টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষিকার পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জুলাই) বিকেলে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বৈঠক হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈবুর রহমান, নুরুল ইসলাম খান জোছনা, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম ও অভিযোগকারী শিক্ষিকাসহ বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
এ সময় অভিযুক্ত কাজী জহুরুল ইসলাম শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেন।
জানা যায়, শিক্ষক জহুরুল দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। তার ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি বিদ্যালয়ের অন্য সহকর্মীদের বিষয়টি জানান। পরে অন্য শিক্ষকরা এক হয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সামনেই ভুক্তভোগী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। বিষয়টি শিক্ষিকার পরিবার জানার পর ঝামেলা সৃষ্টি হয়।
পরে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।
শুধু এই শিক্ষিকাই নন, আরও শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক তার ক্ষমতা ব্যবহার করে শিক্ষিকাদের নানাভাবে হয়রানি করেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষিকাতে প্রধান শিক্ষক গভীর রাতে মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের ম্যাসেজ পাঠাতেন। পরে বাধ্য হয়ে এক শিক্ষিকা তার বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।’
অভিযোগকারী শিক্ষিকা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক সব সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন। ম্যাসেজ, ফোনকলে এবং সরাসরি কুপ্রস্তাব দিতেন। মোবাইলে টাকাও পাঠিয়েছিলেন। এ নিয়ে পারিবারিকভাবেও ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। পরে সহকর্মীদের কাছে বলার পরও তিনি ভালো হননি। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিকার চেয়ে ম্যানেজিং কমিটি বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযাগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দিদারুল আলম খান মাহবুব খবরের কাগজকে বলেন, ‘শিক্ষিকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে মিটিং করা হয়েছে। মিটিংয়ে প্রধান শিক্ষক তার দোষ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
জুয়েল রানা/পপি/অমিয়/