আট মাস ধরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। এতে প্রশাসনিকসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তার পরিবর্তে কাজ করছেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। যেকোনো প্রয়োজনে ৪০ কিলোমিটার দূরে পাবনায় যেতে হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে মোট পদের সংখ্যা ৭টি। গত বছরের আগস্ট মাসে অবসরে যান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জমান। এরপর এ পদে আর কাউকে পদায়ন করা হয়নি। পদ থাকলেও এখানে নেই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। হিসাবরক্ষক কয়েক মাস আগে অবসরে যান। এ পদেও এখন পর্যন্ত কাউকে পদায়ন করা হয়নি। সম্প্রতি অফিস সহকারী পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র বদলি হয়েছেন। এ পদটিও খালি রয়েছে। বর্তমানে এ অফিসে রয়েছেন উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার, একজন পিয়ন এবং নৈশপ্রহরী।
এ উপজেলায় মোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৫টি। মাধ্যমিক পর্যায়ের মাদ্রাসা রয়েছে ১৮টি ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫টি। এ ছাড়া ৭টি কলেজ রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরান্তে বই বিতরণ, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়ার কাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট নানাবিধ সমস্যা সমাধান দেওয়া হয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে। কিন্তু অফিসপ্রধানসহ অন্যরা না থাকায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তবে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে বলে দাবি করেছেন সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (সেসিপ) আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত ঈশ্বরদী উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রশাসনিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্য কার্যক্রমের সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদারকিতে ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়মিত সমাধান করা হচ্ছে।
পদবি পিয়ন হলেও বর্তমানে অফিস সহকারী হিসেবেও কাজ করছেন শাহাদত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী না থাকায় অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। সমস্যা হলেও প্রয়োজনীয় কাজগুলো নিয়মিত সমাধান করতে হচ্ছে।’
ভাষাশহিদ বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য ৪০ কিলোমিটার দূরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়। এতে আমাদের নানা রকম ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
পাবনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু ঈশ্বরদী নয়, পাবনার ৯টি উপজেলার মধ্যে ৫টিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। অন্য পদগুলোতেও লোকবল সংকট থাকায় পূরণ করা যাচ্ছে না। এতে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অন্য পদে লোকবল দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রত্যাশা করছি তারা শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে।