পৃথিবীর মানুষ মঙ্গল জয়ের অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। এরপর বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত স্পেস এজেন্সি সম্মিলিতভাবে মঙ্গল অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনা করল। আর প্রোগ্রামটির নাম দিল ‘মিশন ১০১’। প্রোগ্রাম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন হামিদুর রহমান তামিম। তিনি পৃথিবীর সব দেশের রকেট পরীক্ষা করলেন। মঙ্গল অভিযানে আগে ব্যবহৃত রকেটগুলো পরীক্ষা করে সমস্যার সমাধান পেলেন না। ২০৬১ সালের ৩ মার্চ রাতে তিনি থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি করা খাবার খেলেন। রাত পেরিয়ে সকাল হলো। তিনি কোনো উপায় খুঁজে পেলেন না। হঠাৎ তার মনে পড়ল কেউ একজন বলেছিল ‘পুরনো কোনো পদ্ধতিতে কাজ না হলে নতুন কোনো পদ্ধতিতে চলো।’
তিনি সব শক্তিশালী রকেটের বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে নতুন একটি রকেট আবিষ্কারে মন দিলেন। সেখান থেকে নানা রকেটের মডেল তৈরি করলেন। তারপর গেলেন প্রোগ্রামের জন্য অস্থায়ী হেডকোয়ার্টারে।
২.
এক্সিয়ম
মে ১০, ২০৬১। মিশন হেডকোয়ার্টার, লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
পৃথিবীর সব বড় বড় মহাকাশ সংস্থার সামনে তামিম তার বাছাই করা রকেটগুলো উপস্থাপন করলেন। নাসার প্রধান মি. ফোর্ড বললেন, ‘মি. তামিম, আপনার ডিজাইন করা রকেটটা যে সফল হবে, নিশ্চিত হলেন কীভাবে?’
তামিম বললেন, ‘স্যার, আমার রকেট অনেক দূর যেতে সক্ষম।’
‘যদি ওটা ওখান থেকে ফিরে আসতে না পারে?’
‘এ জন্য আমরা প্লাসমা ব্যবহার করব। এ ছাড়া ব্যাকআপ হিসেবে বিদ্যুৎ থাকবে।’
ইসার প্রধান মেটিও জানতে চাইলেন, ‘রকেটটির নাম কী হবে?’
তামিম জানালেন, ‘এক্সিয়ম’।
মিশন ১০১-এর প্রধান বললেন, ‘আপনারা যারা এর সঙ্গে একমত তারা হলোগ্রাম ট্যাবে ভোট দিন।’
ভোট গণনা শেষে দেখা গেল এক্সিয়ম বেশি ভোট পেয়েছে।
৩.
পাইথন
পাঁচ দিন পর ঠিক হলো মহাকাশযান যেটা মানুষকে নিয়ে মঙ্গলে নামবে, তার নামকরণ করা হলো পাইথন। পাইথন মহাকাশযান বা মঙ্গল ল্যান্ডারটা চাঁদে প্রথম নামা অ্যাপোলো কমান্ড মডিউলের মতো। যদিও অ্যাপোলো কমান্ড মডিউল চাঁদে নামে না, তবে এটা নামে। এটার পুরো নাম পাইথন কমান্ড অ্যান্ড ল্যান্ডিং মডিউল। এটা অ্যাপোলো কমান্ড মডিউলের চেয়ে উচ্চতায় বড়। এমনকি রকেটের বুস্টার সুরক্ষার জন্য রোবোটিক শিল্ড রয়েছে। সব মিলিয়ে পাইথন আবারও ওড়ার জন্য প্রস্তুত।
৪.
হলোগ্রামিক শিল্ড
তামিম বিজ্ঞানীদের একটি দল প্রতিষ্ঠা করলেন। তাদের রকেটটা পুনঃস্থাপন করার মতো নয়। তবু তিনি দমলেন না। দলের এক বিজ্ঞানী হঠাৎ সমাধান নিয়ে এলেন। ‘যদি আমরা রকেটের চারদিকে হলোগ্রাম শিল্ড লাগিয়ে দিই, তাহলে রকেটটি অনেক কিছু থেকে সুরক্ষা পাবে।’ ‘কিন্তু হলোগ্রামিক শিল্ড রি-এন্ট্রির সময় কঠিন তাপমাত্রা কি সহ্য করতে পারবে?’ তামিম জানতে চাইলেন।
বিজ্ঞানী বললেন, ‘অবশ্যই পারবে, তার আগে এর কিছু পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’
হলোগ্রামিক শিল্ড তখন শহর রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হতো। ওই সময় ওটা অনেক বড় বড় আঘাত রক্ষা করার জন্য বিখ্যাত। পৃথিবীর অন্যতম কঠিনতম বস্তুর একটি ধরা হয় এটাকে।
৪ অক্টোবর ২০৬১ হলোগ্রামিক শিল্ডকে নিয়ে একটি রকেট পৃথিবীতে সফলভাবে ল্যান্ড করল। সিদ্ধান্ত হলো, এই হলোগ্রামিক শিল্ড রকেটের চারপাশে লাগানো হবে। শিল্ড প্রযুক্তি অনেকটা চারকোনা কালো বাক্স, যেটা থেকে একটি রশ্মি বের হয়ে ওই রশ্মি রকেটকে সুরক্ষা দেবে।
৫.
