এক সময় দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি দেখা মিললেও এখন অনেকটাই ফেসবুকে স্ট্যাটাস আর প্রেস রিলিজনির্ভর হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)। নগর বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতিকেই এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা খবরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর জাসাসের গঠিত কমিটিগুলো বরাবরের মতো কোনো না কোনো বলয়ের মধ্যে পড়ে যায়। ফলে অঙ্গসংগঠনটি স্বাধীনভাবে অতীতেও কাজ করতে পারেনি, এখনো পারছে না। চট্টগ্রামে কখনো দলটির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান কখনো মীর মো. নাসিরউদ্দিন কখনো আবার আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অনুসারীরাই অঙ্গসংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। উল্লিখিত নেতাদের বলয় থেকে বের হতে না পারায় জাসাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মহানগর জাসাস সূত্রগুলো জানায়, ২০১৭ সালে সংগীত শিল্পী আব্দুল মান্নান রানাকে সভাপতি করে নগর জাসাসের আংশিক কমিটি করা হয়। ২০২১ সালে দুই বছরমেয়াদি ১১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন ড. মামুন আহমেদ ও অভিনয় শিল্পী হেলাল খানের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটি। দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন কণ্ঠশিল্পী আবদুল মান্নান রানার নেতৃত্বাধীন জাসাস টিম।
তবে দুই বছরমেয়াদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি এক বছরের মাথায় হঠাৎ বিলুপ্ত করা হয়। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি এম এ মুছা বাবলুকে আহ্বায়ক ও মামুনুর রশীদ শিপনকে সদস্য সচিব করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সংগঠনটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কেন্দ্রের এমন ঘোষণায় হতাশ হয়ে পড়েন নগর জাসাসের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। হঠাৎ করে আলোচনা ছাড়া একটি শক্তিশালী কমিটিতে থাকা কবি, লেখক, শিল্পী-সাহিত্যিকদের বাদ দিয়ে বা অবমূল্যায়ন করে কমিটি ঘোষণায় ক্ষোভ আর হতাশা দেখা দেয়। আশা করি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। তারা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। আগের মতোই সক্রিয় হবে জাসাস।
আহ্বায়ক এম এ মুছা বাবলু জানান, জাসাস করেন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীরা। আন্দোলন-সংগ্রামে তারা খুব বেশি যেতে চান না। আহ্বায়ক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নগর বিএনপির কোন্দল। এ কারণে কোনো নিষ্ক্রিয় নেতাকে বাদ দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতিপক্ষের বড় নেতা নাখোশ হওয়ার ভয়ে কোনো ভালো কর্মীকে পদ-পদবিও দেওয়া যাচ্ছে না। যা কোনোভাবেই হওয়া কাম্য নয়।