ঢাকা ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বন্যার্তদের পাশে তৌসিফ, দিলেন আর্থিক সহায়তা বদ্বীপ থেকে ডিজিটাল ক্যানভাস: বাংলাদেশি লোকশিল্পের রূপান্তর স্পেন জাতীয় ফুটবল দলকে কেন বলা হয় ‘লা রোজা’? ম্যাচ বিরতিতে বারবার কুলকুচি কেন করেন ফুটবলাররা? জাহিদ হাসানের ‘পথহারা মন’ ধোলাইখালে সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ ডাকসুর ভিপিসহ ছাত্রশিবির ছাড়লেন কেন্দ্রীয় ৯ নেতা ফ্রান্সকে কেন লে ব্লুজ বলা হয়? ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল ঘিরে আটলান্টায় কঠোর নিরাপত্তা জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের মৃত্যুদণ্ড মাইকেল অলিভার ও অ্যান্টনি টেলর কেনো আর ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না? বন্যাদুর্গত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির জীববিজ্ঞান ২য় পত্র কোকা-কোলা বাংলাদেশে ফ্রন্ট লাইন মার্কেটিং পরিচালক লায়লা ফারজানা দেওয়ানগঞ্জে নদীভাঙন কবলিত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর কাজ চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরে ফ্ল্যাটে অচেতন হয়ে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সংস্কারে আইএমএফ সম্মত হয়েছে: অর্থমন্ত্রী লালদিয়াচর টার্মিনালের চুক্তি বাতিল বা পুনঃচুক্তি হবে না: নৌপরিবহনমন্ত্রী ইউএনও পরিচয়ে ফোন করে চাওয়া হচ্ছে বন্যার্তদের তালিকা, সতর্ক থাকার আহ্বান বাংলাদেশ ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির রোল মডেল হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অতিবৃষ্টি ও বন্যা কেন আসে? ‘আসুন চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলতে’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বন্যার শঙ্কা বর্তমান পারফরমেন্স কে এগিয়ে ফ্রান্স না স্পেন? শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারে পানি নামলেও কমেনি দুর্ভোগ মারিয়ানো রাখয়ের বর্ণবাদী মন্তব্যে যা বললেন স্পেন ডিফেন্ডার সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদান

মঙ্গল মিশন ১০১

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:১০ এএম
মঙ্গল মিশন ১০১
ষষ্ঠ শ্রেণি, উদয়ন উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

পৃথিবীর মানুষ মঙ্গল জয়ের অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। এরপর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত স্পেস এজেন্সি সম্মিলিতভাবে মঙ্গল অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনা করল। আর প্রোগ্রামটির নাম দিল ‘মিশন ১০১’। প্রোগ্রাম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন হামিদুর রহমান তামিম। তিনি পৃথিবীর সব দেশের রকেট পরীক্ষা করলেন। মঙ্গল অভিযানে আগে ব্যবহৃত রকেটগুলো পরীক্ষা করে সমস্যার সমাধান পেলেন না। ২০৬১ সালের ৩ মার্চ রাতে তিনি থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি করা খাবার খেলেন। রাত পেরিয়ে সকাল হলো। তিনি কোনো উপায় খুঁজে পেলেন না। হঠাৎ তার মনে পড়ল কেউ একজন বলেছিল ‘পুরনো কোনো পদ্ধতিতে কাজ না হলে নতুন কোনো পদ্ধতিতে চলো।’ 

তিনি সব শক্তিশালী রকেটের বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে নতুন একটি রকেট আবিষ্কারে মন দিলেন। সেখান থেকে নানা রকেটের মডেল তৈরি করলেন। তারপর গেলেন প্রোগ্রামের জন্য অস্থায়ী হেডকোয়ার্টারে।

২.
এক্সিয়ম
মে ১০, ২০৬১। মিশন হেডকোয়ার্টার, লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

পৃথিবীর সব বড় বড় মহাকাশ সংস্থার সামনে তামিম তার বাছাই করা রকেটগুলো উপস্থাপন করলেন। নাসার প্রধান মি. ফোর্ড বললেন, ‘মি. তামিম, আপনার ডিজাইন করা রকেটটা যে সফল হবে, নিশ্চিত হলেন কীভাবে?’
তামিম বললেন, ‘স্যার, আমার রকেট অনেক দূর যেতে সক্ষম।’
‘যদি ওটা ওখান থেকে ফিরে আসতে না পারে?’
‘এ জন্য আমরা প্লাসমা ব্যবহার করব। এ ছাড়া ব্যাকআপ হিসেবে বিদ্যুৎ থাকবে।’
ইসার প্রধান মেটিও জানতে চাইলেন, ‘রকেটটির নাম কী হবে?’
তামিম জানালেন, ‘এক্সিয়ম’।
মিশন ১০১-এর প্রধান বললেন, ‘আপনারা যারা এর সঙ্গে একমত তারা হলোগ্রাম ট্যাবে ভোট দিন।’
ভোট গণনা শেষে দেখা গেল এক্সিয়ম বেশি ভোট পেয়েছে।

৩.
পাইথন
পাঁচ দিন পর ঠিক হলো মহাকাশযান যেটা মানুষকে নিয়ে মঙ্গলে নামবে, তার নামকরণ করা হলো পাইথন। পাইথন মহাকাশযান বা মঙ্গল ল্যান্ডারটা চাঁদে প্রথম নামা অ্যাপোলো কমান্ড মডিউলের মতো। যদিও অ্যাপোলো কমান্ড মডিউল চাঁদে নামে না, তবে এটা নামে। এটার পুরো নাম পাইথন কমান্ড অ্যান্ড ল্যান্ডিং মডিউল। এটা অ্যাপোলো কমান্ড মডিউলের চেয়ে উচ্চতায় বড়। এমনকি রকেটের বুস্টার সুরক্ষার জন্য রোবোটিক শিল্ড রয়েছে। সব মিলিয়ে পাইথন আবারও ওড়ার জন্য প্রস্তুত।

