ঢাকা ২১ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫ ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা পড়ে পাওয়া গল্পের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়াতে ‘বাংলা কিউআর কোড’ চালু করেছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন বেলুচিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ৩০ পল্লবীতে সন্ত্রাসী ‘রেড মুন্না’ গ্রেপ্তার সশস্ত্র বাহিনীকে চতুর্মাত্রিক করতে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: রাষ্ট্রপতি উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ জন গ্রেপ্তার ন্যাটো সম্মেলনের আগে পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ রাজধানীজুড়ে একদিনে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৮ জুনে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৪৩৮, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে বেশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় শি জিনপিং ইসলামের প্রথম শহীদ একজন নারী নিউইয়র্কে পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শতভাগ ফিট না হলেও নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে রাফিনহা হাতিয়ায় রুপালি ইলিশের আকাল, শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা ‘বিএনপিরে মামলা দিমু, আওয়ামী লীগরে কোলে লইয়া নাচুম’ ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম সাধ্যের মধ্যেই! কোথায় সমস্যা হচ্ছে আর্জেন্টিনার? খামেনির শোকসভায় প্রতিশোধের বার্তা প্রচার করছে ইরান! দিনাজপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল বায়ু দূষণের শীর্ষে নয়া দিল্লি, ঢাকার বাতাস আজ সহনীয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল নরসিংদীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত সাম্বার ছন্দ নাকি ভাইকিং ঝড়? হবিগঞ্জ ও সিলেটে ‘দুরন্ত স্পোর্টস গ্যালারি’ এর নতুন শোরুম চালু

২৩ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, ৫ হাজার গ্রামবাসীর দুর্ভোগ

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ০৯:৪০ এএম
২৩ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, ৫ হাজার গ্রামবাসীর দুর্ভোগ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওকন্যারা গ্রামের কালা গাজী সড়ক বেহাল। খবরের কাগজ

চারদিকে ছোট-বড় খানাখন্দ। কোথাও বড় আকারের গর্ত; আবার কোথাও সড়কের অধিকাংশ ধসে গেছে। কোথাও একেবারে নিচু, কোথাও আবার টিলার মতো। দু-এক জায়গায় ইটের চিহ্ন থাকলেও বেশির ভাগ জায়গার মাটিতে কংক্রিটের গড়াগড়ি। দেখেশুনে না চললে পা পিছলে যাওয়ার শঙ্কা আছে। এমন বেহাল চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওকন্যারা গ্রামের কালা গাজী সড়কের। গেল ২৩ বছরেও গ্রামীণ এই সড়কটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। বছরের পর বছর অবহেলিতই থেকে গেছে ৫ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকসহ এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। সেই সঙ্গে দীর্ঘসময়েও উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।

বাসিন্দাদের অভিযোগ- জনপ্রতিনিধি যায়, জনপ্রতিনিধি আসে। কেউ এই সড়কের ধার ধারেন না। ফলে দিনের পর দিন এখানকার বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে অল্প বৃষ্টিতেই এ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। তখন ঘরবন্দি হওয়া ছাড়া মানুষের কোনো উপায় থাকে না। সড়কটির দ্রুত সংস্কার করে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বড়লিয়া ইউনিয়নের ওকন্যারা গ্রামের কালা গাজী সড়কটি বড়লিয়া হাসপাতালসংলগ্ন আশকর শাহ মাজার থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে আশিয়া বাংলা বাজারে। এক কিলোমিটারের কম হলেও সড়কটির আশপাশে রয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। এসব বাড়িঘরে অন্তত ৫ হাজার মানুষের বসবাস। এ সড়কটি বড়লিয়া ইউনিয়ন ও আশিয়া ইউনিয়নকে যুক্ত করেছে। ফলে দুই ইউনিয়নের মানুষের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের এক পাশে আছে আশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, আশিয়া বাংলা বাজার ও একটি কিন্ডারগার্টেন। অপর পাশে আছে বড়লিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসা। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে এই সড়কটি অবহেলিত। ২৩ বছর আগে সড়কটিতে ইট বসানো হয়। এরপর আর কোনো কাজ করা হয়নি। প্রায় দুই যুগ পার হলেও আর একটিও নতুন ইট বসেনি এই সড়কে। ফলে এলাকার স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, বয়স্ক নারী, পুরুষ চলাচলে পোহাচ্ছেন সীমাহীন দুর্ভোগ। বিশেষত সড়কটি কোনো যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী বলে অসুস্থ রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বাদের হাসপাতালে নিতে চরম কষ্টে পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সড়কের রুগ্নদশা সম্পর্কে জনপ্রতিনিধিরা জানলেও মাথা ঘামান না। তারা এই সড়ক এড়িয়ে চলেন। সড়কের কারণে যোগাযোগ স্থাপন যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি বাড়িতে অতিথি এলেও বদনাম হয়। সড়কের জন্য এলাকা নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই।’

