত। কারণ আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ।’