৪.
হলোগ্রামিক শিল্ড
তামিম বিজ্ঞানীদের একটি দল প্রতিষ্ঠা করলেন। তাদের রকেটটা পুনঃস্থাপন করার মতো নয়। তবু তিনি দমলেন না। দলের এক বিজ্ঞানী হঠাৎ সমাধান নিয়ে এলেন। ‘যদি আমরা রকেটের চারদিকে হলোগ্রাম শিল্ড লাগিয়ে দিই, তাহলে রকেটটি অনেক কিছু থেকে সুরক্ষা পাবে।’ ‘কিন্তু হলোগ্রামিক শিল্ড রি-এন্ট্রির সময় কঠিন তাপমাত্রা কি সহ্য করতে পারবে?’ তামিম জানতে চাইলেন।
বিজ্ঞানী বললেন, ‘অবশ্যই পারবে, তার আগে এর কিছু পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’
হলোগ্রামিক শিল্ড তখন শহর রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতো। ওই সময় ওটা অনেক বড় বড় আঘাত রক্ষা করার জন্য বিখ্যাত। পৃথিবীর অন্যতম কঠিনতম বস্তুর একটি ধরা হয় এটাকে। 
৪ অক্টোবর ২০৬১ হলোগ্রামিক শিল্ডকে নিয়ে একটি রকেট পৃথিবীতে সফলভাবে ল্যান্ড করল। সিদ্ধান্ত হলো, এই হলোগ্রামিক শিল্ড রকেটের চারপাশে লাগানো হবে। শিল্ড প্রযুক্তি অনেকটা চারকোনা কালো বাক্স, যেটা থেকে একটি রশ্মি বের হয়ে ওই রশ্মি রকেটকে সুরক্ষা দেবে।

৫.
এআই পরিচালিত রকেট
মি. ফোর্ড বললেন, ‘তোমরা হলোগ্রামিক শিল্ড তৈরি করলে কিন্তু রকেটের কোনো অংশই পৃথিবীতে ফিরতে পারবে না।’
তামিম বললেন, ‘এ সমস্যার সমাধান আমাদের কাছে আছে স্যার। মি. ইয়ামাতসু আপনি আপনার সমাধান বলুন।’
মি. ইয়ামাতসু সমাধান দিলেন, ‘যদি রকেটের সব অংশে এআই অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করি তাহলে রকেটের বাকি অংশগুলোকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে পারব।’
জ্বালানি তখন খুবই কম থাকবে। তখন আপনি কী করবেন?
‘স্যার, একটি রকেটের দুটি অংশ রয়েছে। রকেটের স্টেজগুলোতে প্রথম জ্বালানি থাকবে গ্লাসমা, যেটা পৃথিবী থেকে রকেটকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয় জ্বালানি হবে বিদ্যুৎ, যেটার মাধ্যমে রকেট আবার পৃথিবীতে অবতরণ করবে। রকেটের পাইথন স্টেজ ছাড়া প্রতিটি স্টেজে এআই সংযুক্ত থাকবে এবং প্রতিটি স্টেজে প্যারাসুট থাকবে, তা হলোগ্রাম ডেস্কে উপস্থাপন করা হলো।’

৬.
এক্সিয়মের বৈশিষ্ট্য
২০ ডিসেম্বর ২০৬১। আরেকবার পৃথিবীর সব মহাকাশ সংস্থা মিটিংয়ে বসল। শুরু করল মিশন ১০১-এর প্রধান মি. ফোর্ড- ‘আমরা সবাই আরেকবার মিটিংয়ে বসেছি, এক্সিয়ম রকেটের নানা বৈশিষ্ট্য, ব্যবহার, ফ্লোচার্ট এবং উড্ডয়ন পরিকল্পনা তৈরি হয়ে গেছে। মি. তামিম এখন এসব উপস্থাপনা করবেন।’
মি. তামিম বৈশিষ্ট্য, ফ্লোচার্ট, হলোগ্রাম উপস্থাপন করলেন। তিনি রকেটের উড্ডয়ন ল্যান্ডিং এবং কার্যক্ষমতা সম্পর্কে বললেন, ‘রকেটটি প্রথমে তার প্লাসমার সাহায্যে শক্তিশালী উড্ডয়ন করবে। আপনারা জানেন যে প্লাসমার ক্ষমতা কত বেশি। এটি পৃথিবীর সঙ্গে মঙ্গলের অরবিট তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলের অরবিট তৈরি করার প্রথম স্টেজ আলাদা হয়ে যাবে। এরপর পাইথন মডিউল হলোগ্রামিক শিল্ডের সাহায্যে মঙ্গলগ্রহে রি-এনট্রি করে প্যারাস্যুটের সাহায্যে নামবে। ওড়ার সময় পাইথন মডিউলের প্লাসমা বুস্টারের সাহায্যে মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে নামবে।’

