ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এআই অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর স্মরণে বরিশালে দোয়া মাহফিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আক্ষেপ থেকেই যাবে! যাত্রীসেবায় আরও যত্নশীল হোক রেলওয়ে বাজেট প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নাকি সংস্কারের হারানো সুযোগ ঢলে ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়া, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু ‘বিড়ালের অভিশাপে’ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ব্রাজিল রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র মেসি ও সালাহর সামনে রেকর্ডের হাতছানি জয়পুরহাটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৫ ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১১টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র সদাচারী জ্ঞানসাধক আবুল কাসেম ফজলুল হক কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন টানা বৃষ্টির প্রভাব, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র অবিরাম বৃষ্টিতে ঝুঁকিতে বান্দরবান, খোলা হলো ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র কারণ জানুন বিশ্ববাজারে ব্যবসা বাড়াতে নতুন রূপে ‘টিপসই’ মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেভাবে শুরু হয়েছিল মেসি-অধ্যায় এআই ও ডেটা সায়েন্সে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল আইএসইউ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী কম্বোডিয়ায় মানবপাচার ও তরুণ নিহতের ঘটনার মূলহোতা গ্রেপ্তার লাকড়ির স্তূপে বিষধর সাপ, প্রাণ গেল নারীর পাবলিক স্পিকিংয়ে মঞ্চ মাতাবেন যেভাবে মহাকাশে পতনশীল সুইফট অবজারভেটরি উদ্ধারে নাসার সফল অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকির সতর্কবার্তা ব্রাজিলের রাতের রানিতে সেজেছে পেকুয়ার পাহাড় নোয়াখালীর ২ হাসপাতালকে জরিমানা লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিস্তল, গুলি ও মাদকসহ দুইজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিস্তল, গুলি ও মাদকসহ দুইজন গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৩০ রাউন্ড গুলি, ১১৫ কেজি গাঁজা, ১২ ক্যান বিয়ার ও ৬ বোতল হুইস্কিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ইসহাক হাসান (২৩) ও সুমন মিয়া (৩৮)। তাদের বাড়ি নরসিংদী জেলায়।

সন্ধ্যায় আশুগঞ্জ থানা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানা গেছে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম জানান, পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোনারামপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি করে লুকানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, ৩০ রাউন্ড গুলি এবং ১১৫ কেজি গাঁজা, ১২ ক্যান বিয়ার এবং ৬ বোতল হুইস্কি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারে থাকা দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদক এবং অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

আজিজুল/মেহেদী/

মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর স্মরণে বরিশালে দোয়া মাহফিল

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর স্মরণে বরিশালে দোয়া মাহফিল
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম আলহাজ মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনা ও দোয়া পরিচালনা করেন আমীরে হিযবুল্লাহ, আমীরে শরীয়ত ও তরীকত ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ হজরত মওলানা মুফতী শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.)।

প্রধান অতিথি মাহফিলে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি ইসলামী জীবনব্যবস্থা, তাকওয়া, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ এবং দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন।

সোমবার (৬ জুলাই)  বরিশাল সদর উপজেলার স্টিমার ঘাট জামে মসজিদে বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ্, যুব হিযবুল্লাহ ও ছাত্র হিযবুল্লাহ, বরিশাল মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত ঈছালে ছাওয়াব মাহফিলে হজরত পীর ছাহেব কেবলা একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও আলোচনা করেন- বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে আমীর ও বরিশাল চকবাজারস্থ ঐতিহ্যবাহী জামে এবাদুল্লাহ মসজিদের খতিব আলহাজ মওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ ও পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের মেজ ছেলে মির্জা মাসুদ বেগ প্রমূখ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ্, যুব হিযবুল্লাহ ও ছাত্র হিযবুল্লাহ, বরিশাল মহানগর ও জেলার নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থক এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরিশেষে হজরত পীর ছাহেব কেবলা মরহুম আলহাজ মির্জা শরফউদ্দীন বেগ (রহ.)-এর রূহের মাগফিরাত কামনাসহ দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এসএন/

ঢলে ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়া, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ঢলে ভাসছে চকরিয়া-পেকুয়া, পাহাড়ধসে শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ
টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
 
