ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনায় কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ওপর ক্ষুব্ধ পাহাড়ের শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর লক্ষ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে ওই কমিটি। সেই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীটির সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে শান্তি কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা মারমা। এ সময় ব্যাংকে ডাকাতি ও অপহরণ তাণ্ডবে ক্ষোভ প্রকাশ করে সশস্ত্র সংগঠনটির সঙ্গে চলমান সব ধরনের আলোচনা প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা দেয় শান্তি কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, সশস্ত্র কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু তারা এ চুক্তি ভঙ্গ করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। তাদের এ বিষয়ে জানানো হলেও তা শোনেনি। বিক্ষিপ্তভাবে স্থানীয়দের ওপর হামলা, অপহরণ ও চাঁদাবাজি চালায়।
তাদের এমন ঘটনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি ক্ষুব্ধ। এমন অবস্থায় কেএনএফের সঙ্গে আর কোনো সংলাপ চালাবে না শান্তি কমিটি।
এদিকে কেএনএফের তাণ্ডবের পর বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে নিরাপত্তা বলয় বাড়ানো হয়েছে কয়েক স্তরে। এরপরও এই দুই উপজেলাসহ জেলাজুড়ে সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে চলছে যৌথ অভিযান।
১৭ ঘণ্টার ব্যবধানে বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে দুটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় সশস্ত্র হামলা চালায় কেএনএফের সদস্যরা। রুমায় তারা অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে এবং থানচিতে বাজারে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে।
গত মঙ্গলবার রাতে রুমায় সোনালী ব্যাংকে অস্ত্রধারীরা কোনো টাকা লুট করতে পারেনি। তবে বুধবার বেলা ১টার দিকে থানচিতে সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় হামলা করে তারা সাড়ে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যায়।