ছবি: খবরের কাগজ
কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার, অমানুষিক নির্যাতনে এক তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত মূলহোতা মো. সেলিম রানাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে র্যাব-১৪ এর সিপিসি-৩ (টাঙ্গাইল) ও র্যাব-১০ সদর কোম্পানির সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্রেপ্তার সেলিম রানা টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা।
মামলার সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা এলাকার বাসিন্দা নজর আলীর ছেলে রাজু মিয়া (২০) ও ভাতিজা রানা হামিদকে (২৫) কম্বোডিয়ায় ভালো চাকরির আশ্বাস দেন সেলিম রানা ও তার সহযোগীরা। এজন্য ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা নেয়। পরে তাদের ট্যুরিস্ট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।
কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা বুঝতে পারেন, চাকরির আশ্বাস ছিল প্রতারণা। কোনো কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়। বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রাজু মিয়ার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় রাজু মিয়ার বাবা নজর আলী বাদী হয়ে গত ৬ জুন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেন।
মামলা পর থেকেই র্যাব ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সেলিম রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে মধুপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মানবপাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জুয়েল/খাদিজা রুমি/