নোয়াখালীর চাটখিলে আফরোজা-শাহীনুর দম্পতির ঘরে জোড়া লাগানো দুই যমজ কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। তাদের আলাদা করাসহ চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে নিম্নআয়ের দরিদ্র পরিবারটি।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) জেলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে শিশুদের বাবা শাহীনুর ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, আমি কাপড়ের কারখানায় শ্রমিকের কাজ করি। জোড়া লাগানো শিশুদের কীভাবে চিকিৎসা করাব বুঝতে পারছি না। আমার সন্তানদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীসহ সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য কামনা করছি।
গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন আফরোজা সুলতানা। তাদের নাম রাখা হয় মায়মুনা ও মরিয়ম।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যমজ শিশু দুটিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
আফরোজা চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের বাসিন্দা। আফরোজার স্বামী শাহানুর ইসলাম মুন্সীগঞ্জের ভাটারচরে একটি কাপড়ের কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়।
আফরোজা খবরের কাগজকে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। স্বামী কারখানায় কাজ করে সংসার চালান। দুই সন্তানের অপারেশনের খরচ চালানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নিয়ে যাব সেই ভাড়াও আমাদের কাছে নেই। তাই সরকারি খরচে চিকিৎসাসহ সমাজের সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা চাই।
শিশুদের নানি ফাতেমা আক্তার বলেন, ১০ মাস আগে শাহানুরের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। দুটি পরিবারই দরিদ্র। শাহানুর-আফরোজার প্রথম সন্তান মায়মুনা-মরিয়ম। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার আট মাসের সময় আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে যমজ শিশুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে জন্মের পর দেখা যায় তাদের বুক-পেট জোড়া লাগানো।
২৬ জানুয়ারি ভোরে ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে জন্মের পর শিশুদের নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য শিশুদের পরিবারের নেই।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও সার্জারি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক মো. সাইফুদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জোড়া লাগানো হলেও তারা পৃথকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে এর উন্নত চিকিৎসা আছে। সে জন্য আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কারণ এখানে তাদের ভালো চিকিৎসাব্যবস্থা নেই।’
২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেলাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে আনার পর সার্জারি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক সাইফুদ্দিন ও শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলামসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল শিশু দুটিকে দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেখানে নিলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা যাবে। এ জন্য অর্থের প্রয়োজন। তবে পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় ঢাকা মেডিকেলে নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আমাদের।’
ইকবাল মজনু/পপি