দেশের প্রায় সব এলাকায় নতুন আমন ধান ঘরে উঠে গেছে। ধানের ভরা মৌসুম এখন। তারপরও ভোটের পরে বেড়ে গেছে চালের দাম। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভোটের কারণে গাড়ি কম চলেছে- এই অজুহাতে মিল থেকে সিন্ডিকেট করে বেশি দামে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। এজন্য বেড়েছে চালের দাম। হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা বলেন, এই অরাজকতা কখন বন্ধ হবে? ভরা মৌসুমেও বাড়ছে দাম। এটা কেমন কথা?
আলুর কেজি ৫ টাকা কমে ৫৫ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম না কমলেও জিরার দাম কেজিতে কমেছে ২০০ টাকা পর্যন্ত। টমেটোসহ অন্যান্য সবজির দামও কিছুটা কমতির দিকে। আগের মতোই ডিমের ডজন ১২৫-১৩০ টাকা। স্থিতিশীল রয়েছে মাছ মাংসের দাম।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউনহল, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভোটের অজুহাতে বেড়েছে চালের দাম
মাঠের ধান ঘরে উঠলেও চালের বাজারে প্রভাব পড়েনি। দাম তো কমেইনি, বরং ভোটের অজুহাতে মিল থেকে প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানান। তারা বলেন, মিল থেকে সিন্ডিকেট করেই বাড়ানো হয়েছে চালের দাম। নতুন সরকার এসে কি করবে, সেটা দেখার বিষয়।
কারওয়ান বাজারের মান্নান রাইস এজেন্সির মান্নান ও আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির আওলাদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, গত সপ্তাহে নতুন মোটা চালের কেজি ৪৮-৫০ টাকা, ২৮ চাল ৫০-৫২ টাকা ও মিনিকেট ৬২-৬৫ টাকা ছিল। কিন্তু ভোটের পরে প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা বা কেজিতে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে মিনিকেট ৭০ টাকা, ২৮ চাল ৫৪-৫৫ টাকা ও মোটা চাল ৫০-৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ সময় সজল নামে এক ক্রেতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এভাবে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে গেছে, কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এই অরাজকতা কখন বন্ধ হবে?
আগের মতোই পোলাও চাল ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। তবে প্রাণ, এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত মিনিকেট আরও বেশি ১৯০ টাকা কেজি বলে বিক্রেতারা জানান।
কমেছে মরিচ-টমেটোর দাম
গত সপ্তাহের মতোই নতুন পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকা কেজিতে বিকিয়েছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে হয়েছে ৫৫-৬০ টাকা কেজি। দাম প্রসঙ্গে কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুল হালিম খবরের কাগজকে বলেন, পাইকারিতে দাম কমলে আমরাও কম দামে আলু দিতে পারি। ভোটের পরে দাম কমেছে। তাই ৫৫-৬০ টাকা কেজি। তবে মানভেদে আদা ও রসুন আগের মতো ২২০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন না উঠা পর্যন্ত দাম কমবে না বলে বিক্রেতারা জানান।
সবজি বিক্রেতারা জানান, আগের মতোই পাতা ও ফুলকপির দাম ৩৫-৪০ টাকা পিস, বেগুনসহ প্রায় সবজি ৬০-৭০ টাকা কেজি। তবে এ সপ্তাহে টমেটোর দাম কমে ৫০-৬০ টাকা কেজি হয়েছে। গাজর, পটোল ও করলা ৬০-৮০ টাকা, শসা ৬০ টাকা। মরিচের দাম কমে ৮০-১০০ টাকা কেজি ও প্রায় শাকের আঁটি ১০-২০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
আগের মতোই মাছ, মাংস ও ডিমের দাম
গরুর মাংস রেট করার কারণে বিভিন্ন বাজারের মাংস বিক্রেতারা জানান, ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুর টাউনহলের জহির অ্যান্ড জাহিদ মাংস বিতানের আবদুর রশিদ বলেন, গরুর মাংস রেট করা। ৬৫০ টাকা কেজি। খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি বলে বিক্রেতারা জানান। কারওয়ান বাজারের জনপ্রিয় মাংস বিতানের জসিম বলেন, খাসির মাংসের দাম আগের মতোই ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি।
সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়েনি-কমেনি মুরগির দাম। খুচরা ব্যবসায়ীরা এসব তথ্য জানান। কারওয়ান বাজারের ভাই বন্ধু ব্রয়লার ও অতিথি ব্রয়লার হাউসের মুরগি বিক্রেতারা জানান, এ সপ্তাহে কমেনি বা বাড়েনি দাম। আগের মতোই পোলট্রি ১৯০-২০০ টাকা কেজি, পাকিস্তানি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা এবং আগের মতোই দেশি মুরগি ৫০০-৫৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের মতোই আগের দামে মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে মাছ বিক্রেতারা জানান। টাউনহল বাজার ও কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আগের মতোই রয়েছে দাম। রুই, কাতল মাছ আকারভেদে ২৬০-৫০০ টাকা কেজি, মানভেদে চিংড়ি ৬০০-১০৫০ টাকা, শিং ৫০০-৬৫০ টাকা, মলা মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, বাইন ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙাস ২০০-২৫০, তেলাপিয়া ২২০-২৫০, কৈ ২৫০-৪০০ টাকা, টেংরা ৪৫০-৭০০ টাকা, মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা ও ইলিশ মাছ ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
কমেছে জিরার দাম
ভোটের আগে কোনো কারণ ছাড়াই জিরার দাম বেড়ে গিয়েছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে কমেছে ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত। কারওয়ান বাজারের ফরিদগঞ্জ স্টোরের জাহাঙ্গীর বলেন, জিরার দাম কেজিতে ২০০-২৫০ টাকা কমে হয়েছে ১ হাজার টাকা। ছোলার দামও গত সপ্তাহে বেড়েছে। সাদাটা ১১০ টাকা ও কালোটা ১০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার চিনির দাম ১৪৮ টাকা কেজি বেঁধে দিলেও সহজে পাওয়া যায় না। কোথাও প্যাকেট চিনি পাওয়া গেলেও ১৫০ টাকার কম নয়। ২ কেজি আটা ১২০ টাকা, ডাল ১১০-১৪০ টাকা কেজি, ৫ লিটার সয়াবিন তেল ৮২০ টাকা, ২ লিটার ৩৪০ ও ১ লিটার ১৭৩ টাকায় বিকোচ্ছে। এলাচের দাম আগের মতো ২ হাজার ৮৫০ টাকা কেজি বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।