চট্টগ্রাম শহরের ডিশ ও ইন্টারনেটের তারের জঞ্জাল মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ লক্ষ্যে সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির পথে হাঁটছে সংস্থাটি।
এর আগে মাটির নিচ দিয়ে তার নিতে ২০২২ সালে লালখান বাজার ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এক পাইলট প্রকল্প নেয় চসিক। ওই প্রকল্পে সফলতা আসায় এখন তা পুরো শহরে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে বিপজ্জনক ঝুলন্ত তার মাটির নিচে অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথমে একটি ওয়ার্ড দিয়ে কাজ শুরু করেছি। সামনে আরও দুটি ওয়ার্ডে কাজ শুরু হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে ৪১টি ওয়ার্ডে তা বাস্তবায়ন করা হবে। এ নিয়ে সামিটের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে।’
লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল খবরের কাগজকে জানান, তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর ডিশ ও ইন্টারনেটের তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন। বিষয়টি নিয়ে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন। তার আইডিয়া শুনে মেয়র তাকে উৎসাহ দেন। এরপর ২০২২ সালের অক্টোবরে তিনি নিজ ওয়ার্ডে কাজটি শুরু করেন। এতে তার ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকা তারের জঞ্জালমুক্ত হয়। তিনি মূলত নালার ওয়ালের পাশ দিয়ে ফাইবার অপটিক কেব্ল নিয়ে গেছেন। যেখান থেকে প্রতিটি বাড়িতে লাইন নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই কেব্লে যত বেশি ডিভাইস লাগানো হয় এর কর্মক্ষমতা ততই বেড়ে যায়। এখন আর ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে সড়কের পাশ দিয়ে তার ঝোলাতে হয় না। তারা সাবমেরিন কেব্ল থেকে লাইন নিয়ে তাদের গ্রাহককে সেবা দিতে পারছেন। ইতোমধ্যে দুটি বর্ষাকাল পার হয়েছে। কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। দুই বছরের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, এটা চট্টগ্রাম শহরের জন একটি কার্যকর প্রকল্প।
খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সুবিধা দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো বিল নেবে না। তবে কেব্ল অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিটিআরসি নির্ধারিত হারে ভাড়া নেওয়া হবে। এ ছাড়া সেবা সংস্থার কাছ থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বছরে মোটা অঙ্কের রাজস্ব পাবে।
ওয়ার্ডগুলোও মেনটেইনেন্স সার্ভিস চার্জ পাবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো তারের জঞ্জালমুক্ত হলে সারা দেশের জন্য বন্দর নগরী হবে একটি মডেল শহর।