পরিবারের অভাব-অনটন মেটাতে কাজের সন্ধানে ফেনী শহরে আসেন অনেক শ্রমিক। শহরের ট্রাংক রোডের দোয়েল চত্বর থেকে খেজুর গাছ গোলচত্বর পর্যন্ত প্রতিদিন জড়ো হন কয়েকশ শ্রমজীবী মানুষ। এ কারণে ওই জায়গাটিকে সবাই ‘শ্রম বেচার হাট’ নামে চেনেন। ওখান থেকে শ্রমিকরা চুক্তিভিত্তিক কাজে জেলার বিভিন্ন জায়গায় যান। আর কাজ পেলে যা আয় হয়, তা দিয়েই বাসাভাড়া ও সংসার চালান তারা। কিন্তু তীব্র শীতে প্রভাব পড়েছে ওই ‘শ্রম বেচার হাটে’। নিয়মিত রুজি-রোজগার না থাকায় কষ্টে জীবনযাপন করছেন শ্রমিকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত শ্রমজীবী দাঁড়িয়ে আছেন কাজের সন্ধানে। স্থানীয় শ্রমিকের সংখ্যা কম হওয়ায় বাইরের জেলার শ্রমিকদের চাহিদা বেশি। তাদের বেশির ভাগ এসেছেন খুলনা, রংপুর, সিলেট, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে। এর মধ্যে কেউ কাজ করেন রাজমিস্ত্রির, ধান কাটা, মাটি কাটা, বিভিন্ন বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাড়ির ছাদ ঢালাইয়সহ নানা রকমের কাজ।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্য জেলার চেয়ে কাজ বেশি পাওয়ায় তারা ফেনীতে আসেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে তীব্র শীত। ঠাণ্ডা বাতাস ও কুয়াশার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। তীব্র শীতের কারণে আগের মতো তারা কাজ পাচ্ছেন না।
শ্রমিক আবদুল মতিন বলেন, ‘প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে ট্রাংক রোড এসে দাঁড়াই। এরপর বাড়িওয়ালা, ঠিকাদাররা এসে চুক্তির মাধ্যমে কাজের জন্য নিয়ে যান। কখনো রাজমিস্ত্রি, ফসল কাটা, আবার মাটি কাটাসহ নানা রকমের কাজ করি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে কাজ পাচ্ছি না। আগে সপ্তাহে ৭ দিন কাজ করলেও এখন শীতের কারণে এক দিন কাজ পেতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই এক দিনের কাজে দেড় হাজার টাকা পাই। সেই টাকা দিয়ে কষ্ট করে পুরো সপ্তাহ চলতে হচ্ছে।’
খুলনা থেকে আসা আতিয়ার বলেন, ‘ফেনীতে প্রায় পাঁচ বছর ধরে এ হাটে আসি। এবার শীতের কারণে তেমন কাজ পাচ্ছি না। এভাবে হলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’
শ্রমিক জাফর বলেন, ‘দিনাজপুর থেকে ফেনীতে আসছি। কাজ পেলে বাসাভাড়া নিয়ে থাকতাম। কিন্তু গত তিনদিন ধরে ভোর ৬টা থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ পাইনি। রাতে স্টেশনে থাকি। খুব কষ্টে দিন পার করেছি।’
মফিজ নামে আরেক শ্রমজীবী বলেন, ‘ঠাণ্ডায় সর্দি, জ্বর নিয়ে কাজের সন্ধানে এসেছি। গত ৩-৪ দিন কাজ করতে পারি নাই। হাতে টাকা নেই। বাধ্য হয়ে আজকে বের হয়েছি।’
ফেনী জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, ‘শীতে জেলায় ১৯ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত সহায়তা উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
ফেনী আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলায় সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহে জেলায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আরও কয়েকদিন শীতের তীব্রতা থাকতে পারে।’