মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘর্ষের মাঝে মাছ শিকারে নাফ নদীতে যান কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীর জেলে মোস্তাফিজুর রহমান। ছয় দিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট করতে পারছে না কেউ। তার পরিবারের দাবি- মায়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমানপাড়ায় খবরের কাগজকে এসব কথা জানান মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী খালেদা বেগম।
তিনি বলেন, ‘গেল বৃহস্পতিবার মাছ আহরণে নাফ নদীতে যায় মোস্তাফিজ। তারপর থেকে তিনি বাসায় ফেরেননি। আজ ছয় দিন হতে চলল, কেউ কিছু জানাতে পারছে না। বেঁচে আছে না মরে গেছে, তাও জানতে পারছি না। দুই মেয়ে এক ছেলেসন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় অন্য জেলেরা জানিয়েছে তাকে সীমান্তরক্ষীরা নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোথায় কীভাবে তাকে রাখা হয়েছে, আমরা জানতে পারছি না। বিজিবিকে জানিয়েও কোনো সমাধান আসেনি।’
তার বড় মেয়ে রাশেদা আক্তার তুলি বলেন, ‘বাবা ছাড়া ছয় দিন পার করছি। একজন মেয়ে হিসেবে বাবার সন্ধান চাচ্ছি মানুষের কাছে। কেন, কারা নিয়ে গেছে, তাও নিশ্চিত হতে পারছি না। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি’ বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তুলি।
কয়েকজন এলাকাবাসী বলছেন- মোস্তাফিজ মাছ ধরতে গিয়েছে এটা সবাই জানে। কেউ কেউ দাবি করছে- তাকে মায়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা তুলে নিয়ে গেছে। আবার অনেকে বলছে- আরাকান আর্মি বা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের লোকজন নিয়ে গেছে। কিন্তু ছয় দিন ধরে তার খোঁজ মিলছে না।
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মায়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত মায়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), মায়ানমার সেনাবাহিনী, পুলিশ, ইমিগ্রেশন সদস্য ও অন্যান্য সংস্থার ২৬৪ জন সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
মুহিবুল্লাহ্/অমিয়/