ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে নবান্ন উৎসবের ধরণটা আবার ভিন্ন। বালি দ্বীপে শস্য ও উর্বরতার দেবীর নাম শ্রী। ফসল তোলার সময় নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় মাসব্যাপী উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে। ফসলী জমি থেকে খারাপ আত্মা দূর করার জন্য মাঠে মাঠে দেবী শ্রী-এর প্রতিকৃতি বসানো হয়। উৎসবে রংবেরঙের পতাকা ওড়ানো হয়, ষাড়েঁর লড়াই চলে। আর নতুন ফসল দিয়ে তৈরি নানা রকম খাবার-দাবার তো আছেই।
বাংলাদেশ
নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে চালের প্রথম রান্না উপলক্ষ্যে বিশেষ উৎসব পালন করা হয় বাংলাদেশে। নবান্ন উৎসব নামে এই উৎসবটি সাধারণ অগ্রহায়ণ মাসে পালন করা হয়। কোথাও আবার মাঘ মাসেও উদযাপন করা হয়। উৎসব নতুন চালের পিঠা, পায়েস তৈরি হয় এবং পাড়া-পড়শি ও আত্মীয়পরিজন মিলে খাওয়া হয়। অঞ্চলভেদে জারি, সারি, মুর্শিদি, লালন, পালা ও বিচার গানেরও আয়োজন থাকে।
ভারত
ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন নামে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। মকর সংক্রান্তি, থাই পোঙ্গাল, উত্তরায়ানা, লহরি এবং মাঘ বিহু বা ভোগালি বিহু। এর মধ্যে পোঙ্গাল উৎসব হয় নতুন ধান তোলার সময়। এ উৎসব উৎসর্গ করা হয় সূর্য দেবতা সুরিয়াকে। গরু ও গরুর শিংকে সাজানো হয়। দুধ ও গুড় দিয়ে নতুন চালের পায়েশ তৈরি করা হয় পোঙ্গাল উৎসবের বিশেষ খাবার হিসেবে।
ভিয়েতনাম, চীন, তাইওয়ান
ভিয়েতনামে মধ্য হেমন্তে ফসল তোলার যে উৎসব চলে, সেটা ত্রুং থু নামে পরিচিত। উৎসব উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হয়। তৈরি করা হয় মুখোশ, ড্রাগন, বাতি। চলে নাচ-গান। চীন, তাইওয়ানে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শুরুতে নতুন ফসলের উৎসব পালিত হয়। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ফানুস ওড়ানো। এছাড়া কেকসহ নানারকম খাবারের আয়োজন থাকে উৎসবকে ঘিরে। থাকে নানান খেলা ও অনুষ্ঠান।
ওয়াংগালা
গারোদের ফসল তোলার উৎসবের নাম ওয়াংগালা। ওয়াংগালার মানে শত ড্রাম। এই উৎসবে একশ ড্রাম বাজিয়ে রীতি পালন করা হতো একসময়। ভারতের মেঘালয়, নাগাল্যান্ড ও আসাম এবং বাংলাদেশের ময়মনসিংহে বসবাসকারী গারোরা এ উৎসব পালন করে। উৎসবে ধান তোলার জন্য সূর্য দেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। উত্তর-পূর্ব ভারতে ওয়াংগালা সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে পালিত হয়। ড্রামের তালে নাচগানের সঙ্গে চলে খাওয়া দাওয়া। প্রায় সবাই উৎসব উপলক্ষ্যে নতুন কাপড়-চোপড় পরে।
কলি