কক্সবাজারের উখিয়ায় মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন প্রকল্পে গঠিত এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইনানী রেঞ্জের আওতায় সোয়ানখালি বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহযোগিতায় এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত সভায় শেখ জামাল ইনানী জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম শহীদুল্লাহ কায়সারের সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন- সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইশরাত ফাতেমা, ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফিরোজ-আল-আমিন, ‘স্ট্রেংদেনিং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমস ইন হিউম্যান- এলিফ্যান্ট কনফ্লিক্ট মিটিগেশন’ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান।
ইন্টারন্যাশনাল এলিফ্যান্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে আরণ্যক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেংদেনিং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমস ইন হিউম্যান- এলিফ্যান্ট কনফ্লিক্ট মিটিগেশন’ প্রকল্পের সহায়তায় কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ, বিট কর্মকর্তারা এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেংদেনিং এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমস ইন হিউম্যান- এলিফ্যান্ট কনফ্লিক্ট মিটিগেশন’ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও প্রকল্প অফিসের অন্য কর্মকর্তারা। সভায় উপস্থিত সবার মাঝে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ম্যানুয়াল বিতরণ করেন।
সভায় প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হক মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ম্যানুয়েলে উল্লিখিত বিভিন্ন মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন পদ্ধতি যেমন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার পদ্ধতি, কাঁটাযুক্ত গাছের বেড়া বা জৈব বেড়া পদ্ধতি, মরিচের দড়ির বেড়া পদ্ধতি, মৌচাকের বেড়া পদ্ধতি এবং হাতির খাদ্যের বাগান সৃজন পদ্ধতিসহ বিভিন্ন কার্যকর উপায়ের ওপর সচিত্র প্রতিবেদন ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপন করেন।
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইশরাত ফাতেমা পৃথিবীতে বন্যপ্রাণীদের ভূমিকা ও গুরুত্ব, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ রক্ষা আইন ২০১২ এবং বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য ও পাচার, খাদ্যশৃঙ্খল সম্পর্কে আলোচনা করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের বন্যপ্রাণী আইইউসিএনের রেডলিস্ট অনুযায়ী বন্যপ্রাণীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরি যেমন- বিপন্ন, সংকটাপন্ন, মহাবিপন্ন ইত্যাদি বন্যপ্রাণীর ওপর বিশদ আলোচনা এবং প্রেজেন্টেশন দেন।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত সব সিপিজি ও ই আর টি সদস্যদের দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হতে বলেন এবং সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীদের কোনো এলাকায় হাতি দ্বারা আক্রমণের শিকার হলে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমকে (ইআরটি) অবহিত করতে আহ্বান জানান।
সভায় সহকারী বন সংরক্ষক মো. আনিসুর রহমান প্রকৃতিতে পরাগায়নের গুরুত্ব, ফসলে কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে উপকারী পোকামাকড়ের মৃত্যু হওয়ার কারণে ইকোসিস্টেম নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও তিনি শেখ জামাল ইনানী জাতীয় উদ্যান, ইনানী, উখিয়া, পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ এবং গেটমানি নির্ধারণের ব্যাপারে আলোচনা করেন।
মুহিব্বুল্লাহ মুহিব/জোবাইদা/