ভয়াবহ এই বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই পেকুয়ার টৈটংয়ে পাহাড় ধসে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এদিকে চকরিয়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে ভবনের একটি সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে এবং স্থবির হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক সব কার্যক্রম।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে পেকুয়ার টৈটং পাহাড়ি এলাকার মাটি প্রচণ্ড নরম হয়ে পড়েছিল।
 
মঙ্গলবার (৭ জুলাই)  হঠাৎ একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে নিচে পড়লে মাটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
 
অন্যদিকে, পেকুয়ার শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে স্থানীয় ব্যবসায়ী ছৈয়দ হোসেনের একটি ছাগলের খামার সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। পাহাড়ের মাটির চাপায় খামারে থাকা ২৫টি ছাগলের মধ্যে দুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
 
বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় পেকুয়ার টৈটং এলাকায় প্রধান লাইনের বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ার পর থেকে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়দের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল চার্জের বাণিজ্য শুরু করেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে জেনারেটর চালু করে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট প্রতি ১০ টাকা এবং বাটন মোবাইল ৫ টাকা করে চার্জের ফি আদায় করা হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে বন্যার্ত মানুষ টাকা দিয়েই মোবাইল সচল রাখার চেষ্টা করছেন।
 
দেখা গেছে, চকরিয়া পৌর শহরের চিরিঙ্গা এলাকায় অবস্থিত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কার্যালয় ও আশপাশের চত্বর এখন থৈ থৈ পানিতে ভাসছে। কার্যালয়ের ভেতরে এখন হাঁটু সমান পানি।
 
ঢলের পানির তোড়ে চকরিয়ার সুরাজপুর-কাকারা, মানিকপুর, বরইতলী, ভেওলা, কৈয়ারবিল, খিলছাদেক ও গোবিন্দপুর এবং পেকুয়ার মগনামা, রাজাখালী ও পেকুয়া সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ ঘরের আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক এলাকায় আমন ধানের বীজতলা ও শাকসবজির খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং চিংড়ি ঘের ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
 
পাহাড়ি ঢলের পানি গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমিতে উঠে আসায় বিভিন্ন স্থানে চাষের মাছ ভেসে গেছে। প্লাবিত ফসলি জমি ও বিলে স্থানীয় অনেক মানুষকে জাল এবং বিভিন্ন দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে মাছ ধরতে দেখা গেছে।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি পাহাড় কেটে সমতল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কোদাল দিয়ে পাহাড়ের মাটি কেটে ভবিষ্যতে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। শুষ্ক মৌসুমে পাহাড় কাটলে প্রশাসনের নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকায়, অনেকেই ভারী বৃষ্টিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম থাকায় কাটাও তুলনামূলক সহজ হয়। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
 
টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যেই চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখায় চরম ঝুঁকি ও ভোগান্তির মুখে পড়েছে হাজারো শিক্ষার্থী। সকালে শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় দিয়ে কিংবা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা যায়।
 
পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) ইউনিটের লিডার মনিরুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে যারা আছেন, তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
 
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি সব সময় খোঁজখবর রাখছি কোথাও কোনো বেড়িবাঁধ ভাঙছে কি না বা পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
 
রকিবুল হাসান/এসএন

রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা, প্রস্তুত ৪৪ আশ্রয়কেন্দ্র
ছবি: খবরের কাগজ

অতিবর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জেলা শহরসহ ১০ উপজেলায় পাহাড়ধসের সতর্কতা জানিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে প্রচার চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলায় ৪৪টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যেই শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুইক রেসপন্স টিম ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রাখার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল আটটার দিকে জেলার বাঘাইছড়ি লাইল্যাঘোনা এলাকায় গড়িয়ে পড়া গাছের গুড়ির আঘাতে লক্ষিবিলাশ চাকমা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে রাঙামাটির কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বালুচরা এলাকায় সকালে পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে মাটি ও গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। 

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল থেকে জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। থেমে থেমে চলছে মাঝারি ও ভারী বর্ষণ। তবে সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। আজও করা হয়েছে মাইকিং। ভারী বৃষ্টিপাত দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছেন, তাদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যেতে বলা হয়েছে। 

এরমধ্যে মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত শহরের লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ২১টি পরিবারের শিশুসহ ৭০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসন থেকে তাদের খাবারের ব্যবস্হা করা হয়েছে।

আশ্রয় নেয়া নুরজাহান বেগম( ৫০) বলেন, 'আমরা পাহাড়ের নীচে থাকি। টাকা পয়সা নাই। না হলে সমতলে থাকতাম। বৃষ্টিবাদল আসলেই আমরা এখানে আশ্রয় নেই'।

গৃহিনী রহিমা বেগম( ৫০) বলেন, ঘরের মধ্যে মাটি এসে পড়ছে। এজন্য আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। বৃষ্টি হলেই এখানে আসা লাগে। কী করব, গরীব মানুষ। সরকার স্থান (অন্য জমি) না দিলে কোথায় যাবো?

