ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে অপরিপক্ক ধান কেটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
ধান কাটতে হচ্ছে চওড়া মজুরিতে। কিন্তু ধানের নায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। ২২ হাজার টাকা মজুরি দিয়ে কাটা ধানের দাম উঠেছে মাত্র ১০ হাজার টাকা।
‘এই টাকা দিয়া কী করুম! ঋণের কিস্তি কেমনে দিমু? মরা ছাড়া আর উপায় নাই!', অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নাসিরনগরের কৃষাণী বিলকিস খাতুন।
অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলের পানিতে নাসিরনগরের মেদীর হাওরে অন্তত ৩০৫ হেক্টর বোরে ধানের জমি তলিয়ে গেছে।
হাওরে এখনও বিলকিস বেগমের ১০ কানি জমির ধান তলিয়ে আছে। শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটতে পারছেন না তিনি। তবে এই অবস্থা শুধুমাত্র বিলকিস বেগমের নয়। সবমিলিয়ে দুই হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমি রয়েছে হাওর এলাকায়।
প্রথম দিকে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ মজুরি দিয়ে ধান কাটা গেলেও বর্তমানে ১২০০ টাকায়ও মিলছে না শ্রমিক।
বিলকিস বেগমের মতো প্রায় দুই হাজার কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল এখন পানিতে নিমজ্জিত। বৃষ্টিপাতের আগে কাটা ধানগুলোও রোদে শুকাতে না পারায় নষ্ট হওয়ার পথে।
মেদীর হাওরের কৃষক আবুল কাশেম জানান, জমির ধান বিক্রি করেই পরিবার ও তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালান তিনি। কিন্তু ঢলের পানিতে ৫ কানি জমির সব ধান তলিয়ে গেছে। বাজারে ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, হাওরে পানি বাড়ছে। তবে নতুন করে আর কোনো জমি প্লাবিত হয়নি। বৃষ্টিপাত শুরুর আগেই ৬০ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়ে গিয়েছিল। তাই ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
আজিজুল/আমান