কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে ইয়াবা পাচার দেখে ফেলায় বাজার কমিটির সভাপতির ওপর সংঘবদ্ধ হামলা করেছে মাদক কারবারিরা। হামলায় বাজার কমিটির সভাপতি আলমগীর ও আসিফ গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন।
এ ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
অভিযোগে বলা হয়, উখিয়ার পালংখালীর বালুখালী সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আনার সময় চক্রটিকে দেখে ফেলেন আলমগীর। তারপর বালুখালীর শিহালিয়া পাড়ার জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ফরিদ আলম ওরফে চিয়ক ফরিদ (৩৭), বালুখালী জুমেরছড়া এলাকার নুরুল আলম (৪৫), পশ্চিম বালুখালীর তারেকুর রহমান (৩০), মুফিদুল আলম (৩৪), নুর আলম (৩৮), মোহাম্মদ ওসমান (৪০, মো. নাসিমুল কবির (৩২), নুরুল ইসলাম প্রকাশ ভুলাইয়া (৩৩) ও শিয়ালিয়াপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম (২৮) সংঘবদ্ধ হয়ে আলমগীরের ওপর হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে আসলে আসিফকেও মারধর করে তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, আসামি জসিমের নেতৃত্বে বালুখালী সীমান্ত ঘিরে গঠিত হয়েছে এই ১০ জনের সিন্ডিকেট। যারা মূলত মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, আইস বাংলাদেশে নিয়ে এসে বিভিন্ন স্থানে সরবারহ করে। সেরকমই একটি ইয়াবার চালান প্রবেশ করছিল। ঘটনাক্রমে তা দেখে ফেলেন বালুখালী বাজার কমিটির সভাপতি আলমগীর আলম। তারপর সংঘবদ্ধ চক্রটি গিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এখন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ফরিদ আলম ওরফে চিয়ক ফরিদ। তার ভাই জাফর আলম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তারপর থেকে জাফরের ইয়াবা সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নেন চিয়ক ফরিদ। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের ইয়াবা এনে বাংলাদেশে বিক্রি করে চিয়ক ফরিদ। এলাকায় ইয়াবা ডন হিসেবে বেশ পরিচিত সে।
গুরুতর আহত আলমগীরের স্ত্রী রুমা আকতার বলেন, ‘বাজার কমিটির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মাদক কারবারিরা আমার স্বামীকে টার্গেট করে। কারণ বাজারের ওপর দিয়ে অবৈধ কিছু দেখলে বাধা দিতেন। যার কারণে মাদক কারবারিরা সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছে। আমি তাদের সঠিক বিচার চাই।’
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনার ছায়াতদন্ত শেষে মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মুহিবুল্লাহ/জোবাইদা/অমিয়/