এআই পরিচালিত রকেট
মি. ফোর্ড বললেন, ‘তোমরা হলোগ্রামিক শিল্ড তৈরি করলে কিন্তু রকেটের কোনো অংশই পৃথিবীতে ফিরতে পারবে না।’
তামিম বললেন, ‘এ সমস্যার সমাধান আমাদের কাছে আছে স্যার। মি. ইয়ামাতসু আপনি আপনার সমাধান বলুন।’
মি. ইয়ামাতসু সমাধান দিলেন, ‘যদি রকেটের সব অংশে এআই অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করি তাহলে রকেটের বাকি অংশগুলোকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে পারব।’
জ্বালানি তখন খুবই কম থাকবে। তখন আপনি কী করবেন?
‘স্যার, একটি রকেটের দুটি অংশ রয়েছে। রকেটের স্টেজগুলোতে প্রথম জ্বালানি থাকবে গ্লাসমা, যেটা পৃথিবী থেকে রকেটকে অনেক দূরে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয় জ্বালানি হবে বিদ্যুৎ, যেটার মাধ্যমে রকেট আবার পৃথিবীতে অবতরণ করবে। রকেটের পাইথন স্টেজ ছাড়া প্রতিটি স্টেজে এআই সংযুক্ত থাকবে এবং প্রতিটি স্টেজে প্যারাসুট থাকবে, তা হলোগ্রাম ডেস্কে উপস্থাপন করা হলো।’
৬.
এক্সিয়মের বৈশিষ্ট্য
২০ ডিসেম্বর ২০৬১। আরেকবার পৃথিবীর সব মহাকাশ সংস্থা মিটিংয়ে বসল। শুরু করল মিশন ১০১-এর প্রধান মি. ফোর্ড- ‘আমরা সবাই আরেকবার মিটিংয়ে বসেছি, এক্সিয়ম রকেটের নানা বৈশিষ্ট্য, ব্যবহার, ফ্লোচার্ট এবং উড্ডয়ন পরিকল্পনা তৈরি হয়ে গেছে। মি. তামিম এখন এসব উপস্থাপনা করবেন।’
মি. তামিম বৈশিষ্ট্য, ফ্লোচার্ট, হলোগ্রাম উপস্থাপন করলেন। তিনি রকেটের উড্ডয়ন ল্যান্ডিং এবং কার্যক্ষমতা সম্পর্কে বললেন, ‘রকেটটি প্রথমে তার প্লাসমার সাহায্যে শক্তিশালী উড্ডয়ন করবে। আপনারা জানেন যে প্লাসমার ক্ষমতা কত বেশি। এটি পৃথিবীর সঙ্গে মঙ্গলের অরবিট তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলের অরবিট তৈরি করার প্রথম স্টেজ আলাদা হয়ে যাবে। এরপর পাইথন মডিউল হলোগ্রামিক শিল্ডের সাহায্যে মঙ্গলগ্রহে রি-এনট্রি করে প্যারাস্যুটের সাহায্যে নামবে। ওড়ার সময় পাইথন মডিউলের প্লাসমা বুস্টারের সাহায্যে মঙ্গলগ্রহ থেকে পৃথিবীতে নামবে।’
৭.
টেস্টরানস
ঠিক করা হলো, রকেটটি পাঁচবার মঙ্গলকে কেন্দ্র করে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করবে। প্রথম পরীক্ষায় রকেটটি প্লাসমা বুস্টারের সাহায্যে পৃথিবীর চারদিকে অরবিট তৈরি করবে। তারপর হলোগ্রামিক শিল্ডের সাহায্যে পৃথিবীতে রি-এনট্রি করে প্যারাসুটের সাহায্যে পৃথিবীতে ল্যান্ড করবে। আরও দেখা হবে, দুটি সলিড রকেট স্টেজসহ তিনটি মূল স্টেজ সফলভাবে আলাদা হতে পারছে এবং সফলভাবে পৃথিবীতে নামতে পারছে কি না।’ তামিম পাইথনের সঙ্গে আরেকটি স্টেজ সংযুক্ত করেছে, যা একটি স্পেস স্টেশনের পার্ট। এটা চাঁদে মানববসতি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম লুনার গেটওয়ের মতো কাজ করবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিশনে এটি তৈরি করা হয়ে যাবে। চতুর্থ মিশনে রকেট মঙ্গলের মাটিতে নামবে। পঞ্চম মিশনে মানুষ স্টেশনটিতে প্রথম পা রাখবে। ষষ্ঠ মিশনে বা ঐতিহাসিক মিশনে মানুষ প্রথম মঙ্গলের মাটিতে পা দেবে।
৮.
