একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলার রায়ের তারিখ পেছানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) এ রায় ঘোষণার কথা ছিল। বেলা সোয়া ১১টার দিকে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন রায়ের তারিখ পেছানোর বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলার বিস্তারিত লেখার কাজ এখনো শেষ হয়নি। তাই আজ রায় না দিয়ে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাতে সূবর্ণচরের চরবাগ্গ্যা গ্রামে স্থানীয় রুহুল আমিন মেম্বারের নেতৃত্বে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে গৃহবধূকে (৪০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, পছন্দের প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায়। পরদিন ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নির্যাতিতার স্বামী (৫০) চরজব্বর থানায় ৯ জনের নামে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ তদন্ত শেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন ১৬ জনের নামে এ মামলার চার্জশিট দেন। পরে ১৬ আসামির মধ্যে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য রুহুল আমিনসহ ১৫ জন কারাগারে রয়েছেন। চার্জশিটভুক্ত ১৫ নম্বর আসামি মো. মিন্টু প্রকাশ হেলাল (৫৫) মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক। মঙ্গলবার কারাগারে থাকা ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মঙ্গলবার রায় শোনার জন্য ভুক্তভোগী সেই নারী ও তার স্বামী আদালতে উপস্থিত হন। তারা অভিযোগ করে খবরের কাগজকে বলেন, ‘রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকে অপরিচিত সন্দেহভাজন লোকজন আমাদের বাড়ির পাশে ঘোরাঘুরি বাড়িয়ে দিয়েছে। মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির আশপাশে এসব লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ তবে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, এ বিষয়ে কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার রয়েছে।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সকালে ওই গৃহবধূ ভোট দিতে গেলে নৌকার কয়েকজন সমর্থক তাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। তিনি তখন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বললে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। এ সময় তারা তাকে ‘তোর কপালে শনি আছে’ বলে হুমকি দেন। পরে কেন্দ্র থেকে দ্রুত বের হয়ে বাড়ি ফিরে যান গৃহবধূ।
এরপর ওই দিন রাত ১২টার দিকে একই এলাকার ১০-১২ জন তাদের চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরবাগ্গ্যা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে বসতঘর ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্বামী ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে (১২) বেঁধে রেখে টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে তারা। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাকে গলা কেটে হত্যা করতে উদ্যত হয়। এ সময় প্রাণভিক্ষা চাইলে মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির উঠানসংলগ্ন পুকুর ঘাটে ফেলে চলে যায়।
এমএ/