ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে মিশর টাইব্রেকারে গড়াল মিশর-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড অতিরিক্ত সময়ে গড়াল অস্ট্রেলিয়া-মিশর ম্যাচ আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে কারা জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার মিশরের আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় সতর্কবার্তা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে মিশর বন্যার ঝুঁকিতে জুলাই-আগস্ট, সতর্কবার্তা এফএফডব্লিউসির খামেনির প্রতি বাংলাদেশের শেষ শ্রদ্ধা, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে স্পিকার মোমেনার জন্মদিনে কোয়ান্টাম মঞ্চে ‘গোধূলিবেলায়’ ‘আমি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু’—নতুন দাবি ট্রাম্পের শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার ঝিনাইদহে বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি, উপজেলা জামায়াতের আমির অব্যাহতি মিশরকে হারালেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি ফ্রান্সে তীব্র দাবদাহে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচে কি খেলবেন মোহাম্মদ সালাহ? সুরের মূর্ছনায় ফিরল বর্ষার স্নিগ্ধতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর জোর মির্জা ফখরুলের মিশরের ফুটবলারদের সঙ্গে ডালাস পুলিশের হাতাহাতি ভিসা স্বাভাবিক, তবে চীন-ভারত সমীকরণে কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান, রাতে পরীক্ষা দেবেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী বস্তুনিষ্ঠতাই গণমাধ্যমের একমাত্র মানদণ্ড: তথ্যমন্ত্রী কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির

সাইরেনের শোকসুর: সহকর্মীদের ব্যতিক্রমী শেষ বিদায়

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
সাইরেনের শোকসুর: সহকর্মীদের ব্যতিক্রমী শেষ বিদায়
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর আকাশে তখন বিকেলের নরম আলো। কিন্তু সেই আলো ছাপিয়ে শহরজুড়ে নেমে আসে এক গভীর শোকের আবহ। একসঙ্গে বেজে ওঠা অন্তত ২৫টি অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন যেন জানিয়ে দিচ্ছিল—আজ বিদায় নিচ্ছেন এমন একজন, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অন্যের জীবন বাঁচাতেই ছুটে বেড়িয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালক নুর আলম ও তার ছেলে নুর হাসনাত নিরবের শেষযাত্রায় সহকর্মীদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা ছুঁয়ে গেল পুরো জনপদকে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ফেনীর মিজান ময়দানে জানাজা শেষে নুর আলম ও তার ছেলের মরদেহ পৃথক দুটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এরপর অন্তত ২৫টি অ্যাম্বুলেন্সের একটি দীর্ঘ শোকবহর সাইরেন বাজিয়ে সোনাগাজী উপজেলার রাজাপুর গ্রামর উদ্দেশে রওনা দেয়।

যে মানুষটি বছরের পর বছর অসুস্থ, দুর্ঘটনাকবলিত ও বিপদে পড়া মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ছুটে বেড়িয়েছেন, শেষ বিদায়ে তাকেই বহন করলো সহকর্মীদের দীর্ঘ অ্যাম্বুলেন্স বহর। সাইরেনের শব্দে শহরের ব্যস্ত সড়কগুলো যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। পথচারীরা থেমে দাঁড়ান, কেউ কেউ নীরবে তাকিয়ে থাকেন—একজন মানুষের প্রতি সহকর্মীদের এই গভীর ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করতে।

ফেনী জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নুর আলম শুধু একজন চালক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন মানবিক মানুষ, যিনি যেকোনো বিপদে সবার আগে এগিয়ে যেতেন। তাই তার শেষযাত্রায় সহকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন।

সহকর্মী চালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন তারা মানুষের জীবন বাঁচাতে ছুটে চলেন। কিন্তু নিজেদের একজনকে এভাবে বিদায় জানাতে হবে, তা কখনো ভাবেননি। সাইরেন বাজানোর সময় বারবার চোখ ভিজে উঠছিল তার।

আরেক চালক জামাল উদ্দিন জানান, নুর আলম ছিলেন সবার প্রিয়। কোনো সহকর্মী সমস্যায় পড়লে তিনি সবার আগে পাশে দাঁড়াতেন। তাই তার শেষ বিদায়ে কেউ ডাকা ছাড়াই সবাই নিজ দায়িত্বে এসে শামিল হয়েছেন।

সন্ধ্যার দিকে বহরটি রাজাপুর গ্রামে পৌঁছালে সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারি, প্রতিবেশীদের কান্না আর হাজারো মানুষের ভিড়ে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। একনজর শেষবারের মতো দেখার জন্য বাড়ির সামনে মানুষের ঢল নামে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসঙ্গে এত অ্যাম্বুলেন্সের শোকবহর তারা আগে কখনো দেখেননি। সাইরেনের শব্দে মনে হচ্ছিল পুরো গ্রাম যেন শোকে নীরব হয়ে গেছে। একজন সাধারণ মানুষের প্রতি সহকর্মীদের এমন সম্মান ও ভালোবাসা সত্যিই বিরল—এ দৃশ্য অনেককেই চোখের পানি আটকে রাখতে দেয়নি।

পরে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে বাবা-ছেলেকে দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার হাফেজিয়া এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাস মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নুর আলম। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তার ছেলে নুর হাসনাত নিরব। এ ঘটনায় আহত হন তার ভাগিনা আফজাল মিঠু।

এসএন/

ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
সজীব মাতুব্বর। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন শেখ (২২) নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিবসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। 

এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার পূর্ব হাশামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর।

নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন শেখ ও সামেলা বেগমের ছেলে ছিলেন। তিনি পেশায় একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ছিলেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। পরবর্তী কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত সুমনের মা সামেলা বেগম বলেন, ‘সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সুমন হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা আইন অনুযায়ী চলবে। এ মামলায় কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীবের শর্টগানের গুলিতে সুমন নিহত হন। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ওই এলাকায় দফায় দফায় আন্দোলন চলছে।

এনকেবি নয়ন/রিফাত/

মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
মামার লাঠির আঘাতে আহত ভাগ্নের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শিশেরকুন্ডু গ্রামে মামার লাঠির আঘাতে ভাগ্নে নিহত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আবু বক্কর (৩০) ওই গ্রামের আলী আকবর’র ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার শিশেরকুন্ডু গ্রামের আবু বক্করের সাথে তার মামা সিরু মিয়ার জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। মঙ্গলবার রাতে বিরোধপুর্ণ ওই জমির বাঁশ কাটা নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মামা সিরু মিয়া লাঠি দিয়ে আবু বক্করের মাথায় আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হলে প্রথমে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় রেফার্ড করে চিকিৎসক। শুক্রবার দুপুরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আবু বক্কর।

কোটচাঁদপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
টুঙ্গিপাড়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ। ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় কলা খাওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছর বয়সি মাদরাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জাকির হোসেন শেখ (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তারাইল সিমানার খাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মহিলা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখ পাটগাতী সর্দারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

শিশুটির চাচা বলেন, শুক্রবার দুপুরে শিশুটি পানি আনতে গেলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন তাকে কলা খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার দিলে তার মা দরজায় ধাক্কা দেন। তখন জাকির হোসেন শিশুটিকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে।

শিশুটির বাবা বলেন, দুপুরে খাওয়ার সময় শিশুটিকে চাপকল থেকে পানি আনতে বলি। তখন সে পানি আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

বাদল/এএফ

সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
সোনারগাঁয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করায় প্রাণনাশের হুমকি
নোবেল মীর। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় শম্ভুপুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক নোবেল মীর। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে উদ্ভবগঞ্জ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেন। 

তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলা হামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজের দলের লোকজনের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দফায় দফায় প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানায় নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করছেন। পুলিশ সাধারণ ডায়েরির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও কোনো প্রতিকার পাননি। 

তিনি দাবি করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমও চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিনিও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে জাহাঙ্গীর আলম কৌশলে ১৪ বছর আগের একটি চেক চুরি করে নিয়ে বর্তমানে ‘চেক ডিজঅনার’ মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে হুমকির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তবে আমাকে তিনি উল্টো ইউনিয়ন পরিষদে সবার সামনেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ইমরান/রিফাত/

নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
নোয়াখালীতে ইমামের সঙ্গে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী
ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন এবং প্রবাসীর স্ত্রী নিশাত আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে তিন সন্তানকে বাবার বাড়িতে রেখে মসজিদের ইমামের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন নিশাত আক্তার নামে এক কানাডা প্রবাসীর স্ত্রী।

শুক্রবার (৩ জুলাই) নিশাতের মা নাজমা আক্তার (৬০) জানান, পালানোর সময় তার ঘর থেকে ওই মেয়ে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন।

এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত ইমাম মো. রিয়াজ হোসেন, মেয়ে নিশাত আক্তার এবং রিয়াজের পিতা খোরশেদ আলম ও মাতা কুলসুম আক্তারকে আসামী করে চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৭ জুন হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের সেকান্দর মাস্টার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমাম রিয়াজ হোসেন (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর করপাড়া ইউনিয়নের করপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। অন্যদিকে নিশাত আক্তার (৩০) চাটখিলের উত্তর নারায়ণপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফের মেয়ে। তার স্বামী দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিশাতের স্বামী কানাডা থাকার সুবাদে তিন সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। এ সুযোগে বাড়ির পাশে চাটখিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের ইমাম মো. রিয়াজ হোসেনেস সঙ্গে নিশাতের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে গত ২৭ জুন দুপুরে রিয়াজ ও নিশাত কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় নিশাত তার ৩ সন্তানকে কৌশলে বাবার বাড়িতে রেখে যান।

নিশাতের মা নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়ার সময় নিশাত তার ঘর থেকে নগদ ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, ৬টি স্বর্ণের আংটি, ৫টি চেইন, ২টি ব্রেসলেট এবং ১৪ জোড়া কানের দুলসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও স্বামীর বাড়ির কথা বলে নিশাত তার ঘর থেকে টিভি, হাঁড়ি-পাতিল, বিদেশি কম্বল, ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস এবং তার নিজের ব্যবহৃত দুই লাখ টাকার একটি স্কুটিসহ যাবতীয় মালামাল নিয়ে যান।’

এদিকে নিশাতে শয়ন কক্ষ তল্লাশি করে রিয়াজ ও নিশাতের বিবাহের একটি যৌথ হলফনামা ও এফিডেভিট উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন। নোয়াখালীর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ওই হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তারা গত ৪ মে পূর্বের কাবিননামা বাতিল করে পুনরায় নতুন কাবিননামা নির্ধারণপূর্বক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিয়ের পরেও নিশাত পরিকল্পিতভাবে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে সুযোগ বুঝে এ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ‘এ ঘটনায় মেয়ের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতোমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করাসহ আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মজনু/রিফাত/