চলমান ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ আফ্রিকার ফুটবলের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দলসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মহাদেশটির আরও বেশি দেশের সামনে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। গ্রুপ পর্ব শেষে রাউন্ড ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে ৭টি আফ্রিকান দেশ। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে আফ্রিকার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্ব এবং মহাদেশটির ফুটবল অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রাউন্ড ৩২-এ উঠেছে মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল, কেপ ভার্দে, মিসর ও ঘানা। এই ৭টি দলের সাফল্য প্রমাণ করে, আফ্রিকার ফুটবল এখন আর শুধু সম্ভাবনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তারা ধারাবাহিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলছে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিশ্বকাপের এবারের অন্যতম বড় চমক কেপ ভার্দে। ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। শক্তিশালী সৌদি আরবকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে তারা রাউন্ড ৩২ নিশ্চিত করে। পুরো গ্রুপ পর্বে দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে। রক্ষণভাগ ছিল সংগঠিত এবং প্রতিটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিষেক বিশ্বকাপেই এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মিসর এবং ঘানাও তাদের শেষ ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত ফলে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। তাদের যোগ হওয়ার মধ্য দিয়েই আফ্রিকার প্রতিনিধির সংখ্যা সাতে পৌঁছেছে।
মরক্কো গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সেই ধারাবাহিকতা তারা এবারের বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছে। সেনেগাল শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা কঠিন লড়াই করে পরের পর্বে উঠেছে। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট তাদের অভিজ্ঞতা ও দলীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নকআউট নিশ্চিত করেছে। প্রতিটি দলই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ইতিবাচক ফুটবল উপহার দিয়েছে।
আফ্রিকার এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, মহাদেশটির অনেক খেলোয়াড় এখন ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে নিয়মিত খেলছেন। ফলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সঙ্গে অভ্যস্ত। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশন অবকাঠামো উন্নয়ন, বয়সভিত্তিক দল গঠন এবং আধুনিক কোচিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব এখন জাতীয় দলগুলোর পারফরম্যান্সে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
৪৮ দলের বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাটও আফ্রিকার জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। তবে শুধু সুযোগ পেলেই সাফল্য আসে না। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন ভালো পরিকল্পনা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং মানসিক দৃঢ়তা। আফ্রিকার ৭টি দল গ্রুপ পর্বে সেটিই দেখিয়েছে।
এখন তাদের সামনে নকআউট পর্বের আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। এখান থেকে প্রতিটি ম্যাচই হবে বাঁচা-মরার লড়াই। তবে গ্রুপ পর্বে যে আত্মবিশ্বাস ও সংগঠিত ফুটবল তারা খেলেছে, সেটি ধরে রাখতে পারলে আরও কয়েকটি আফ্রিকান দল শেষ ষোলো কিংবা তারও পরের ধাপে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।