এরআগে দুপুর দুইটার দিকে শহরের লোকনাথ মন্দির এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নসজমা আশরাফী। এসময় ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। 

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে মানুষের জীবন বাঁচানোকে আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। মানুষকে সচেতন করছি। যাতে পাহাড় ধস কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন জীবনহানি না হয়। উদ্ধার ও নিরাপত্তার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ ও রেসপন্স টিম আছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে'। 

জেলা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্যাচিংনু মারমা জানান, জেলায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই সকাল ৬ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৯.৩০ মিলিমিটার ও সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ১৯০.৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি আরও বাড়তে পারে।

রাঙামাটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় ৫ হাজার পরিবারে অন্তত ২০ হাজার মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে শহরের লোকনাথ মন্দির, বেতার এলাকার নতুনপাড়া, শিমুলতলী, টিভি স্টেশন এলাকার রূপনগর, যুব উন্নয়ন এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে রাঙামাটি জেলায় কী পরিমাণ মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বাস করছেন তার পরিসংখ্যান নেই জেলা প্রশাসনের কাছে। জেলায় লক্ষাধিক মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। 

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
কিনব্রিজের পাদদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপন
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে মিউজিক্যাল পারফর্মেন্সের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণে মিউজিক্যাল পারফর্মেন্সের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে থাকা একটি মিউজিক্যাল টিম বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে কিনব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর প্রাঙ্গণ মুখড়িত করে।

এই মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাথে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত থেকে পরিবেশনা উপভোগ করেন।

এর আগে সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন নগর ভবনে সিসিক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সিসিক প্রশাসক রাষ্ট্রদূতকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। তিনি সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিকসেবা এবং নগর উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এর হাতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চা-পাতার রেপ্লিকা এবং সিলেটের বিখ্যাত চা উপহার হিসেবে তুলে দেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের জন্য ঐতিহ্যবাহী সাত রঙের চা প্রস্তুত ও পরিবেশন করেন এর কারিগর।

রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তা এরিক গিলান, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর মনিকা এল. সাই, ডেপুটি ডিরেক্টর রিচার্ড ব্রুনার এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা ফিরোজ আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

সাক্ষাৎকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত)রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, জনসংযোগ কর্মকর্তা (অ.দা.) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ সহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শাকিলা ববি/এসএন

চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
চট্টগ্রামে দেয়ালধসে নিহত ১, শিশুসহ আহত তিন
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে প্রবল বৃষ্টিতে দেয়ালধসে একজন নিহত হয়েছে এবং শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেন। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে পূর্ব নাসিরাবাদ রহমান নগর বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের মাথায় প্রবল বৃষ্টির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম শফিকুল রহমান (৪০)। আহতরা হলেন নিহতের শ্বাশুরী মনজিরা বেগম (৫২), দেড় বছরের মেয়ে সাইফা ও ছেলে তুহান (৪)। নিহত শফিকুল ভ্যানগাড়িতে মাছের ব্যবসা করতেন। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে রহমান নগর এলাকায় বসবাস করছিলেন।

হতাহত পরিবারের আত্নীয় প্রত্যক্ষদর্শী শরিফা বেগম বলেন, ঘটনায় সময় আমার মামা শফিকুল ঘুমের মধ্যে ছিলেন। এ সময় দেয়াল ধসে পড়ে। আমার মামা দেয়ালের নীচে চাপা পড়েছে। আহত আমার নানু ও সন্তানদের নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে চলে আসি।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। আরও তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে দেয়ালটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হঠাৎ ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মোহাম্মদ মামুন বলেন, বিকেল সাড়ে দিনটার দিকে বিকট শব্দে একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে। এতে একজন দেওয়ালের নীচে চাপা পড়েছে। তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস। অন্যদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাঈম/