টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জেলার থানচি ও রুমা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু নদীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমসহ দুর্গম পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। বান্দরবান-থানচি সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে আলীকদম উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ সড়কের ওপর পড়ে যাওয়ায় যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান দুর্যোগে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে যাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়ায় প্রশাসন জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকা এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
রিজভী রাহাত,/এসএন