ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘CFMOTO Fiesta Football Tournament 2026’ ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ‘পেমেন্ট পাসকি’ আনল ভিসা ৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি সন্তানের কর্মসংস্থান চাই মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব তৃতীয় কোনো ভাষা শেখানোর চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত! সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উত্তরা মোটর্স বাংলাদেশে নিয়ে এলো ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস দেবহাটায় ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, এরপর... ‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’ ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি টাকা খেলেন, জেল পেলেন! উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী The Grocer and the Fruit seller বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৮ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ম্যাকডোনাল্ডস-বাস টার্মিনাল এখন ক্লিনিক অপহরণ-মানবপাচার রোধে টেকনাফে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাজেটে অনেক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী খামেনির দাফন, ট্রাম্পের কটাক্ষ আর ‘রফা’ প্রসঙ্গে নতুন বিতর্ক চকবাজারে আশিক টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে শ্যামনগরে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার মাদক জব্দ স্বাস্থ্যখাতে খারাপ চর্চার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সুসম্পর্ক স্থাপনে হজ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধ্যায়ের ১৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র অপরিচ্ছন্ন টয়লেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুর্ভোগে বেরোবির শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে বজ্রঝড়ের শঙ্কা কোটচাঁদপুরে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না আসামির

৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৫, ১০:১২ এএম
৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের এক দম্পতি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত (ফ্রোজেন) ভ্রূণ থেকে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে হিমায়িত থাকা কোনো ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়া শিশু। 

লিন্ডসে ও টিম পিয়ার্স ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান ধারণের চেষ্টা করেন। পরে ‘ভ্রূণ দত্তক’ বা এমব্রিও অ্যাডপশন পদ্ধতির সাহায্য নেন। তারা ১৯৯৪ সাল থেকে হিমায়িত অবস্থায় থাকা কয়েকটি ভ্রূণ দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেন। চলতি মাসের শুরুতে তাদের সদ্যোজাত ছেলেটি ১১ হাজার ১৪৮ দিন ধরে হিমায়িত ছিল, যা ৩০ বছর ৫ মাস ৯ দিনের সমান।

‘ভ্রূণ দত্তক’ ধারণাটি যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০-এর দশক থেকে প্রচলিত থাকলেও সম্প্রতি এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া অব্যবহৃত ভ্রূণ ফেলে দেওয়ার বিরোধিতা করেন অনেকে। বিশেষ করে খ্রিষ্টানভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা মনে করে, ভ্রূণও একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনের অংশ এবং তাদের একটি পরিবারের সান্নিধ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

এই ভ্রূণ দান করেছেন ৬২ বছর বয়সী লিন্ডা আর্চার্ড। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় অনুভব করেছি, এই ছোট্ট ভ্রূণগুলোর বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এগুলোর আমার মেয়েদের মতো বেঁচে থাকার অধিকার আছে।’

লিন্ডা ১৯৯৪ সালে আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নেন। তখন তিনি চারটি ভ্রূণ তৈরি করান। প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের পর তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় বাকি ভ্রূণগুলো আর ব্যবহার করা হয়নি। কয়েক দশক ধরে হিমায়িত ভ্রূণগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অপরাধবোধে ভুগছিলেন। অবশেষে তিনি ‘স্নোফ্লেকস’ নামের একটি দত্তক সংস্থার মাধ্যমে পিয়ার্স দম্পতির খোঁজ পান।

প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ছিল। লিন্ডাকে তার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাগজপত্র খুঁজে বের করতে হয়েছে। এরপর ভ্রূণগুলো অরেগন থেকে টেনেসিতে পিয়ার্স দম্পতির চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। লিন্ডা মোট তিনটি ভ্রূণ দান করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ভ্রূণ সংরক্ষণের পর ব্যবহারযোগ্য ছিল না। বাকি দুটি লিন্ডসের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে একটি সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে জন্ম নেয় এই শিশু।

চিকিৎসক ড. জন ডেভিড গর্ডন জানিয়েছেন, প্রায় ৩১ বছর ধরে হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে সফলভাবে শিশু জন্মদানের ঘটনা এটিই প্রথম। মজার বিষয় হলো, এর আগের রেকর্ডটিও তার ক্লিনিকের ছিল। তখন ৩০ বছর বা ১০ হাজার ৯০৫ দিন ধরে হিমায়িত ভ্রূণ থেকে যমজ শিশুর জন্ম হয়েছিল।

ড. গর্ডন বলেন, ‘এই গল্পগুলো মানুষের কল্পনাকে নাড়া দেয়। তবে এটি একটি সতর্কবার্তাও দেয়—কেন এত ভ্রূণ বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষণাগারে পড়ে আছে?’