৭.
টেস্টরানস
ঠিক করা হলো, রকেটটি পাঁচবার মঙ্গলকে কেন্দ্র করে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করবে। প্রথম পরীক্ষায় রকেটটি প্লাসমা বুস্টারের সাহায্যে পৃথিবীর চারদিকে অরবিট তৈরি করবে। তারপর হলোগ্রামিক শিল্ডের সাহায্যে পৃথিবীতে রি-এনট্রি করে প্যারাসুটের সাহায্যে পৃথিবীতে ল্যান্ড করবে। আরও দেখা হবে, দুটি সলিড রকেট স্টেজসহ তিনটি মূল স্টেজ সফলভাবে আলাদা হতে পারছে এবং সফলভাবে পৃথিবীতে নামতে পারছে কি না।’ তামিম পাইথনের সঙ্গে আরেকটি স্টেজ সংযুক্ত করেছে, যা একটি স্পেস স্টেশনের পার্ট। এটা চাঁদে মানববসতি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম লুনার গেটওয়ের মতো কাজ করবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিশনে এটি তৈরি করা হয়ে যাবে। চতুর্থ মিশনে রকেট মঙ্গলের মাটিতে নামবে। পঞ্চম মিশনে মানুষ স্টেশনটিতে প্রথম পা রাখবে। ষষ্ঠ মিশনে বা ঐতিহাসিক মিশনে মানুষ প্রথম মঙ্গলের মাটিতে পা দেবে।

৮.
প্রথম টেস্টরান
২ ডিসেম্বর ২০৬৪। সোনাদিয়া দ্বীপ, বাংলাদেশ। প্রোগ্রামটির জন্য মিশন ১০১ বাংলাদেশে সোনাদিয়া দ্বীপকে নির্বাচিত করল। বাংলাদেশ সব সময় এসব সুপার রকেট তৈরির জন্য বিখ্যাত। তামিমের জন্মভূমি বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা হঠাৎ এত ওপরে উঠে যাবে, কেউ ভাবতেও পারেনি। এ দেশের সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার নাম বেসিয়া (BASEA- Bangladesh Aeronautics and Space Exploration Adminstration)। অধ্যাপক তামিম আগে ওই মহাকাশ সংস্থায় কাজ করতেন। চাঁদে দেশটির একটি কলোনিও রয়েছে।

৯.
মহাকাশচারী
২ জানুয়ারি ২০৬৫। মিশন ১০১ হেডকোয়ার্টার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত বেসিয়া হেডকোয়ার্টারের ভেতরে স্থাপন করা হলো বঙ্গবন্ধু মিশন কন্ট্রোল সেন্টার।
রকেটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে ঢাকা থেকে সুদূরে অবস্থিত কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে অবস্থিত কুদরাত-এ-খুদা স্পেস সেন্টারে।
৬ জানুয়ারি ২০৬৫। সব মানুষবাহী মিশনে যেসব মহাকাশচারী যাবে, তাদের নির্বাচন করা হলো।
পঞ্চম মিশনে যাবে কমান্ডার সৌদি আরবের আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ, কানাডার রিচার্ড মোরালিস, ভারতের সতীশ ভি সিংহ, স্পেনের এলিসিয়া রদ্রিগেজ, রাশিয়ার লেভ কারালোস্কি এবং চীনের লিং চ্যাং, ইতালির ইজিও আর্নোসাজ্জি মঙ্গলে পা দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে বাংলাদেশের আরিফুর রহমান সাকিব। তার দলে থাকবে সাউথ আফ্রিকার নেলসন কালিম্বো, জাপানের কিম হারিহিতো, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড কেনওয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি পার্কার, ফ্রান্সের আর্নো ফ্রেকোর্ড, যুক্তরাজ্যের রিচার্ড আর্নহাম।

১০.
দ্বিতীয় টেস্টরান
২০ সেপ্টেম্বর ২০৬৬। কুদরাত-এ-খুদা স্পেস সেন্টার, সোনাদিয়া দ্বীপ। আরেকবার রকেটটি মঙ্গলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। মঙ্গলের অরবিটে স্টেশন নিক্ষেপ করা এর কাজ।
সময়মতো রকেটটি মঙ্গলে যাওয়ার ট্রান্সফার উইন্ডোতে পৌঁছাল। দুই মিনিটের মধ্যে মঙ্গলের সঙ্গে পৃথিবীর একটি পথ তৈরি হয়ে গেল। তীব্র গতিতে সেই পথ পাড়ি দিল দুই ঘণ্টায়।
পথটি পাড়ি দেওয়ার আগেই প্রথম ইঞ্জিন ও স্টেজ আলাদা হয়ে গেল। দ্বিতীয় স্টেজ অথবা পাইথন মডিউল মঙ্গলের চারপাশে অরবিট তৈরি করল। তারপর ফেয়ারিং খুলে সঙ্গে থাকা স্টেশনের পার্টটি রিলিজ করল।
রকেটের সঙ্গে থাকা স্টেশনের নাম মারশিয়ান গেটওয়ে। রকেটটি এরপর সেখান থেকে সরে পৃথিবীর দিকে রওনা দিল।
মিশন কন্ট্রোল রুমে বসে সবাই পৃথিবীতে নিখুঁতভাবে রকেটকে রি-এনট্রি করতে দেখল।

