বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা। ইতিহাস গড়ে তারা প্রথমবার পৌঁছেও গেছে নকআউট পর্বে। এবার ইতিহাস সমৃদ্ধ করার পালা। এই স্বপ্নযাত্রায় দুর্ভাগ্যও হয়েছে তাদের সঙ্গী। কেননা, তিন আয়োজকের একটি হয়েও রাউন্ড ৩২-এর ম্যাচ তাদের খেলতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যালেঞ্জ নেবে কানাডিয়ানরা।
শুক্রবার ভ্যাঙ্কুভারে শেষ অনুশীলন শেষে জেসি মার্শের দল রওনা দিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে। ঘর ফেলে পরের মাঠে খেলার দুর্ভাগ্যের কারণ তারাই। কানাডা চাইলে নিজেদের পরিচিত পরিবেশ, ঘরের মাঠ ভ্যাঙ্কুভারেই নকআউট ম্যাচ খেলতে পারত। কিন্তু ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের কারণে দলটি গ্রুপ রানার্সআপ হয়। এতে করে ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ৩২-এর ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। আর কানাডাকে উড়ে যেতে হচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেসে।
তবে এতে কানাডা শিবিরে হতাশার ছাপ নেই। বরং দলটির ফরোয়ার্ড তানি ওলুওয়াসেই বলছেন, প্রতিপক্ষের সমর্থকে ভরা গ্যালারিই তাদের বাড়তি শক্তি জোগায়, ‘আমার মনে হয়, আমরা বৈরী পরিবেশকে পছন্দ করি–এটা হয়তো বলব না, তবে আমরা সত্যিই এমন পরিবেশ উপভোগ করি। প্রতিপক্ষের সমর্থকে ভরা গ্যালারি আমাদের ভালো লাগে। কারণ এটি আপনাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়, চারপাশের সব সমর্থককে ভুল প্রমাণ করার।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা দলের কাছে নতুন কোনো পরিবেশ নয়। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা (আমন্ত্রিত দল হিসেবে) এবং ২০২৫ সালের কনকাকাফ গোল্ড কাপ, দুটি বড় টুর্নামেন্টেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলেছে। ফলে এবারও মার্কিন মুলুকে নকআউট ম্যাচ খেলতে যাওয়াকে তারা বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছে না। ওলুওয়াসেইর মতে, গত দুই বছরে একসঙ্গে লড়াই করতে করতেই দলটি পরিণত হয়েছে। জয়-পরাজয়, সাফল্য-ব্যর্থতা–সবকিছুই তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
তার কথায়, ‘গত দুই বছরে আমরা একসঙ্গে দুটি টুর্নামেন্ট খেলেছি। আমরা একসঙ্গে কোপা খেলেছি, গোল্ড কাপও খেলেছি। তাই আমার মনে হয়, আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি, একসঙ্গে ব্যর্থ হয়েছি, একসঙ্গে সফল হয়েছি। এসব বিষয় একসঙ্গে মিশেই আমাদের আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে আমরা বিশ্বকাপের একটি নকআউট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি।’