পিয়ার্স দম্পতি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা কোনো রেকর্ড গড়ার কথা ভেবে এই পথে আসিনি, আমরা শুধু একটি সন্তান চেয়েছিলাম।’

অন্যদিকে ভ্রূণদাতা লিন্ডা আর্চার্ড এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি আবেগঘন রোলার কোস্টার যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, ওরা শিশুর ছবি পাঠাবে। কোনো একদিন ওদের সঙ্গে এবং শিশুটির সঙ্গে দেখা করতে পারলে আমার স্বপ্ন সত্যি হবে।’

চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
চীনে এবার রোবটের ব্যান্ডদল
ছবি সিএমজি বাংলা

প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে চীনা উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ চাং চেংথাও  দীর্ঘদিনের রোবটিক্স গবেষণাকে ব্যবহারিক উদ্ভাবনে রূপ দিয়েছেন। দক্ষ শিল্প রোবট থেকে শুরু করে দর্শকদের নজর কেড়ে নেওয়া একটি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যান্ড—সবই তার প্রতিষ্ঠিত চোংখে হুইলিং রোবটিক্সের উদ্ভাবনের অংশ।

প্রতিষ্ঠানটির রোবট ব্যান্ড ইতোমধ্যে অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ড্রামস, কিবোর্ড, লিড গিটার ও বেস গিটার নিয়ে গঠিত এই ব্যান্ডের পরিবেশনার পেছনে রয়েছে সূক্ষ্ম গতিনিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত পরিচালনা এবং দেহধারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বহু বছরের গবেষণা।

চাংয়ের মতে, রোবট ব্যান্ড তার বৃহত্তর স্বপ্নের একটি ছোট অংশ মাত্র। রোবটিক্স গবেষক হিসেবে তিনি ২০২৩ সালে চোংখে হুইলিং রোবটিক্স প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে গবেষণাগারের প্রযুক্তিকে বাস্তব শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহার করে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধান করা যায়।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এসব প্রযুক্তি উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে জুতা তৈরির কারখানায় দক্ষ হাতযুক্ত রোবটগুলো মানুষের কাজ পর্যবেক্ষণ করে সূক্ষ্ম সংযোজনের কৌশল শিখছে এবং তা বাস্তবে প্রয়োগ করছে। সূত্র: সিএমজি

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট
ছবি সিসিটিভি।

‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পের জন্য তৈরি উচ্চ-তাপমাত্রার একটি সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট বা চুম্বকের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এই মাইলফলকটি পারমাণবিক ফিউশন প্রযুক্তিকে গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করল।

চীনের আনহুই প্রদেশের হেফেই ফিউচার সায়েন্স সিটিতে অবস্থিত ‘বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ নামের একটি ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রের জন্য এই ম্যাগনেটটি তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় একে বলা হয় ‘সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট’। বিজ্ঞানীরা একে গাড়ির ইঞ্জিনের ‘স্পার্ক প্লাগ’-এর সাথে তুলনা করছেন। এটি প্লাজমার মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক প্রবাহ চালনা করে ফিউশন প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ম্যাগনেটটি ৬০ কিলোঅ্যাম্পিয়ার স্থিতিশীল বৈদ্যুতিক প্রবাহ বহন করতে সক্ষম এবং এটি ৬ দশমিক শূন্য ৩ মেগাজুল শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পারমাণবিক ফিউশন গবেষণায় বিশ্বজুড়ে অর্জিত সাফল্যের মধ্যে এর মূল কর্মক্ষমতা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির প্লাজমা ফিজিক্স ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ছিন চিংকাং বলেন, সেন্ট্রাল সোলেনয়েড ম্যাগনেট হলো সবচেয়ে জটিল অপারেটিং কন্ডিশনের একটি যন্ত্র। এর কর্মক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে ফিউশন ডিভাইসটি চালু থাকবে কি না এবং স্থিতিশীল থাকবে কি না। এটিই সেই মূল উপাদান, যা ফিউশনকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে ব্যবহারিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্ধারণকারী ভূমিকা পালন করবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘এই ফিউশন পরীক্ষার যন্ত্রটির নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যেই এর মাধ্যমে পারমাণবিক ফিউশন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন। সূত্র: সিএমজি