১১.
ব্যর্থতা
২০৬৮ সালের ১ নভেম্বর, পৃথিবী থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেট মঙ্গলে অরবিটও ঠিকঠাক মতো তৈরি করে। ঢাকার স্টেশন থেকে অধ্যাপক তামিম সবকিছু ঠিকঠাক দেখছিলেন। হঠাৎ এআই বার্তা পাঠানো শুরু করল রকেটটির প্যারাসুট খুলছে না। ইঞ্জিন দিয়ে সফট ল্যান্ডিং করতে পারছে না। মিশন কন্ট্রোল রুমে যেন ঝড় শুরু হলো। কেউ হলোগ্রাম ডেস্কের ওপর ঝড় তুলছে। কেউ আরেকজনের সঙ্গে তর্ক করা শুরু করেছে।
অধ্যাপক তামিম নিজের চেয়ারে বসে রইলেন। তিনি নিজের চোখে দেখলেন পাইথন মডিউল মঙ্গলের মাটিতে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
মিশন কন্ট্রোল সেন্টারের মানুষজন যেন জমে গেল সেন্টারের কেউ কাঁদছে, আবার কেউ মেনেই নিতে পারছে না।

১২.
নতুন ডক
২০৬৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর আরেকটি মিটিং ডাকা হলো। নাসা ও মিশন ১০১-এর প্রধান মি. ফোর্ড বললেন, ‘১ নভেম্বর আমাদের খুবই বড় এক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো। এ সম্পর্কে মি. তামিম কিছু বলবেন।’
তামিম বললেন, ‘আমার দলের ডিজাইন করা রকেটের কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যা এআই-এর।’
জাপানের স্পেস এজেন্সির প্রধান বললেন, ‘এর কোনো প্রমাণ আছে?’
‘রকেটের যে এআই বর্তমানে ব্যবহার করা হয়েছে তা আগের মিশনে ব্যবহার করা এআইগুলোর মতো নয়।’
চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান বললেন, ‘এর কোনো প্রমাণ আছে?’
তামিম বললেন, ‘আমার শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল এআই ভালোমতো পরীক্ষা করা হয়নি। এ জন্য আমি ডুপ্লিকেট আমার কাছে রেখেছি।’
বলেই অধ্যাপক তামিম এআই-এর ওয়ার্কিং কার্ড দেখালেন। হলোগ্রাম প্রোগ্রামারকে ডেকে পরীক্ষা করে দেখা গেল, এআইতে অনেক ভুল রয়েছে। মিশন কাউন্সিল রকেটকে শেষবারের মতো কাজে লাগানোর অনুমতি দিল।

১৩.
বিজয়ের দিন
১৬ ডিসেম্বর ২০৭১। বাংলাদেশের রাস্তায় উৎসবের ছোঁয়া। দেশটির বিজয় দিবস। এই দিন সারা বিশ্বের মানুষ এবং দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে বাংলাদেশের ১০০ বছর পূর্তি এবং মানুষের প্রথম পায়ের ছাপ পড়বে মঙ্গলে। অবশ্য রকেট লঞ্চ হবে ১৫ ডিসেম্বর রাত ১২টায়।
রাত ১২টা। সোনাদিয়া দ্বীপ। রকেটে কিছু মহাকাশচারী উঠলেন।
রাত ১টা। রকেট লঞ্চ হলো। রকেটটি অবশ্য সরাসরি মঙ্গলে যাবে না।
প্রথমে রকেট চাঁদে নামবে। এরপর গেটওয়ে হয়ে মঙ্গলে নামবে।
ভোর ৩টা। তামিম দেখলেন রকেট চাঁদে ল্যান্ড করছে। 
কমান্ডার হামিদুর রহমান তামিম বললেন, ‘চাঁদে সফলভাবে আমরা ল্যান্ড করেছি। রসদ নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’
বেলা ৩টা। চাঁদ থেকে মঙ্গলের দিকে রকেট রওনা দিল।
সন্ধ্যা ৬টা। মার্শিয়ান গেটওয়েতে পাইথন ডক করল।
সন্ধ্যা ৭টা। মার্শিয়ান গেটওয়ের দিকে রওনা দিল।
সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট। পাইথন মঙ্গলে রি-এনট্রি করল। সাকিব বললেন, ‘মঙ্গলের প্যারাসুটের হাতল ধরে গণনা করছি থ্রি টু ওয়ান। প্যারাসুট খুলেছে মঙ্গলের মাটিতে নামছি থ্রি টু ওয়ান। আমরা মঙ্গলের মাটিতে নামার জন্য প্রস্তুত হব।
সঙ্গে সঙ্গে পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠল। আকাশে বাজি ফুটতে লাগল। মিশন কন্ট্রোল রুমে সবাই আনন্দে দিশেহারা হয়ে উঠলেন। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল সাকিব মঙ্গলের মাটিতে প্রথম পা রেখেছেন। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে দ্বিতীয় আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল। অধ্যাপক তামিম শুনতে পেলেন সাকিব বলছেন- ‘নিল আমস্ট্রংয়ের বিখ্যাত বাণী নিজের সংস্করণ বলছি One small step of a man in mars. One collosal leap for mankind.’

জাহ্নবী

ব্যাঙের শিক্ষা

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:০০ পিএম
ব্যাঙের শিক্ষা
এঁকেছেন মাসুম