প্রথম টেস্টরান
২ ডিসেম্বর ২০৬৪। সোনাদিয়া দ্বীপ, বাংলাদেশ। প্রোগ্রামটির জন্য মিশন ১০১ বাংলাদেশে সোনাদিয়া দ্বীপকে নির্বাচিত করল। বাংলাদেশ সব সময় এসব সুপার রকেট তৈরির জন্য বিখ্যাত। তামিমের জন্মভূমি বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা হঠাৎ এত ওপরে উঠে যাবে, কেউ ভাবতেও পারেনি। এ দেশের সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার নাম বেসিয়া (BASEA- Bangladesh Aeronautics and Space Exploration Adminstration)। অধ্যাপক তামিম আগে ওই মহাকাশ সংস্থায় কাজ করতেন। চাঁদে দেশটির একটি কলোনিও রয়েছে।
৯.
মহাকাশচারী
২ জানুয়ারি ২০৬৫। মিশন ১০১ হেডকোয়ার্টার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ঢাকার পূর্বাচলে অবস্থিত বেসিয়া হেডকোয়ার্টারের ভেতরে স্থাপন করা হলো বঙ্গবন্ধু মিশন কন্ট্রোল সেন্টার।
রকেটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে ঢাকা থেকে সুদূরে অবস্থিত কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে অবস্থিত কুদরাত-এ-খুদা স্পেস সেন্টারে।
৬ জানুয়ারি ২০৬৫। সব মানুষবাহী মিশনে যেসব মহাকাশচারী যাবে, তাদের নির্বাচন করা হলো।
পঞ্চম মিশনে যাবে কমান্ডার সৌদি আরবের আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ, কানাডার রিচার্ড মোরালিস, ভারতের সতীশ ভি সিংহ, স্পেনের এলিসিয়া রদ্রিগেজ, রাশিয়ার লেভ কারালোস্কি এবং চীনের লিং চ্যাং, ইতালির ইজিও আর্নোসাজ্জি মঙ্গলে পা দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবে বাংলাদেশের আরিফুর রহমান সাকিব। তার দলে থাকবে সাউথ আফ্রিকার নেলসন কালিম্বো, জাপানের কিম হারিহিতো, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড কেনওয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি পার্কার, ফ্রান্সের আর্নো ফ্রেকোর্ড, যুক্তরাজ্যের রিচার্ড আর্নহাম।
১০.
দ্বিতীয় টেস্টরান
২০ সেপ্টেম্বর ২০৬৬। কুদরাত-এ-খুদা স্পেস সেন্টার, সোনাদিয়া দ্বীপ। আরেকবার রকেটটি মঙ্গলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। মঙ্গলের অরবিটে স্টেশন নিক্ষেপ করা এর কাজ।
সময়মতো রকেটটি মঙ্গলে যাওয়ার ট্রান্সফার উইন্ডোতে পৌঁছাল। দুই মিনিটের মধ্যে মঙ্গলের সঙ্গে পৃথিবীর একটি পথ তৈরি হয়ে গেল। তীব্র গতিতে সেই পথ পাড়ি দিল দুই ঘণ্টায়।
পথটি পাড়ি দেওয়ার আগেই প্রথম ইঞ্জিন ও স্টেজ আলাদা হয়ে গেল। দ্বিতীয় স্টেজ অথবা পাইথন মডিউল মঙ্গলের চারপাশে অরবিট তৈরি করল। তারপর ফেয়ারিং খুলে সঙ্গে থাকা স্টেশনের পার্টটি রিলিজ করল।
রকেটের সঙ্গে থাকা স্টেশনের নাম মারশিয়ান গেটওয়ে। রকেটটি এরপর সেখান থেকে সরে পৃথিবীর দিকে রওনা দিল।
মিশন কন্ট্রোল রুমে বসে সবাই পৃথিবীতে নিখুঁতভাবে রকেটকে রি-এনট্রি করতে দেখল।
১১.
