দখিনা বাতায়ন। দোতলা ঘর। পড়ার টেবিল ঠিক বাতায়ন বরাবর। বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। পরিবেশটা স্বস্তিময়। পবন যখন বাতায়ন গলে প্রবেশ করে, কী মধুময় অনুভূতি জাগে মন শরীরে, বলে বোঝানো দায়!
এমন প্রত্যাশা কাজ করে সজীবের মনে। সজীব শান্ত-শিষ্ট ধরনের ছেলে। কারও সাতে পাঁচে নেই বললেই চলে। অপ্রয়োজনে কারও দিকে তাকাবেও না। তবে জানার আগ্রহ প্রবল। বয়স যতটুকু তার চেয়েও যেন বেশি ভাবে। পড়ার টেবিলে পড়ালেখার পাশাপাশি বসে বসে সব সময় ভাবনা মনে উৎসুক।
এই পৃথিবীর সৃষ্টির রহস্য কী? পৃথিবী নামক গ্রহের বাইরেও অন্য প্রাণীর অস্তিত্ব আছে?
ইতোমধ্যে বিজ্ঞানীরাও আছে বলে অনুমান করছে। যাদের এলিয়েন নামে অভিহিত করেছে বিজ্ঞানীরা। আসলেই এলিয়েন মানে কী? এটাই সজীবের মনে কৌতূহল।
অনেকে বলে এলিয়েনরা নাকি মানুষের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান। ওরা যদি এতই বুদ্ধিমান হয়, তাহলে ওরা আমাদের পৃথিবীর সঙ্গে এতদিন পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করেনি কেন?
এই যে আমরা পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে চাঁদে পৌঁছালাম, মঙ্গলে গেলাম এলিয়েনরা এত বুদ্ধিমান হলে চাঁদে, মঙ্গলে বা পৃথিবীর কোনো স্থানেই আজ পর্যন্ত কোনো মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি বা হয়নি কেন? এখানেই সত্য-মিথ্যা প্রশ্নের একটা অবকাশ তো থাকার কথা?
বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এলিয়েনদের বসবাস কোথায়, কোন গ্রহে? সেই বহুকাল আগে গ্যালাক্সিজুড়ে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে মাইক্রোওয়েভ বেতার তরঙ্গ ব্যবহার শুরু করছে জ্যোতিবিজ্ঞানীরা। তবে আজ পর্যন্ত এই বিশাল মহাবিশ্বে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের অনুসন্ধানে কোনো সফলতা পায়নি। তবুও বিজ্ঞানীরা আশাহত হয়নি, প্রচেষ্টা রেখেছে অব্যাহত।
অনেকে মত প্রকাশ করে এলিয়েনরা অবশ্যই আছে, তবে সদা চোখে আমরা এলিয়েনদের অস্তিত্ব অনুভব করতে অক্ষম কিন্তু এলিয়েনরা আমাদের সম্পর্কে ধারণা রাখে।
এটা নিয়ে সজীবের কোমল মনে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। কেন আমরা এলিয়েনদের দেখতে পাই না? এদের আকৃতি কাদের মতো? মাঝে মধ্যে পেপার পত্রিকায় যেসব এলিয়েনদের ছবি ছাপা হয় এগুলো তো দেখতে ভূতের মতো।
ভূতের মতো বললেও রহস্য এখানেও বিদ্যমান। কেননা, ভূত বলে যে কিছু একটা আছে এটারও কোনো বাস্তবিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ভূত নামক কিছুর অস্তিত্ব আসলেই আছে কি না এটা নিয়েও সন্দিহান।
তাহলে কি দুটো নামকে একত্রে যুক্ত করে ভূতেলিয়েন বলা সমীচীন? হয়তো কোনো এক দিন আসবে এই নামেই অভিহিত হতে পারে যদি কোন অস্তিত্ব খুঁজে পায় ভূত বা এলিয়েনদের। ভূতের কল্প কাহিনি সেই বহু প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত রয়েছে এবং আজও বিদ্যমান।
প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের ফলে বিজ্ঞানীরা নিত্যনতুন গবেষণায় প্রলুব্ধ হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সাফল্যও অর্জন করছে। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরের সৃষ্টি রহস্য উদঘাটনে আকৃষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারই ধারাবাহিকতায় মানুষের চেয়েও যে বুদ্ধিমান প্রাণীর বসবাস আছে বা থাকতে পারে ভিন্ন কোন গ্রহে এমন ধারণা পোষণ করে বিজ্ঞানীরা।
প্রকৃত রহস্য কোনো না কোনোদিন হয়তো আবিষ্কার করবে? বিজ্ঞানীরা যেহেতু প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেহেতু আজ না হয় কাল সফলতার ফানুস উড়বেই। এমনটিই অনুধাবন করে সজীব।
আমরা সাধারণ মানুষ ভূতের কাণ্ড কাহিনি অনেকেই বিশ্বাস করি কিন্তু কেউ কোনোদিন ভূত দেখেছে তার কোনো প্রমাণ নেই। বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য এলিয়েনের যেই ছবি প্রকাশ করছে ওগুলো দেখতে আমরা সাধারণ মানুষের কল্পনা করা ভূতের মতো। সজীব এগুলোর নামকরণ সাজিয়েছে ভূতেলিয়েন।
কলি