এক বনে ছিল ছোট্ট এক কুনোব্যাঙের ছানা, নাম তার টুপ্পু। টুপ্পু দেখতে যেমন গোলগাল আদুরে, তেমনি তার স্বভাব ছিল ভীষণ চঞ্চল। সারা দিন সে টুপটাপ করে এখানে-সেখানে লাফিয়ে বেড়াত। কিন্তু তার একটা মস্ত বড় দোষ ছিল–সে কারও কথা শুনত না, বড়দের দেওয়া কোনো নিয়মকানুন বা শিক্ষা একদম পাত্তা দিত না। সে মনে মনে ভাবত, ‘আমি তো এত সুন্দর লাফাতে পারি, পোকা ধরতে পারি, আমার আবার নতুন করে শিক্ষার কী দরকার?’
বর্ষাকাল শুরু হতেই বনের চারপাশ পানিতে থই থই করতে লাগল। টুপ্পুর বাবা-মা তাকে ডেকে বললেন, ‘টুপ্পু, বর্ষার সময় বনের বড় দীঘিটায় কিন্তু একদম যাবে না। ওখানে একটা মস্ত বড় বোয়াল মাছ আর একটা ধূর্ত বক ওঁৎ পেতে থাকে। বড়দের কাছ থেকে আগে শেখ, কীভাবে বিপদে নিজেকে রক্ষা করতে হয়।’
টুপ্পু তার স্বভাবসুলভ কায়দায় ঠোঁট উল্টে বলল, ‘ধুর! আমি সব জানি। আমার চেয়ে ভালো কে লাফাতে পারে? আমার কোনো শিক্ষার দরকার নেই।’
এই বলে সে নিজের খেয়ালে গান গাইতে গাইতে দীঘির দিকে রওনা দিল।
দীঘির পাড়ে এসে টুপ্পু মনের সুখে লাফালাফি শুরু করল। ঠিক তখনই পাশের একটা কচুরিপানার আড়ালে বসে থাকা এক মস্ত বুড়ো কচ্ছপ তাকে দেখে বলল, ‘খোকন ব্যাঙ, এভাবে খোলা জায়গায় থেকো না। আকাশের দিকে তাকিয়েছ? ওই দেখো, বকপাখি উড়ছে। বিপদ চেনার শিক্ষাটা অন্তত নাও!’
টুপ্পু কচ্ছপ দাদুর কথা হেসেই উড়িয়ে দিল। সে বলল, ‘আরে দাদু, বক তো সাদা ধবধবে, দেখতে কত সুন্দর! ও কেন আমার ক্ষতি করবে? তোমরা বড্ড বেশি ভয় পাও।’
কিছুক্ষণ পর টুপ্পুর খুব খিদে পেল। সে দেখল দীঘির জলের ওপর সুন্দর একটা লালচে রঙের ফড়িং ভাসছে। ফড়িংটা অদ্ভুতভাবে নড়াচড়া করছে। টুপ্পু তো ভারি খুশি! সে ভাবল, ‘বাহ্! আজ তো চমৎকার শিকার পেয়েছি।’
এক লাফে ফড়িংটা ধরতে যাবে, এমন সময় দীঘির অভিজ্ঞ এক বুড়ো কোলাব্যাঙ দূর থেকে চিৎকার করে বলল, ‘টুপ্পু, থামো! ওটা আসল ফড়িং নয়। ভালো করে লক্ষ করো, ওটা বোয়াল মাছের জিভের ডগা! শিকারি মাছেরা ওভাবে শিকার ভোলায়। বড়দের কাছ থেকে এই শিক্ষাটা নাও!’
কিন্তু টুপ্পু তো কারও বারণ শোনার পাত্র নয়। সে মনে মনে বলল, ‘সবাই আমাকে শুধু জ্ঞান দিতে আসে!’ সে কথা না শুনেই দিল এক মস্ত লাফ।
যেমন লাফ দেওয়া, অমনি জলের নিচ থেকে হা করে বেরিয়ে এল বোয়াল মাছের মস্ত বড় মুখ! টুপ্পু তো ভয়ে হিম হয়ে গেল। একদম শেষ মুহূর্তে সে বুঝতে পারল বড়দের কথা না শোনার পরিণতি কী। বোয়াল মাছটি কামড় দেওয়ার ঠিক এক সেকেন্ড আগে টুপ্পু তার সর্বশক্তি দিয়ে উল্টো দিকে একটা আছাড় খেয়ে লাফ দিল। কোনোমতে বোয়াল মাছের ধারাল দাঁত থেকে বেঁচে সে ডাঙায় এসে আছাড় খেয়ে পড়ল।
কিন্তু বিপদ সেখানেই শেষ হলো না। ডাঙায় পড়তেই তার মাথার ওপর এসে পড়ল একটা মস্ত বড় ছায়া। ওপর থেকে ধপাস করে নেমে এল বকপাখির দীর্ঘ ঠোঁট! বকের ঠোঁট টুপ্পুর পিঠ ছুঁইছুঁই, ঠিক তখনই তার মাথায় খেলে গেল মায়ের একটা কথা, ‘বিপদে পড়লে কখনো সোজা পালাবি না টুপ্পু, সব সময় আঁকাবাঁকা হয়ে লাফাবি।’
টুপ্পু আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে আঁকাবাঁকা হয়ে লাফাতে শুরু করল। বকপাখিটা বারবার ঠোঁট চালাল, কিন্তু টুপ্পুর আঁকাবাঁকা লাফের কৌশলের কাছে প্রতিবারই লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। শেষমেশ টুপ্পু একটা ঘন কাঁটাঝোপের নিচে গিয়ে আশ্রয় নিল, যেখানে বকের ঠোঁট পৌঁছাতে পারল না।
কাঁটাঝোপের ভেতর বসে টুপ্পু ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপতে লাগল। সে আজ হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারল, বড়দের দেওয়া শিক্ষার কত দাম। যদি সে বোয়াল মাছের কৌশলটা আগে থেকে শিখে রাখত, তবে আজ তার এই অবস্থা হতো না। আর যদি মায়ের দেওয়া ওই ছোট্ট শিক্ষাটা মাথায় না রাখত, তবে এতক্ষণে সে বকের পেটে চলে যেত।
বিকেলের দিকে বিপদ কেটে গেলে টুপ্পু গুটিগুটি পায়ে বাড়ি ফিরে এল। তার চোখে তখন অনুশোচনার জল। সে তার বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘আমি বড় ভুল করেছি। শিক্ষা ছাড়া জীবনে কখনো নিরাপদ থাকা যায় না। আজ থেকে তোমরা আমাকে যা শেখাবে, আমি মন দিয়ে তা শিখব।’
সেই থেকে টুপ্পু বনের সবচেয়ে লক্ষ্মী আর বুদ্ধিমান ব্যাঙ হয়ে উঠল। এখন সে আর অহংকার করে না, বরং বড়দের প্রতিটি কথা ও শিক্ষা পরম আদরে মেনে চলে।