ব্যর্থতা
২০৬৮ সালের ১ নভেম্বর, পৃথিবী থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেট মঙ্গলে অরবিটও ঠিকঠাক মতো তৈরি করে। ঢাকার স্টেশন থেকে অধ্যাপক তামিম সবকিছু ঠিকঠাক দেখছিলেন। হঠাৎ এআই বার্তা পাঠানো শুরু করল রকেটটির প্যারাসুট খুলছে না। ইঞ্জিন দিয়ে সফট ল্যান্ডিং করতে পারছে না। মিশন কন্ট্রোল রুমে যেন ঝড় শুরু হলো। কেউ হলোগ্রাম ডেস্কের ওপর ঝড় তুলছে। কেউ আরেকজনের সঙ্গে তর্ক করা শুরু করেছে।
অধ্যাপক তামিম নিজের চেয়ারে বসে রইলেন। তিনি নিজের চোখে দেখলেন পাইথন মডিউল মঙ্গলের মাটিতে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
মিশন কন্ট্রোল সেন্টারের মানুষজন যেন জমে গেল সেন্টারের কেউ কাঁদছে, আবার কেউ মেনেই নিতে পারছে না।
১২.
নতুন ডক
২০৬৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর আরেকটি মিটিং ডাকা হলো। নাসা ও মিশন ১০১-এর প্রধান মি. ফোর্ড বললেন, ‘১ নভেম্বর আমাদের খুবই বড় এক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হলো। এ সম্পর্কে মি. তামিম কিছু বলবেন।’
তামিম বললেন, ‘আমার দলের ডিজাইন করা রকেটের কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যা এআই-এর।’
জাপানের স্পেস এজেন্সির প্রধান বললেন, ‘এর কোনো প্রমাণ আছে?’
‘রকেটের যে এআই বর্তমানে ব্যবহার করা হয়েছে তা আগের মিশনে ব্যবহার করা এআইগুলোর মতো নয়।’
চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রধান বললেন, ‘এর কোনো প্রমাণ আছে?’
তামিম বললেন, ‘আমার শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল এআই ভালোমতো পরীক্ষা করা হয়নি। এ জন্য আমি ডুপ্লিকেট আমার কাছে রেখেছি।’
বলেই অধ্যাপক তামিম এআই-এর ওয়ার্কিং কার্ড দেখালেন। হলোগ্রাম প্রোগ্রামারকে ডেকে পরীক্ষা করে দেখা গেল, এআইতে অনেক ভুল রয়েছে। মিশন কাউন্সিল রকেটকে শেষবারের মতো কাজে লাগানোর অনুমতি দিল।
১৩.
বিজয়ের দিন
১৬ ডিসেম্বর ২০৭১। বাংলাদেশের রাস্তায় উৎসবের ছোঁয়া। দেশটির বিজয় দিবস। এই দিন সারা বিশ্বের মানুষ এবং দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে বাংলাদেশের ১০০ বছর পূর্তি এবং মানুষের প্রথম পায়ের ছাপ পড়বে মঙ্গলে। অবশ্য রকেট লঞ্চ হবে ১৫ ডিসেম্বর রাত ১২টায়।
রাত ১২টা। সোনাদিয়া দ্বীপ। রকেটে কিছু মহাকাশচারী উঠলেন।
রাত ১টা। রকেট লঞ্চ হলো। রকেটটি অবশ্য সরাসরি মঙ্গলে যাবে না।
প্রথমে রকেট চাঁদে নামবে। এরপর গেটওয়ে হয়ে মঙ্গলে নামবে।
ভোর ৩টা। তামিম দেখলেন রকেট চাঁদে ল্যান্ড করছে।
কমান্ডার হামিদুর রহমান তামিম বললেন, ‘চাঁদে সফলভাবে আমরা ল্যান্ড করেছি। রসদ নেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।’
বেলা ৩টা। চাঁদ থেকে মঙ্গলের দিকে রকেট রওনা দিল।
সন্ধ্যা ৬টা। মার্শিয়ান গেটওয়েতে পাইথন ডক করল।
সন্ধ্যা ৭টা। মার্শিয়ান গেটওয়ের দিকে রওনা দিল।
সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট। পাইথন মঙ্গলে রি-এনট্রি করল। সাকিব বললেন, ‘মঙ্গলের প্যারাসুটের হাতল ধরে গণনা করছি থ্রি টু ওয়ান। প্যারাসুট খুলেছে মঙ্গলের মাটিতে নামছি থ্রি টু ওয়ান। আমরা মঙ্গলের মাটিতে নামার জন্য প্রস্তুত হব।
সঙ্গে সঙ্গে পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠল। আকাশে বাজি ফুটতে লাগল। মিশন কন্ট্রোল রুমে সবাই আনন্দে দিশেহারা হয়ে উঠলেন। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল সাকিব মঙ্গলের মাটিতে প্রথম পা রেখেছেন। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে দ্বিতীয় আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল। অধ্যাপক তামিম শুনতে পেলেন সাকিব বলছেন- ‘নিল আমস্ট্রংয়ের বিখ্যাত বাণী নিজের সংস্করণ বলছি One small step of a man in mars. One collosal leap for mankind.’
জাহ্নবী