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘কোনো সরকারের আমলেই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আমাদের ইউনিয়নে এ রকম সড়ক আর নেই। সব সড়কই পাকা হয়ে গেছে। আমরা সাবেক এমপিকে কয়েকবার বলেছি সড়কের উন্নয়ন করতে। তিনি কোনো সাড়া দেননি। বর্ষা এলে সড়কটি খুঁজে পাওয়া যায় না। ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসতে প্রায় সময় হোঁচট খেয়ে আহত হয়। পরে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয় হাজার টাকা।’

আশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদিল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘স্কুলে যেতে আমাদের ভালো লাগে। মন চায় ভালো করে পড়াশোনা করি। কিন্তু এই ভাঙাচোরা সড়ক আমাদের মন খারাপ করে দেয়। একবার এ রাস্তায় হাঁটলেই স্কুলে যাওয়ার বা স্কুল থেকে ফেরার ইচ্ছে মরে যায়।’

এলাকার বয়োবৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘সড়কটি বেহাল অনেক বছর ধরে। আমার ছেলে যখন ছোট ছিল, তখন থেকে এই দশা। আর এখন ছেলে বড় হয়ে গেছে। তাও সেই দশা। কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। আমার দুই ছেলে বিদেশে থাকে। বাড়ির সব বাজার আমাকেই করতে হয়। কিন্তু এই সড়কে কোনো গাড়ি চলে না। আমি হাঁপানির রোগী। বাজার থেকে একবার এই সড়কে এলেই আমার প্রাণটা বেরিয়ে আসে।’

এ বিষয়ে বড়লিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীনুল ইসলাম শানু খবরের কাগজকে বলেন, ‘সড়কটির বেহালের ব্যাপারে আমি অবগত আছি। নানা কারণে সড়কটির উন্নয়ন করা হয়নি। আগের সংসদ সদস্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সড়কটি সংস্কার করে দেবেন। কিন্তু তিনি এইবার নির্বাচিত হননি। বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাহেরুল ইসলাম চৌধুরীও সড়কটির সংস্কারের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এটি এখনো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আমরা অনুরোধ করব, অনুমোদন হবে এরপর কাজ হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১ শতাংশ থেকে পাওয়া টাকায় ওই সড়কের উন্নয়ন সম্ভব না। এই বছর আমরা পুরো ইউনিয়নের জন্য ১ শতাংশে টাকা পেয়েছি মাত্র ১১ লাখ টাকা। সেই টাকায় ওই সড়কের কিছুই হবে না।’

সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
সিলেটে বালুমহালে ড্রেজিংয়ের দাপটে ‘বিপথে’ বারকি, বিজিবির অভিযানে জব্দ ১৫
বিজিবির অভিযানে জব্দ বারকি। ছবি: খবরের কাগজ
সিলেটে বালুমহালে যন্ত্রদানব ড্রেজিংয়ের দাপটে যন্ত্রবিহীন পরিবেশবান্ধব বারকি নৌকা আবার অবৈধ কাজে ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ৮৬ লাখ টাকার চোরাইপণ্যের সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে ১৫টি বারকি।
 
এবার বর্ষার শুরুতেই বারকি জব্দের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সনাতন পদ্ধতিতে বালু-পাথর আহরণে এই নৌযানটির ব্যবহার ক্রমে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বারকি ‘বিপথে’ চলছে।
 
শনিবার (৪ জুলাই) বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
 
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ জুলাই গোপন সংবাদে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বাধীন সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, সোনালীচেলা, বিছনাকান্দি, সোনারহাট, প্রতাপপুর, পান্থুমাই, শ্রীপুর এবং মিনাটিলা বিওপি কর্তৃক চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এতে বিপুল পরিমান ভারতীয় গরু, মহিষ, জিরা, সুপারি, চকলেট, সবজি, এয়ার রাইফেল, আঙ্গুর, মদ এবং বাংলাদেশ থেকে পাচারকালে বাংলাদেশি শিং মাছ, অবৈধ বালু-পাথর বহনকারী বারকি নৌকা আটক করে। জব্দ করা মালামালের আনুমানিক সিজারমূল্য ৮৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
 
