নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাটে দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে শহীদ উল্যাহ (৫৫) নামে বাজারের এক পাহারাদারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে চাপরাশিরহাট পশ্চিম বাজারের মা-মণি জুয়েলার্স ও নূর জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে।
কবিরহাট থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত শহীদ উল্যাহর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। শহীদ উল্যাহ ওই উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুল্যাখালী গ্রামের মৃত ছায়েদুল হকের ছেলে।
খবর পেয়ে নোয়াখালী জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি তারা। তথ্য সংগ্রহসহ বাজারের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে।
মা-মণি জুয়েলার্সের মালিক মিন্টু চন্দ্র নাথ খবরের কাগজকে জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের ডাকাত দল পিকআপ গাড়ি নিয়ে এসে আমার দোকানের তালা ও সিন্দুক কেটে ২৫০ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৫০ ভরি রুপা ও নগদ তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
নূর জুয়েলার্সে মালিক নূর আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমার দোকানের তালা কেটে ডাকাতরা সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫০ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে গেছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা বেরিয়ে আসায় স্বর্ণের মূল সিন্দুক ভাঙতে পারেনি।’
বাজারের শরীফ শপিং সেন্টারের মালিক নেয়ামত উল্যাহ (২৬) খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভোর সোয়া ৪টার দিকে ব্যাবসায়িক কাজে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার সময় মা-মণি জুয়েলার্সের সামনে ডাকাতরা আমাকে আটক করে। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার সঙ্গে থাকা চালানের তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বাচ্চু (৫০) খবরের কাগজকে বলেন, ভোর ৪টার দিকে ভাড়া আনতে যাওয়ার সময় ডাকাতরা আমাকে আটক করে হাত-মুখ বেঁধে তাদের পিকআপ গাড়িতে তোলে। তারা অস্ত্রের মুখে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং কচটেপ দিয়ে হাতমুখ বেঁধে রাখে। সেখানে নামাজ পড়তে বের হওয়া আরও দুজনকেও বেঁধে রেখেছিল।
চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন টিটু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাজারের এক ব্যবসায়ী ফোন করে আমাকে ঘটনাটি জানায়। সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এসে পাহারাদার শহীদ উল্যাহর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি এবং মা-মণি জুয়েলার্স ও নূর জুয়েলার্সে ডাকাতির চিহ্ন দেখতে পাই।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, সারারাত পুলিশ বাজারে ডিউটি করে রাত তিনটার পর অন্য ইউনিয়নের গেলে ডাকাতরা বাজারে হানা দেয়। খবর পেয়ে আমরা পাহারাদার শহীদ উল্যাহর মরদেহ উদ্ধার করেছি। বাজারের সন্দেহজনকদের তথ্য সংগ্রহ চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোর্তাহীন বিল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি এবং পাহারাদারকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মজনু/জোবাইদা/