গাউসুল আযম হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর ১১৯ তম বার্ষিক উরস শরিফ উপলক্ষে মাইজভান্ডারী একাডেমির আয়োজনে সপ্তদশ শিশু-কিশোর সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) দিনব্যাপী চট্টগ্রাম মহানগরীর নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. শরীফ উদ্দিন।
সমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন মাইজভান্ডার শরিফ গাউছিয়া হক মঞ্জিলের সাজ্জাদানশিন রাহবারে আলম হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী। তিনি বলেন, ‘আকাশায়নের এ যুগে গতানুগতিক ধারা এড়িয়ে চলে উত্তম কাজে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি আজ বড় প্রয়োজন। আধুনিক মানুষের মন চায় একটি দূষণমুক্ত পৃথিবী, দূষণমুক্ত অন্তর। উত্তম ইচ্ছা নিয়ে ভালো কাজে প্রতিযোগিতার মনোভাব জাগ্রত করতে হবে এবং ভালো কাজে শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করতে হবে।’
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, শিশু-কিশোরদেরকে নৈতিক মানবিক, সৎ, নীতিবান ও বিজ্ঞানমুখী প্রজন্ম হিসেবে গড়তে পারলে তারাই আগামী দিনে দ্যুতি ছড়াবে। মিথ্যা বলা মহাপাপ। কিন্তু আমরা মিথ্যা কথা বলা ছাড়তে পারি না। অনেকেই নামাজ কালাম পড়েন, ধর্মে কর্মেও এগিয়ে থাকেন। অথচ এদের কেউ কেউ আবার ব্যবসার নামে প্রতারণা ও ভোক্তাদের ঠকান। এই বিপরীতমুখী মানসিকতা আমাদের ছাড়তে হবে।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। এই ধরনের সৃজনশীল মননধর্মী আয়োজন তাদের মানস চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর বলেন, মাইজভান্ডারী ত্বরিকা একটি জীবনঘনিষ্ঠ মানবিক ত্বরিকা। মাইজভান্ডার দরবার শরিফ সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের মিলনকেন্দ্র। এখানে এসে মানুষ অশেষ প্রশান্তি খুঁজে পায়।
সমাবেশে অতিথিদের আলোচনার ফাঁকে চলে নানা গান ও সঙ্গীত। সকাল ১০ টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও বেলুন উড়িয়ে শিশু-কিশোর সমাবেশের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর কুরআন মজিদ থেকে তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (দ), মাইজভান্ডারী সঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।
প্রজাপতি কোথায় পেলে এমন রঙিন পাখা, চল্ চল্ চল্... ফেরদৌস আরার সুরেলা মোহনীয় কণ্ঠে পরিবেশিত কয়েকটি নজরুল সঙ্গীত শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে শোনেন। সমাবেশে ক্বিরাত, হামদ্-না’ত, মাইজভান্ডারী সংগীত, নজরুল সংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান, উপস্থিত বক্তৃতা, ফটোগ্রাফি, রচনা, চিত্রাংকন, স্পেলিং বি, আইডিয়াহান্ট, সূফি অলিম্পিয়াড ও সীমিত চলচ্চিত্রসহ ১৯টি বিষয়ে চার সহস্রাধিক শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।
হাজারো শিশু-কিশোরের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে শিশু-কিশোর সমাবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে। স্কুল মাঠে বসে নানা স্টল। ইসলামের দুর্লভ চিত্র প্রদর্শনী, দেলা ময়না বিজ্ঞান মেলা, গাউসুল আযম তোরণ, বাবাভান্ডারী তোরণ, রহমান তোরণ, শাহানশাহ্ তোরণ, বৃক্ষ পরিচিতি, সততা স্টোর, স্কাউটস, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, এসো কিছু করি, আলোকধারা বুকস্, গ্রামীণ হস্তশিল্প, কোমল হাতে রাঙ্গা, অনুবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন শিশু-কিশোরসহ তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা। হরেক রকম পিঠাপুলির স্টলেও দেশীয় পিঠার স্বাদ নেন অনেকে। বিশেষ করে দেলা ময়না বিজ্ঞান মেলায় প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। খুদে শিশু-কিশোরদের নানামুখী উদ্ভাবন ও আবিষ্কার এতে স্থান পায়।
সমাবেশে অতিথি ও আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গির আলম, রাজনীতিবিদ ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরা, মাইজভান্ডারী একাডেমির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ডা. সাইফুদ্দিন মাহমুদ, সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম অনিক চৌধুরী, সপ্তদশ শিশু-কিশোর সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক এইচ এম রাশেদ খান প্রমুখ।
মাহফুজ