এ বিষয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, 'সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বোতভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চোরাই মালামাল জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
বিজিবির পৃথক দুটো অভিযানে বারকি জব্দের চিত্রে দেখা গেছে, সীমান্তের সোনালীচেলা ফাঁড়িতে ১১টি বারকি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। আর সিলেটের শ্রীপুরে চারটি। মোট ১৫টি বারকি ব্যবহার করা হয়েছে অবৈধ কাজে।  
 
উল্লেখ্য, সিলেট অঞ্চলে জলপথে হাতে বাওয়া নৌযান বারকির প্রচলন প্রায় ৩০০ বছরের। স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তনকালে জলপথে চুন পরিবহনে ব্যয়বহুল জাহাজের বিপরীতে হাতে বাওয়া লম্বা আকৃতির এ নৌযানটি ‌'জন বারকি' নামক একজন ব্রিটিশ নৌ-কারিগর প্রথম তৈরি করেছিলেন। পরে তার নামে নৌযানটির নামকরণ ‘বারকি’ প্রতিষ্ঠা পায়। বর্ষা মৌসুমে একটি বারকি নৌকায় অন্তত চারজন শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হয়।
 
বারকি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদ-নদী ও বালু-পাথরমহলে লক্ষাধিক বারকি নাও চলাচল করে। এ নাওয়ের শ্রমিকেরা বারকিশ্রমিক হিসেবে পরিচিত। বালুমহালে ড্রেজিংয়ের ব্যাপক দাপটে বারকির ব্যবহার কমে যাওয়ার পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতে পাথরমহাল চালু না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
 
আজহার/

ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে বাংলাদেশি আটক
ছবি: খবরের কাগজ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ভারতে অনুপ্রবেশের সময় অসীম বিশ্বাস (৪৩) নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে বোদা থানায় হস্তান্তর করে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়শশী ক্যাম্পের সদস্যরা।

বিজিবি জানায়, নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়শশী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্তের মেইন পিলার ৭৭৮ এর ৭নম্বর সাব পিলার থেকে ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অমরখানা এলাকা দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন অসীম বিশ্বাস। পরে বিজিবির টহল দল তাকে আটক করে। 

কাজের সন্ধানে তিনি ভারতে অবৈধ উপায়ে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। 

বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজওয়ানুল হক মন্ডল খবরের কাগজকে বলেন, আটক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা করেছে বিজিবি। দুপুরে তাকে পঞ্চগড় আদালতে তোলা হবে।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, আমাদের টহল দল সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় অসীম বিশ্বাস ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে আমরা তাকে ধরে ফেলি।

তিনি আরও বলেন, আমরা সীমান্তে কোনো কিছু পাচার, অবৈধ সীমান্ত পারাপার, মাদক, গরুসহ সকল চোরাচালান রোধে সদা তৎপর।

রনি/থিওটোনিয়াস

সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
সীতাকুণ্ডে চুরি করতে গিয়ে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা
ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের জেলেপাড়ায় গলায় ছুরি ধরে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে রবিউল হোসেন নামে এক চোর। চুরি করতে গিয়ে ওই নারীকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করারও হুমকি দেয় চাের।   

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম বলেন, রবিউল চুরি করতে গিয়ে ওই নারীকে ঘরে একা পেয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। কিছু টাকা ও মোবাইলও নিয়ে গেছে। 

ভুক্তভোগী জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রবিউল হোসেন তার ঘরে ঢুকে গোপনে ভিডিও করে এবং গলায় ছুরি ধরে শরীরের কাপড় টানাটানি করতে থাকেন। এ ঘটনা থানা পুলিশকে জানালে ভিডিও প্রকাশ করে দেবে বলেও হুমকি দেন। এক পর্যায়ে প্রতিরোধের মুখে রবিউল চলে যান। একটি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।       
 
গৃহবধূর স্বামী বলেন, সাগর থেকে মাছ ধরে সকালে ঘরে আসলে স্ত্রীর মুখে বিস্তারিত শুনে থানায় অভিযোগ করেছি। রবিউল নিশ্চিত হয়েছিল যে, আমি বাড়িতে নেই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে সে। 