ইশপের গল্প শিয়াল ও ছাগল

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
শিয়াল ও ছাগল
এঁকেছেন মাসুম

একদা এক চালাক শিয়াল ছিল। একদিন পানি খেতে গিয়ে সে এক কুয়ার মধ্যে পড়ে গেল। অনেক চেষ্টা করেও সে কিছুতেই উপরে উঠতে পারল না। 
ইতোমধ্যে এক বোকা ছাগল কুয়ার কাছে এসে শিয়ালকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ভাই, এই কুয়ার জলটা কেমন?’ 
শিয়াল বলল, ‘ভাই, সত্যি কথা বলতে আমি তো এর চেয়ে মিঠে জল আজ পর্যন্ত খাইনি। এসো, তুমিও খেয়ে দেখো একবার।’
পানি খেতে বোকা ছাগলও কুয়াতে নামল। তখন ছাগলও একই সমস্যায় পড়ল। 
শিয়াল বলল, আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে, যাতে আমরা দুজনেই এই কুয়া থেকে বেরোতে পারব। তুমি তোমার পেছনের পায়ে ওপর দাঁড়াও। আমি তোমার গা বেয়ে উঠে আর তোমার শিং ধরে এক লাফে কুয়া থেকে উপরে উঠে যাব।’
‘কিন্তু আমার কী হবে?’ ছাগল বলল, ‘আমি বেরোব কীভাবে?’ 
‘ঠিক একই ভাবে। তুমি আমার পিঠে উঠে বাইরে বেরিয়ে যাবে।’ 
বোকা ছাগল কিছুই বুঝল না কিন্তু শিয়ালের কথায় রাজি হয়ে গেল। তখনই চালাক শিয়াল তার পিঠে পা রেখে কুয়া থেকে বেরিয়ে গেল। তারপর চলে যেতে লাগল।
ছাগল চিৎকার করল। শিয়াল বলল, ‘বোকা ছাগল বয়স বেড়েছে। বুদ্ধি বাড়েনি। এবার বসে থাকো কুয়ার মধ্যে।’

গল্পের শিক্ষা: শত্রুকে বিশ্বাস করা উচিত নয়।

বিশ্বকাপের তারকা ট্রিওন্ডা

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
বিশ্বকাপের তারকা ট্রিওন্ডা
ট্রিওন্ডা

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই নতুন চমক। আর এবারের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সেই চমকের নাম ট্রিওন্ডা। এটি তৈরি করেছে বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে এই বলই ব্যবহার করা হচ্ছে।
ট্রিওন্ডা নামের অর্থ হলো ‘তিনটি ঢেউ’। এই নামটি রাখা হয়েছে কারণ এবারের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো–এই তিনটি দেশ মিলে আয়োজন করছে। বলটির লাল, সবুজ ও নীল রংও তিন স্বাগতিক দেশের প্রতি সম্মান জানায়।
ট্রিওন্ডার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর নতুন চার-প্যানেলের নকশা। সাধারণ ফুটবলের তুলনায় এতে কম অংশ জোড়া লাগানো হয়েছে। ফলে বাতাসে বলটি আরও স্থিরভাবে উড়ে এবং খেলোয়াড়দের পাস, শট ও নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়। বলের গভীর সেলাই ও বিশেষ বাইরের আবরণ ভেজা আবহাওয়াতেও ভালো গ্রিপ দেয়।
এই বলের ভেতরে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক ৫০০ হার্টজ মোশন সেন্সর। এটি প্রতি সেকেন্ডে শত শত তথ্য সংগ্রহ করে। সেই তথ্য ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থায় পাঠানো হয়। ফলে অফসাইড, বলে স্পর্শ হয়েছে কি না বা বিতর্কিত মুহূর্তের সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হয়।
বলটির গায়ে তিনটি স্বাগতিক দেশের প্রতীকও রয়েছে। কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা বলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এছাড়া সোনালি রঙের নকশা বিশ্বকাপ ট্রফির স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
শুধু একটি ফুটবল নয়, ট্রিওন্ডা আধুনিক প্রযুক্তি, সুন্দর নকশা এবং খেলাধুলার আনন্দকে একসঙ্গে তুলে ধরেছে। তাই এবারের বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পায়ের সঙ্গে সঙ্গে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজরও রয়েছে এই বিশেষ বলটির দিকে।

প্রজাপতির অভিমান

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
প্রজাপতির অভিমান
এঁকেছেন মাসুম