প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?
ছবি: সংগৃহীত

পোষা প্রাণীর মৃত্যু সব সময় কষ্টদায়ক। অনেকে মনে করেন,  মৃত্যু সম্পর্কে কেবল মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববিজ্ঞানে মৃত্যু একটি সর্বজনীন বিষয়। অনেক প্রাণী তাদের সঙ্গীর মৃত্যুতে নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর প্রাণীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ওরাল মেলানোমায় আক্রান্ত হয়ে কুকুরটির মৃত্যুর পর তিনি অন্য কুকুরদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

মৃত্যুর সবচেয়ে প্রাথমিক ধারণা হলো একটি প্রাণী বুঝতে পারে যে, অন্য প্রাণীর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে এবং সে আর ফিরে আসবে না। প্রাণিজগতে সঙ্গীর মৃত্যুতে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু প্রাণী বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে মরার ভান করে। যেমন–ওপোসাম নামের প্রাণী শিকারির হাত থেকে বাঁচতে এই কৌশল নেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় থ্যানাটোসিস বলা হয়। কিছু পাখি, সাপ ও কীটপতঙ্গের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়।

গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যেও শোক প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, কাছের সঙ্গী কুকুর বা বিড়ালের মৃত্যুতে অনেক সময় বিড়াল খাওয়া, ঘুমানো বা বিচরণ কমিয়ে দেয়। ডলফিনের মতো সামুদ্রিক প্রাণীরা মৃত শাবকের প্রতি গভীর মনোযোগ দেখায় এবং দিনের পর দিন তাদের বহন করে। ২০১৮ সালে একটি স্ত্রী অর্কা তার মৃত শাবককে ১৭ দিন ধরে বহন করেছিল। এছাড়া হাতি, প্রাইমেট এবং পাখিদের মধ্যেও মৃত সঙ্গীর প্রতি মানুষের মতো শোক প্রকাশের আচরণ করতে দেখা গেছে।

সব প্রাণীর প্রতিক্রিয়া আবেগতাড়িত নয়। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি কেবলই বেঁচে থাকার তাগিদ। যেমন–মৌমাছিরা মৃত সঙ্গীর গন্ধ বা মরদেহ থাকা ফুল এড়িয়ে চলে। মূলত শিকারির হাত থেকে বাঁচতে তারা এমন আচরণ করে। আবার লাল পিঁপড়ারা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে মৃত সঙ্গীদের বাসা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলে। এগুলো তাদের সম্পূর্ণ সহজাত আচরণ। অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিদের মতো উন্নত বুদ্ধিমত্তার প্রাণীর আচরণ অনেকটা মানুষের শোকের কাছাকাছি। তারা মৃত সঙ্গীর শরীর পরিষ্কার করে ও শাবকের মরদেহ দীর্ঘ সময় আগলে রাখে।

গবেষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর নিজের অন্য কুকুরদের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মৃত কুকুরটিকে ঘাসের ওপর রাখার পর দেখেন, অন্য কুকুরগুলো সেটিকে শুঁকে দেখে চলে গেলেও বার্টি নামের একটি কুকুর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মৃত সঙ্গীর পাশে বসে ছিল। সে তার বন্ধুকে শুঁকে ও চেটে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, প্রাণীরাও নিজেদের মতো করে মৃত্যু উপলব্ধি করতে পারে। মানুষের মতো হয়তো তাদের শোক প্রকাশের ভাষা নেই, তবে সঙ্গীর মৃত্যুতে তাদের সামাজিক ও মানসিক আচরণে পরিবর্তন আসে।

যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড
ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন মিসরীয়দের তৈরি গিজার গ্রেট পিরামিড আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির অভাব সত্ত্বেও কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, তা কয়েক দশক ধরে গবেষকদের বিস্মিত করেছে। তবে সম্প্রতি এই রহস্যের সমাধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষক ভিসেন্তে লুইস রোসেল রোইগ। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় তিনি গাণিতিক প্রমাণসহ দেখিয়েছেন যে, পিরামিডটি তৈরিতে একটি বিশেষ সর্পিল ও খাঁজকাটা র‍্যাম্প বা ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিশাল এই কাঠামোটি খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৬০ অব্দে মিসরের ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। এটি মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিড। এতে আনুমানিক ২৩ লাখ পাথরের ব্লক রয়েছে, যার প্রতিটির ওজন আড়াই থেকে ১৫ টন। ফারাও খুফুর ২৭ বছরের শাসনকালের মধ্যে এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ শেষ করতে হলে গড়ে প্রতি তিন মিনিটে একটি করে পাথর স্থাপন করতে হতো। এই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে এত বড় কাঠামো তৈরি সম্ভব হলো, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