রবিউলের বিরুদ্ধে এলাকায় আরও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।   

মুসলেহ উদ্দীন/অদিতি/

ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ পিএম
ভেদরগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের হাতে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত
ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারধর, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সখিপুর থানা ও ইউএনও বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮৭নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন আলী আসাদ মিয়া। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগ রয়েছে সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে দেরিতে আসেন এবং প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়াই আগে চলে যান। প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে বললেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

সবশেষ গত ২ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। ওইদিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় প্রধান শিক্ষক আসাদ তাকে ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেলোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মারেন। গলা চেপে ধরেন। মাটিতে ফেলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক ‎আলী আসাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার দীর্ঘদিন ধরে সময় মতো বিদ্যালয়ে আসেন না। আমি তাকে অনেকবার অবহিত করেছি। গত ‎বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি ছুটি চাইলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং জরুরি সভা নির্ধারিত থাকায় তাকে ছুটি দিইনি। 

বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ’আমার বাচ্চা অসুস্থ থাকায় আমি ছুটি চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি বলেন ছুটি দেওয়া যাবে না। বিরক্ত হয়ে হাতাহাতি হয়ে যায় তখন মাথা ঠিক ছিল না।’

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, ’আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুবকর সিদ্দিক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধান মজুমদার/খাদিজা রুমি/

হাতিয়ায় রুপালি ইলিশের আকাল, শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১ এএম
হাতিয়ায় রুপালি ইলিশের আকাল, শূন্য হাতে ফিরছেন জেলেরা
ছবি: খবরের কাগজ

বর্ষার ভরা মৌসুম এলেই মেঘনা নদীজুড়ে রুপালি ইলিশের আশায় বুক বাঁধেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপকূলের হাজার হাজার জেলে। সাধারণত বছরের এই সময়ে নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। তবে চলতি মৌসুমে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো ও হতাশাজনক চিত্র। প্রতিদিন গভীর রাতে নদীতে গিয়েও অধিকাংশ ক্ষেত্রে খালি হাতে কিংবা সামান্য কিছু মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে তাদের। 

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার সূর্যমুখী ঘাট, কাদিরবাজার ঘাট, পাইতান ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট, নলচিরা ঘাট, চরচেঙ্গা ঘাট, মোহাম্মদপুর ঘাট ও তমরউদ্দিন ঘাটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের জেলেপল্লি ঘুরে এমন পরিস্থিতির চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিদিন গভীর রাত থেকে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিলছে না প্রত্যাশিত ইলিশ। অনেকেই সামান্য কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার কেউ কেউ প্রায় খালি হাতেই ঘাটে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে নৌকার জ্বালানি, বরফ, জাল রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রমিকের খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ঋণ ও ধারদেনার বোঝা আরও বাড়ছে।

সূর্যমুখী ঘাটের জেলে আলা উদ্দিন বলেন, ’প্রতিদিন নদীতে নামছি, কিন্তু আগের মতো মাছ মিলছে না। কয়েকবার জাল ফেলেও তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সংসারের খরচ চালানো এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে।’

চেয়ারম্যান ঘাটের জেলে মো. সফি আলম বলেন, ’তেল, বরফ আর খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। মাছ না পেলে খরচই ওঠে না। পরিবার নিয়ে এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’

ইলিশের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মাছের আড়তব্যবসার উপরও। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক আড়তে আগের মতো কর্মব্যস্ততা নেই।এতে ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

কাদিরবাজার ঘাটের ব্যবসায়ী আব্দুস শহীদ বলেন, ’ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাটে ইলিশের স্তূপ পড়ে থাকে। এবার সেই চিত্র নেই। মাছ কম আসায় ব্যবসা একেবারে মন্দা, প্রতিদিনই লোসান গুনতে হচ্ছে।’

হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফয়জুর রহমান বলেন, নদীতে স্রোত কমে যাওয়ার কারণে পলি পড়ে গভীরতা কমে যাচ্ছে। এ কারণে ইলিশ অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। তবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। আশা করছি বৃষ্টি বাড়লেই ইলিশের সংকট দূর হবে।

সাকিব/খাদিজা রুমি/