শিক্ষক ও সহপাঠীকে অভিযুক্ত করে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১৬ মার্চ) পৃথক দুটি জানাজা শেষে তাকে নগরীর শাসনগাছা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
এর আগে শনিবার বিকেল তিনটায় কুমিল্লা সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শাসনগাছা এলাকায়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার পাশে সমাহিত করা হয় অবন্তিকাকে।
কুমিল্লা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম জানাজায় ইমামতি করেন কুমিল্লা সরকারি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু মুসা। জানাযার পূর্বে বক্তব্য রাখেন অবন্তিকার শিক্ষক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিফতাহুল হাসান, অবন্তিকার ভাই অপুর্বসহ সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও স্বজনরা।
এর আগে শনিবার দুপুর বারোটার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে অবন্তিকার মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একটি লাশবাহী ফিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে অবন্তিকার মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাগিচাগাঁওস্থ বাসভবনের সামনে। এরপর তার মরদেহ সরকারি কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয় জানাজার জন্য। জানাজা শেষে সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শাসনগাছা এলাকায়। পরে সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অবন্তিকার মৃত্যুর পর তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে কুমিল্লায় এসেছেন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা।
এ সময় তারা অবন্তিকার মা ও স্বজনদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
পরে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনিরা জাহান সুমি সাংবাদিকদের বলেন, যা ঘটে গেছে তা আমাদের কাম্য ছিল না। ইতোমধ্যে অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং শিক্ষক দ্বীন ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আরও যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সবই করা হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বাগিচা গাওয়ের নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা। এর আগে তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও এক সহপাঠীকে দায়ী করেন। অবন্তিকার মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই দায়ীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পূবালী চত্বরেও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জহির শান্ত/এমএ/