হৃদির আঁকাআঁকি করতে ভীষণ ভালো লাগে। কিন্তু একটা সমস্যা আছে। প্রজাপতি ছাড়া অন্য কিছু সে তেমন ভালো আঁকতে পারে না। গরু আঁকতে গেলে ঘোড়ার মতো হয়ে যায়, পাখি দেখতে লাগে মুরগির মতো, আর আপেল আঁকলে মনে হয় আতাফল। তাই তার ড্রয়িং খাতার প্রায় সব পাতাই ভরা প্রজাপতির ছবিতে। নানা রঙের, নানা ঢঙের প্রজাপতি। কোনোটা দেখতে যেন ফুলপরী, কোনোটা আবার রংধনুর টুকরো। হৃদির আঁকা প্রজাপতিগুলো এত সুন্দর হয় যে, এই বুঝি খাতার পাতা ছেড়ে উড়ে যাবে। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে গিয়ে বসবে। এতটাই জীবন্ত সেগুলো।
একদিন স্কুল থেকে ফিরে হৃদি ড্রয়িং খাতা নিয়ে আঁকতে বসল। কিন্তু সেদিন তার মন খুব খারাপ। ক্লাসের রিতু তার একটা ছবি ছিঁড়ে ফেলেছিল। হৃদি ম্যাডামের কাছে বিচার দিয়েছিল। কিন্তু ম্যাডাম উল্টো বলেছিলেন–পড়তে এসে এত আঁকাআঁকি কীসের? কথাটা হৃদির খুব খারাপ লেগেছিল। তার মনে হয়েছিল, আঁকাআঁকি বুঝি কোনো অপরাধ।
মন খারাপ থাকলে যেমন হাত ঠিকমতো কাজ করে না, সেদিনও তেমনই হলো। সে একটা প্রজাপতি আঁকল বটে, কিন্তু পাখাগুলো কেমন ছেঁড়া-ছেঁড়া হয়ে গেল। রংগুলোও মলিন আর এলোমেলো দেখাচ্ছিল। এমন সময় মা ডাকলেন, হৃদি, নাশতা করে যাও। ড্রয়িং খাতা খোলা রেখেই সে চলে গেল।
নাশতা খেয়ে ফিরে এসে হৃদি অবাক হয়ে গেল। যে পাতায় একটু আগে প্রজাপতিটা এঁকেছিল, সেই পাতাটা একেবারে সাদা! সে বিস্ময়ে খাতার দিকে তাকিয়ে আছে, এমন সময় একটা ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শোনা গেল।
– তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসোনি।
হৃদি চমকে উঠল। তাকিয়ে দেখল, একটু আগে আঁকা সেই প্রজাপতিটাই কথা বলছে।
– আমার পাখাগুলো দেখো। কত ছেঁড়া! রংগুলোও কেমন বিশ্রী! তোমার অন্য প্রজাপতিগুলো আমাকে খেলায় নেয়নি। বলেছে আমি নাকি দেখতে সুন্দর না। ওরা সবাই বাগানে খেলছে। আর আমি একা।
জানালার বাইরে তাকিয়ে হৃদি আরও অবাক হলো–তার খাতার সব প্রজাপতি বাগানে উড়ছে! কেউ ফুলে বসছে, কেউ রোদে নাচছে, কেউ আবার একে অপরকে তাড়া করে খেলছে।
শুধু এই প্রজাপতিটাই একা দাঁড়িয়ে আছে। হৃদির খুব মায়া হলো। সে আস্তে করে বলল,
– আমি দুঃখিত। আসলে আমার মন খুব খারাপ ছিল। তাই তোমাকে ঠিকমতো আঁকতে পারিনি। তুমি যদি আবার খাতায় ফিরে আসো, আমি তোমাকে সবচেয়ে সুন্দর করে আঁকব।
প্রজাপতিটা একটু হাসল। তারপর বলল,
– তাহলে চোখ বন্ধ করো।
হৃদি চোখ বন্ধ করল। কয়েক সেকেন্ড পর চোখ খুলে দেখে প্রজাপতিটা আবার খাতার পাতায় ফিরে এসেছে। সে এবার খুব মন দিয়ে আঁকতে শুরু করল। পাখাগুলো সুন্দর করে গড়ল। তারপর লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি, কমলা, সবুজ আর গোলাপি রঙে রাঙিয়ে দিল। এত যত্ন করে সে আগে কখনো কোনো ছবি আঁকেনি। আঁকা শেষ হলে প্রজাপতিটা যেন খুশিতে ঝলমল করে উঠল।
হৃদি এবার নিজেই চোখ বন্ধ করল, কারণ সে বুঝতে পেরেছে–মানুষের চোখের আড়ালেই কেবল এরা জীবন্ত হয়, আর জীবন্ত থেকে খাতায় ছবি হয়ে ফিরে আসে।
কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে দেখে জানালার ধারে একটি সুন্দর প্রজাপতি এসে বসেছে। সে উড়ে এসে একটু আগে হৃদির আঁকা প্রজাপতিটার পাশে দাঁড়াল। তারপর দুজনে একসঙ্গে ডানা মেলে আকাশের দিকে উড়ে গেল। যাওয়ার আগে প্রজাপতিটা একবার পেছন ফিরে তাকাল। তার ছোট্ট মুখে ছিল মিষ্টি একটা হাসি। হৃদি বুঝতে পারল, ওটা শুধু বিদায়ের হাসি নয়। ওটা ছিল 
ধন্যবাদের হাসি।
আর সেই দিন থেকে সে আর কখনো মন খারাপ করে কোনো ছবি আঁকেনি। কারণ সে জানে, প্রতিটি ছবিরও হয়তো একটা ছোট্ট মন আছে। আর সেই মনটাকেও যত্ন করতে হয়।

টুনটুনির পুকুর

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
টুনটুনির পুকুর
এঁকেছেন মাসুম

