ব্যবসায়ীরা যদি চামড়া এক সপ্তাহ সংরক্ষণ করতে পারেন, তা হলে যথাযথ মূল্য পাবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো আমরা আস্তে আস্তে সমাধান করব। চামড়া রাতারাতি ঢাকায় পাঠিয়ে দিলে ভালো মূল্য পাওয়া যাবে না। চামড়া ব্যবসায়ীদের লবণ নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। এবার লবণের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে।’
বুধবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চামড়া সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহনসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসি বলেন, ‘চামড়া জাতীয় সম্পদ। আমরা এটাকে কাজে লাগাতে চাই। জেলা ও মহানগরে চমড়া সংরক্ষণের জন্য ইমাম সমিতি, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে চামড়াসংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সভা করছেন। চামড়া অবশ্যই শেডের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে। আগামী জুমায় ইমাম সাবেবরা খুতবায় চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে বলবেন।’
সভায় চামড়া আড়তদাররা বলেন, ‘চট্টগ্রামে একটি মাত্র ট্যানারি রয়েছে। তারা মাত্র ৩০ হাজার চামড়া কেনে। বাকিগুলো ঢাকায় ট্যানারিতে পাঠাতে হয়। একটি চামড়ার জন্য ১০ কেজি লবণ লাগে। সরকারি কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না। ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকেও কোনো সহায়তা করা হয় না। চামড়া ব্যবসায়ীরা খুবই অবহেলিত।’
চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘কোরবানি এলেই কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী তৈরি হয়। তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চামড়াগুলো কম দামে কিনে নেয়। এতে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এদের বিষয়ে তৎপর হতে হবে।’
এ সময় বিসিক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিজিএম) নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘এবার বেশ ভালো লবণ উৎপাদন হয়েছে। লবণের কোনো সংকট নেই। চামড়া সংরক্ষণের জন্য আমরা গত বছর ২০ টন লবণ বিনামূল্যে দিয়েছি। এ বছর ২৫ টন লবণ আমরা বিনামূল্যে দেব।’
এ সময় লবণ মালিক সমিতির নেতারা বলেন, ‘লবণের সংকট হবে না। তবে শহরের চামড়া সংরক্ষণ করতে হলে অবশ্যই আড়তদারদের এগিয়ে আসতে হবে। আড়তদার সমিতির অভিযোগ হলো লবণের দাম বেশি। আপনারা ১২ টাকা করে লবণ পাবেন। এর বেশি হবে না। লবণ লাগবে বললেই লবণ পৌঁছে যাবে।’
সভায় চট্টগ্রামের সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন।
ইফতেখারুল/ইসরাত চৈতী/অমিয়/