গ্যাসসংকটের কারণে চট্টগ্রামের তিনটি সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ। এতে প্রতিদিন ৬ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্ধ থাকা কারখানাগুলো হলো চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল), কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)।
সিইউএফএল ও কাফকোর উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দৈনিক ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা এবং ডিএপিএফসিএলকে ৫০ থেকে ৮০ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে।
গত ১৮ জানুয়ারি থেকে এসব কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে গত বরিবার (২১ জানুয়ারি) থেকে সিইউএফএল ও ডিএপিতে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানা দুটি এখনো উৎপাদনে যেতে পারেনি। এ ছাড়া কাফকোয় গ্যাস আসেনি।
উৎপাদন চালু রাখতে সিইউএফএলের দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট, কাফকোর ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, ডিএপিএফসিএল ও শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সিঙ্গাপুর থেকে সংস্কার করে আনা ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) জাহাজ সংযোজন শেষে গত রবিবার থেকে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) পাইপলাইনে সরবরাহ করা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সব শ্রেণির গ্রাহকের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩০০ থেকে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত পাইপলাইনে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যাচ্ছে। তবে কারখানাগুলোতে সরবরাহ বন্ধ রেখে চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশন, শিল্প ও আবাসিক গ্যাসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার থেকে সার কারখানাগুলোতে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় সার কারখানাগুলোর অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালু করা যাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গভাবে উৎপাদনে যেতে আরও পাঁচ থেকে সাত দিন অপেক্ষা করতে হবে।
মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি টার্মিনালকে গত ১ নভেম্বর গভীর সমুদ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে গ্যাসসংকট দেখা দেয়। অপর টার্মিনালটিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। টার্মিনাল দুটির মাধ্যমে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোকে দৈনিক ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়।
সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, স্বল্প চাপে গ্যাস আসছে। এতে নিজস্ব বিদ্যুৎ কারখানা চালু রাখা হয়েছে। উৎপাদন বন্ধ হলে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি টাকা লোকসান হয়। গ্যাসসংকটের কারণে গত বৃহস্পতিবার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ডিএপিএফসিএলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) আবদুল জলিল বলেন, ‘আমাদের কারখানার গ্যাসের চাহিদা কম। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেটিও পাচ্ছি না। কারখানা বন্ধের কারণে আমাদের দৈনিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।’
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) শফিউল আজম খান বলেন, ‘চট্টগ্রামের ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সিইউএফএলকে চালু করার জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। কারখানাটি চালুর জন্যও পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগে।’
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সার কারখানা সিইউএফএল দৈনিক এক হাজার টন অ্যামোনিয়া ও ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করতে সক্ষম। কাফকোতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ টন অ্যামোনিয়া ও ১ হাজার ৭৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করা যায়। ডিএপিএফসিএল ৫০০ থেকে ৬০০ টন সার উৎপাদন করে।