১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে না পেয়ে স্বামী বিপুল হোসেন স্ত্রী রিয়া খাতুনকে খুন করেছে। খুনের মামলা করতে গেলে ঈশ্বরদী থানার মামলা না নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রেলগেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বিজয় টিভির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিহত রিয়া খাতুনের মা মোছা. মোমেনা লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে না পেয়ে আমার মেয়ে রিয়া খাতুন তার স্বামী দাশুড়িয়ার হঠাৎপাড়া এলাকার মিনারুল হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেনের হাতে বলি হয়েছে। খুনের মামলাও নেয়নি ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।
তিনি জানান, বিয়ের পর থেকে মেয়ের জামাই বিপুল হোসেন ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে যৌতুক দাবি করে আসছিল। অভাবের সংসার হলেও মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে জামাই ও তার পরিবারের চাপে পর্যায়ক্রমে টাকা দিয়েছি। সবশেষে জামাই ট্রাক কিনবেন এমন কথা বলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তাদের এই অনৈতিক দাবি না মানায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি জামাই বিপুল হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়ে রিয়া খাতুনকে নির্যাতন করে খুন করেছে। তারা টাকার কারণে মেয়ের জীবন কেড়ে নিয়েছে। মেয়ের তিন বছরের একটি শিশু সন্তানও রয়েছে।
মোছা. মোমেনা অভিযোগ করে বলেন, মেয়ে হত্যার পরদিন মামলা করতে চাইলে ঈশ্বরদী থানা মামলা নেয়নি। থানা থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় মামলা আগেই হয়ে আছে। অথচ কে মামলা করলো আমরা কিছুই জানিনা। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি পাবনার আদালতে মামলা দায়ের করা হলে আদালত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঈশ্বরদী থানাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু দেড় মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও ঈশ্বরদী থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েকবার দেখা করে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি, কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি আমার কথায়। তিনি আরও বলেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে বলছে এবং মীমাংসা না করলে সমস্যা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হত্যা মামলায় পুলিশের নীরব ভূমিকার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এ সময় নিহত মেয়ের বাবা মো. মিজানুর, মামা মো. সেলিমসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের পরে বাস টার্মিনালে বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, গৃহবধু রিয়া খাতুনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আমাদের হাতে এখনও আসেনি। তবে মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন/মাহফুজ