এক ছিল ছোট্ট গ্রাম, নাম তার আনন্দপুর। সেই গ্রামের এক প্রান্তে ছিল একটা সুন্দর পুকুর। কিন্তু পুকুরটার কোনো নাম ছিল না। তবে তোমরা চাইলে আমরা পুকুরটার একটা নাম দিতে পারি, যেমন ধরো, কানা পুকুর। 
সেই কানা পুকুরের পানি ছিল কাচের মতো পরিষ্কার। সেই পানিতে সাঁতার কাটত লাল-নীল মাছের দল। পুকুরের ধারে ছিল বড় বড় আম গাছ, আর সেই গাছের ডালে বাস করত ছোট্ট টুনটুনি পাখি। টুনটুনি যখনই মন খারাপ করত, তখনই পুকুরের দিকে তাকিয়ে গান গাইত। পুকুর যেন টুনটুনির দুঃখের বন্ধু ছিল।
গ্রামের বাচ্চারা রোজ দুপুরে পুকুরের ধারে খেলতে আসত। কেউ ডুব দিত শীতল পানিতে, কেউ বা পুকুরের পাড়ে বসে পানি ছুঁয়ে খেলত। পুকুরটা ছিল গ্রামের সবার খুব প্রিয়।
একদিন গ্রামে এল এক অচেনা লোক। তার নাম ছিল ঘোটন চৌধুরী। ঘোটন চৌধুরী খুব ধনী ছিলেন, কিন্তু তার ছিল শুধু টাকা জমানোর চিন্তা। তিনি গ্রামের সব পুকুর ভরাট করে সেখানে বড় বড় ঘরবাড়ি বানাতে চাইলেন। তিনি ভাবলেন, ‘পুকুর তো শুধু শুধু জায়গা নষ্ট করছে। এখানে বাড়ি বানালে আমি অনেক টাকা পাব।’ 
প্রথমেই তিনি আনন্দপুরের সেই সুন্দর পুকুরটা ভরাট করতে চাইলেন। গ্রামের মানুষরা খুব মন খারাপ করল। বাচ্চারা কাঁদছিল, ‘আমাদের পুকুরটা নষ্ট করে দিও না! আমরা দুপুরে এই পুকুরে সাঁতার কাটি, গোসল করি।’  
টুনটুনি পাখি গাছের ডালে বসে সব দেখল। সে দেখল, বড় বড় গাড়ি এসে পুকুরে মাটি ফেলছে। পুকুরের পানি কমে আসছে। মাছেরা ছটফট করছে। টুনটুনির বুকটা ব্যথায় ভরে গেল। সে ভাবল, ‘আমার বন্ধু পুকুরটা মরে যাচ্ছে!’ 
টুনটুনি উড়তে উড়তে গেল এক জ্ঞানী প্যাঁচার কাছে। প্যাঁচা মশাই সব শুনে বললেন, ‘মানুষকে বোঝাতে হবে পুকুর কেন দরকার। পুকুর শুধু পানির জায়গা নয়, পুকুর হলো গ্রামের প্রাণ।’ 
টুনটুনি আবার গ্রামের কাছে ফিরে এল। সে দেখল, বাচ্চারা আর পুকুরের কাছে খেলা করে না। পুকুরটা প্রায় অর্ধেক ভরাট হয়ে গেছে। টুনটুনি তখন একটা বুদ্ধি বের করল।
সে রোজ সকালে পুকুরের ধারে উড়ে যেত। তারপর নিজের ছোট চঞ্চু দিয়ে মাটি থেকে একটা করে পানির ফোঁটা তুলে আনত। সেই ফোঁটাগুলো সে পুকুরের শুকনো অংশে ফেলত। গ্রামের মানুষ আর ঘোটন অবাক হয়ে দেখল।
একজন বলল, ‘আহা রে! ছোট্ট পাখিটা এই পুকুর বাঁচানোর চেষ্টা করছে!’ 
আরেক বৃদ্ধ লোক বলল, ‘আমরা এত বড় হয়েও যা বুঝিনি, এই ছোট্ট পাখিটা সেটাই বোঝাচ্ছে।’
টুনটুনির এই চেষ্টা দেখে গ্রামের সবার মন বদলে গেল। তারা বুঝতে পারল, পুকুর শুধু পানির জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও খুব দরকার। পুকুর না থাকলে গরম বেড়ে যাবে, মাছেরা বাঁচবে না, আর গ্রামের সৌন্দর্যও নষ্ট হবে।
সবাই মিলে ঘোটন চৌধুরীর কাছে গেল। তারা বলল, ‘চৌধুরী, আপনি পুকুরটা ভরাট করবেন না। আমরা পুকুরটা যেমন আছে তেমনই রাখতে চাই...।’ 
ঘোটন চৌধুরী সবার কথা শুনে খুব লজ্জা পেলেন। তিনি বুঝলেন, টাকা দিয়ে সব হয় না। ভালোবাসা আর পরিবেশের মূল্য অনেক বেশি। তিনি পুকুর ভরাট করা বন্ধ করে দিলেন। শেষে তিনি হাত জোড় করে বললেন, ‘আপনারা আজ আমার চোখ খুলে দিলেন, নয়তো আমি খুব বড় একটা ভুল করতে যাচ্ছিলাম। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ 
কিছুদিনের মধ্যেই পুকুরটা আবার আগের মতো সুন্দর হয়ে উঠল। মাছেরা আবার সাঁতার কাটতে শুরু করল। আর টুনটুনি পাখি প্রতিদিন পুকুরের ধারে বসে আনন্দে গান গায়। সে জানে, তার বন্ধু পুকুরটা বেঁচে গেছে।