হাইকোর্টের তলবে সাড়া না দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে আদালতে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৮ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল-জলিলের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমানের দেওয়া ‘অবমাননাকর বক্তব্য’ ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়লে হাইকোর্ট গত ১৫ অক্টোবর স্বপ্রণোদিত আদেশে হাবিবুর রহমানকে তলব করেন। আদেশে হাবিবুর রহমানকে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ৬ নভেম্বর আদালতে হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হননি। ফলে আদালত অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছেন আদালত।
এদিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে হাবিবের অবস্থান জানানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে হাবিবুর রহমান হাবিবের দেওয়া ‘অবমাননাকর বক্তব্য’ ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে অপসারণ করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান আদালতকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা বিএনপি নেতা হাবিবকে তার স্থায়ী এবং বর্তমান ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। তার পরিবারের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েছেন, হাবিবুর রহমান কোথায় আছেন তা তারা জানেন না।’ এদিকে বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা ই রাকিব আদালতকে জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাবিবুর রহমান হাবিবের দেওয়া ‘অবমাননাকর বক্তব্য’ ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর তৎকালীন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। এরপর ২০১৯ সালে মো. আখতারুজ্জামান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর বিচারপতি আখতারুজ্জামানকে নিয়ে ‘অবমাননাকর বক্তব্য’ দেন হাবিবুর রহমান হাবিব। তার সেই বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এলে আদালত অবমাননার জন্য হাবিবুর রহমানকে তলব করা হয়।