আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে গ্রেপ্তার থাকা কোনো ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে এনে বক্তব্য প্রচার বন্ধ চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।
তিনি বুধবার (৮ নভেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, গত মঙ্গলবার পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করার এখতিয়ার একমাত্র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে বক্তব্য প্রচার করা উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থী এবং আদালত অবমাননার শামিল।
আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র মামলায় ২০১৯ সালে হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চের এক রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ‘এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা খুবই সংগত হবে যে, ইদানীং প্রায়শ: লক্ষ করা যায় যে, বিভিন্ন আলোচিত অপরাধের তদন্ত চলাকালীন পুলিশ-র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পূর্বেই বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা অনেক সময় মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অমর্যাদাকর এবং অঅনুমোদনযোগ্য; এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত সম্পর্কে অতি উৎসাহ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে ব্রিফিং করা হয়ে থাকে। আমাদের সকলকে স্মরণ রাখতে হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতে একজন অভিযুক্ত বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত না হচ্ছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না যে তিনি প্রকৃত অপরাধী বা তার দ্বারাই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে।
গণমাধ্যমের সামনে গ্রেপ্তারকৃত কোনো ব্যক্তিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা সংগত নয় যে, তার মর্যাদা ও সম্মানহানি হয় এবং তদন্ত চলাকালে অর্থাৎ পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের পূর্বে গণমাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত কোনো ব্যক্তি বা মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে এমন কোনো বক্তব্য উপস্থাপন সমীচীন নয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বিতর্ক বা প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে। মামলার তদন্ত এবং বিচার পর্যায়ে একজন অভিযুক্তের প্রাপ্ত আইনি অধিকার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ), পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, (সিআইডি), গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে এনে বক্তব্য প্রচার বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নইলে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
নোটিশে সই করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাসেল আহম্মেদ, আবদুল্যাহ আল মাহমুদ, আল-ফয়সাল সিদ্দিকী, মহসিন কবির, নজরুল ইসলাম ছোটন, শফিকুল ইসলাম, সামছুন নূর বাঁধন, শাহরিয়ার মাহমুদ, নুরুল হুদা ও রাশেদুল হক।
আ.রহিম