বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে ছাত্ররা নেতৃত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসে নগরীর প্যারেড মাঠে শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে শনিবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণের শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মেয়র রেজাউল। পরে নগরের টাইগারপাসে চসিকের প্রধান কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি।
এ সময় মেয়র বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ স্বাধীন করতে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদেশ-নির্দেশ নিয়ে গিয়েছিল দেশের আনাচে-কানাচে। মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী অনিশ্চিত সময়ে ছাত্র সংগঠক হিসেবে দেখেছি ছাত্রদের সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার ব্যাপক তৎপরতা। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে অন্ধকার সময় এসেছিল, তা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পেরিয়ে এসেছি আমরা। আমরা যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য লড়ছি, তা বাস্তবায়নে ছাত্রদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে, ছাত্রদের বহন করতে হবে বিজয় মশাল।’
ছাত্রদের মাঝে সোনার বাংলা গড়ার শক্তি খুঁজে পান মন্তব্য করে রেজাউল করিম বলেন, ‘ভাষার প্রশ্নে পাকিস্তানিদের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেই শিক্ষার্থীরা বুঝে গেল আমাদের স্বাধীনতা চাই। সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা গোপনে পোস্টারিং করতাম, স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন বই বিতরণ করতাম। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার উপলব্ধি, ছাত্রদের মধ্যে আদর্শের জন্য লড়াইয়ের যে সৎ সাহস থাকে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি ছাত্রদের নিয়েই আশা দেখি। ছাত্রদের মাঝে খুঁজে পাই সোনার বাংলা গড়ার শক্তি ও অনুপ্রেরণা।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, কাউন্সিলর মো. জাবেদ, নেছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, হাসান মুরাদ বিপ্লব, নাজমুল হক ডিউক, আবুল হাসনাত মো. বেলাল, আবদুস সালাম মাসুম, নূর মোস্তফা টিনু, রুমকি সেনগুপ্ত, সচিব খালেদ মাহমুদসহ বিভাগীয় সভাপতিদের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, রচনা ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মেয়রসহ অতিথিরা। কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লেতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সচিব খালেদ মাহমুদ, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও শাহরীন ফেরদৌসী এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী।
মনির/সালমান/