ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে ৯ পরিবর্তন টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক

কুমিল্লায় ১৩৫ হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিবন্ধন নেই

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:১১ পিএম
কুমিল্লায় ১৩৫ হাসপাতাল-ক্লিনিকের নিবন্ধন নেই
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর সময় কাগজপত্র যাচাই করছেন কর্মকর্তারা। গত বুধবার কুমিল্লা সদর উপজেলার কালিরবাজার মডেল হাসপাতালে। খবরের কাগজ

একসময়ের ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর কুমিল্লা এখন ‘হাসপাতালের শহর’। শুধু কুমিল্লা শহর-ই নয়, বিভিন্ন উপজেলা সদর এবং প্রত্যন্ত গ্রামেও গড়ে উঠেছে বেসরকারি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অথচ সেই পরিমাণে বাড়েনি স্বাস্থ্যসেবার মান। 

কদিন পর পরই ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু বা অঙ্গহানির অভিযোগ উঠছে। সব মিলিয়ে কুমিল্লা জেলাজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৫৭৩টি। এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৫টির-ই নেই কোনো নিবন্ধন বা অনুমোদন। অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এসব প্রতিষ্ঠান। 

সম্প্রতি ‘বেসরকারি অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হবে’- নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের টনক নড়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলার অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। পাশাপাশি চালানো হচ্ছে অভিযানও।

গত এক সপ্তাহের টানা অভিযানে অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যবেক্ষক টিমের মাধ্যমে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন ভুয়া ডাক্তারকে তিন মাসের জেলসহ তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের কাছ থেকে জরিমানাও আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক তালিকাসূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কুমিল্লায়। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৫। তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন অভিযোগে কুমিল্লায় অন্তত ৩৮টি হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪টি এবং কুমিল্লা সদর উপজেলায় ১৩টির নিবন্ধন নেই। শুধু দেবিদ্বার উপজেলা ছাড়া বাকি ১৬ উপজেলাতেই নিবন্ধনহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলায় যে ১৩৫টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই, এর মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৭২টির। বাকি ৬৩টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের জন্য আবেদনই করেনি। প্রয়োজনীয় লোকবল ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো চালানো হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যবেক্ষক টিমের সঙ্গে সরেজমিনে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ভুয়া ডাক্তার ও নার্সরা সেবা দিয়ে থাকে। এরা অনুমোদন না পেলেও অবৈধ কাগজপত্র প্রকাশ্যে রেখে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে। অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুমোদন ছাড়াই এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মকানুন না মেনেই অপারেশন থিয়েটার, সিটিস্ক্যানসহ স্পর্শকাতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। 

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লা সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের ‘কালিরবাজার মডেল হাসপাতালে’ গিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক লিটন দেবনাথ চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক সেজে রোগীদের প্রেসক্রিপশন প্যাডে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। ক্লিনিকটিতে অবৈধভাবে ফার্মেসি, অপারেশন, রোগী ভর্তি, রক্ত সঞ্চালন, অনুমোদনবিহীন রক্ত পরীক্ষা, সরকার-নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, কোনো চিকিৎসক বা নার্সের নিয়োগপত্র না থাকায় গত ২৪ জানুয়ারি তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় একই চিত্র বন্ধ করে দেওয়া অন্যান্য হাসপাতাল-ক্লিনিকেও।

স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন জানান, যেখানেই অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক, সেখানেই সেগুলো বন্ধের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- জরুরি ভিত্তিতে লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধ সব বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাডব্যাংক বিধি মোতাবেক বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। সব বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছিমা আক্তার বলেন, জেলার নিবন্ধনহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি তালিকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লা বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইস আবদুর রব বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার নামে ব্যবসার জন্য প্রতিষ্ঠান খুলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এটি চলতে দেওয়া যায় না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সজীব মাতুব্বর। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। 

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার পূর্ব হাশামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর।

নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, ‘সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সুমন হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা আইন অনুযায়ী চলবে। এ মামলায় কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীবের শর্টগানের গুলিতে সুমন নিহত হন। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ওই এলাকায় দফায় দফায় আন্দোলন চলছে।

এনকেবি নয়ন/রিফাত/

মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শিশেরকুন্ডু গ্রামে মামার লাঠির আঘাতে ভাগ্নে নিহত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু বক্কর (৩০) ওই গ্রামের আলী আকবর’র ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার শিশেরকুন্ডু গ্রামের আবু বক্করের সাথে তার মামা সিরু মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। মঙ্গলবার রাতে বিরোধপুর্ণ ওই জমির বাঁশ কাটা নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মামা সিরু মিয়া লাঠি দিয়ে আবু বক্করের মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হলে প্রথমে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় রেফার্ড করে চিকিৎসক। শুক্রবার দুপুরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আবু বক্কর।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কলা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছর বয়সি মাদরাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জাকির হোসেন শেখ (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তারাইল সিমানার খাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মহিলা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ পাটগাতী সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

শিশুটির চাচা বলেন, শুক্রবার দুপুরে শিশুটি পানি আনতে গেলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন তাকে কলা খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার দিলে তার মা দরজায় ধাক্কা দেন। তখন জাকির হোসেন শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে।

শিশুটির বাবা বলেন, দুপুরে খাওয়ার সময় শিশুটিকে চাপকল থেকে পানি আনতে বলি। তখন সে পানি আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

বাদল/এএফ

সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি
নোবেল মীর। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নোবেল মীর। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উদ্ভবগঞ্জ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেন। 

তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা হামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজের দলের লোকজনের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দফায় দফায় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করছেন। পুলিশ সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি। 

তিনি দাবি করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিনিও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে জাহাঙ্গীর আলম কৌশলে ১৪ বছর আগের একটি চেক চুরি করে নিয়ে বর্তমানে ‘চেক ডিজঅনার’ মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তবে আমাকে তিনি উল্টো ইউনিয়ন পরিষদে সবার সামনেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ইমরান/রিফাত/

নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী
ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন এবং প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন নিশাত আক্তার নামে এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নিশাতের মা নাজমা আক্তার (৬০) জানান, পালানোর সময় তার ঘর থেকে ওই মেয়ে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, মেয়ে নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের পিতা খোরশেদ আলম ও মাতা কুলসুম আক্তারকে আসামী করে চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ জুন হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমাম রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। অন্যদিকে নিশাত আক্তার (৩০) চাটখিলের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। তার স্বামী দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিশাতের স্বামী কানাডা থাকার সুবাদে তিন সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। এ সুযোগে বাড়ির পাশে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনেস সঙ্গে নিশাতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে কৌশলে বাবার বাড়িতে রেখে যান।

নিশাতের মা নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত তার ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকার একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যান।’

এদিকে নিশাতে শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে রিয়াজ ও নিশাতের বিবাহের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। নোয়াখালীর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরেও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘এ ঘটনায় মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মজনু/রিফাত/