কিছু গবেষকের মতে, পাথর ওপরে তোলার জন্য পিরামিডের বাইরে ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের পথ তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণ উপকরণের প্রয়োজন হতো এবং এর কোনো স্পষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অন্য একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, পিরামিডের ভেতরে একটি সর্পিল পথ তৈরি করা হয়েছিল, যা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওপর থেকে নিচে ভরাট করে দেওয়া হয়। কিন্তু রোইগের গাণিতিক মডেল বলছে, মাত্র একটি পথ ব্যবহার করে পিরামিডটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় অর্ধশতক সময় লেগে যাওয়ার কথা।

এর পরিবর্তে রোইগ দাবি করেন, পিরামিডের চারপাশজুড়ে একই সঙ্গে চারটি খাঁজকাটা সর্পিল পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। এগুলোর প্রতিটি পিরামিডের ভিত্তির কাছাকাছি ভিন্ন ভিন্ন বিন্দু থেকে শুরু হয়েছিল। মূল কাঠামোটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এই পথগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়। তার কম্পিউটার-জেনারেটেড মডেল অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে কাজ করায় মাত্র ২৭ বছরের মধ্যে পিরামিডটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছিল।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইজিপ্টোলজির রিডার ড. রোল্যান্ড এনমার্চ বলেন, ‘পিরামিড নির্মাণের এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার ব্যাখ্যা। তবে এই তত্ত্ব প্রমাণের জন্য আরও প্রমাণের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে কোণের অংশগুলোয় স্ক্যান করে দেখতে হবে, যেখানে ঢালু পথগুলো হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, এই ব্যাখ্যা খুব যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে। গিজার গ্রেট পিরামিডটি একমাত্র পিরামিড নয়, তাই এই তত্ত্ব অন্যান্য পিরামিড কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, সে সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারে।

মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?
ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বে আমরা কত দ্রুত চলছি, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ, বিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী গতি সব সময় আপেক্ষিক। একটি বস্তুর গতি অন্য একটি বস্তুর সাপেক্ষে পরিমাপ করা হয়। তাই মহাশূন্যে আমরা ঠিক কত বেগে ভ্রমণ করছি, তা সরাসরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে পৃথিবীর অবস্থান ও ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এই গতির একটি ধারণা দিয়েছেন।

পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর প্রতিনিয়ত ঘুরছে। এই ঘূর্ণনের কারণে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের গতি তার অক্ষাংশের ওপর নির্ভর করে। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রের সাপেক্ষে এই গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আবার পৃথিবী যখন সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে, তখন তার গতি আরও বেড়ে যায়। সূর্যের কক্ষপথে পৃথিবীর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কিলোমিটার।

আমাদের সৌরজগৎ আবার স্থির নয়। এটি সেকেন্ডে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই হিসেবে সৌরজগতের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার কিলোমিটার। যেহেতু এসব গতি ভিন্ন ভিন্ন অভিমুখে কাজ করে, তাই সাধারণ নিয়মে যোগ করে মানুষের মোট গতি বের করা সম্ভব নয়।

তবে মহাবিশ্বের ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ (সিএমবি)-এর সাপেক্ষে এই গতি পরিমাপ করা সম্ভব। সিএমবি হলো বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট থাকা বিকিরণ। এই বিকিরণের সাপেক্ষে আমাদের বর্তমান গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার। এই গতিতে আমরা মহাকাশের ‘লিও’ নক্ষত্রমণ্ডলীর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

আবার ছায়াপথের কেন্দ্রের চারদিকে সূর্যের ঘূর্ণন এবং মহাবিশ্বে ছায়াপথের নিজস্ব গতির দিক প্রায় বিপরীত। ফলে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথটি ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে।

গতিটি আপাতদৃষ্টিতে অনেক বেশি মনে হলেও এটি আলোর গতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের এই গতি আলোর গতির মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশের কাছাকাছি। বিজ্ঞানের টাইম ডাইলেশন তত্ত্ব অনুযায়ী, এই গতির কারণে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের সময় কিছুটা ধীরগতির হয়। হিসাব অনুযায়ী, সিএমবি কাঠামোর তুলনায় আমাদের পৃথিবীতে সময় প্রতি বছরে প্রায় ৭ সেকেন্ড ধীরগতিতে চলে।