চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলনের সময় হাতেনাতে ৩০ চাঁদাবাজকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির টাকা ও বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র্যাবের একাধিক টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে অবৈধ উপায়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়ক থেকে মাসে এক কোটি টাকার চাঁদাবাজি করে তারা।
র্যাব জানায়, আটকদের মধ্যে চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথায় যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদা তোলে ১৩ জন, একই থানার বালুর টাল এলাকা থেকে চাঁদা তোলে চারজন, পাহাড়তলী থানাধীন হোটেল মেরিন সিটির সামনে থেকে যাত্রীবাহী মিনিবাস থেকে চাঁদা তোলে ৪ জন, আকবরশাহ ও একে খান মোড়ে চাঁদা তোলে তিনজন এবং বায়েজিদ থানাধীন অক্সিজেন মোড়ে যাত্রীবাহী মিনিবাস ও টেম্পো থেকে চাঁদা তোলে ছয়জন।
এসব স্থানে অভিযানে চালিয়ে মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়। এ চাঁদাবাজদের কাছ থেকে নগদ ৪১ হাজার ৫৬৩ টাকা জব্দ করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, কাপ্তাই রাস্তার মাথায় রিয়াদ এবং বখতিয়ার উদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় করা হয়। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে মাসিক এক হাজার টাকা করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আদায় করে। চাঁদার টাকা শাহেদ রানা এবং মো. আবুল হোসেনের কাছে জমা দেয়।
চান্দগাঁও বালুর টাল এলাকায় ইয়াব রুবেল এবং মিজানের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় করে চারজন। প্রতিদিন ৩০ টাকা করে ২০০টি ট্রাক থেকে ছয় হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে সবুর ও শফিকের কাছে জমা দেয়।
পাহাড়তলী থানা এলাকায় মো. পেয়ার আহম্মদের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় করে চারজন। তারা টমটম, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে মাসে আট শত টাকা করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। আদায় করা চাঁদার টাকা খলিলুর রহমানের কাছে জমা দেয়।
আকবর শাহ এবং একে খান মোড় এলাকায় নারায়ণ দে’র নেতৃত্বে চাঁদা আদায় করে তিনজন। মিনিবাস থেকে প্রতিদিন তারা ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে সমু এবং নিপুর কাছে জমা দেয়।
বায়েজিদ থানাধীন অক্সিজেন মোড় এলাকায় মো. সোহেলের নেতৃত্বে চাঁদা আদায় করে ছয়জন। তারা মিনিবাস এবং টেম্পো থেকে মাসিক ৮০০ টাকা করে ৮০ হাজার টাকা আদায় করে। চাঁদার টাকা নূরুল হক পুতুর কাছে জমা দেয়।
ইফতেখার/সাদিয়া নাহার/অমিয়/