রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের বিরুদ্ধে দলটির করা লিভ টু আপিলের শুনানি হবে আগামী রবিবার। জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সভা, জনসভা ও মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা একাধিক আবেদনেরও একত্রে শুনানি হবে। গত সোমবার এক আদেশে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ মূল মামলাসহ সব আবেদন শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন।
জামায়াতকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন ২০১৩ সালের ১ আগস্ট অবৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল-হকের বৃহত্তর (লার্জার) বেঞ্চ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। সে সময় সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেন, এ নিবন্ধন দেওয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। একই সঙ্গে আদালত জামায়াতে ইসলামীকে আপিল করারও অনুমোদন দেন। এ রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে জামায়াতে ইসলামী আপিল বিভাগে আবেদন করলে একই বছরের ৫ আগস্ট তা খারিজ করেন আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর চেম্বার জজ আদালত। পরে একই বছরের ২ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি শুনানির জন্য বিষয়টি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। এরপর জামায়াতে ইসলামীকে আপিলের সার সংক্ষেপ জমা দিতে বলেন সর্বোচ্চ আদালত।
এদিকে হাইকোর্টের রায়ের পর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে গত ২৬ জুন আপিলে পক্ষভুক্ত হন তরিকত ফেডারেশনের নেতা মাওলানা সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ৪২ জন। পক্ষভুক্তিতে তারা দুটি আবেদন করেন। একটি হলো হাইকোর্টের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে না পেলেও ১০ বছর পর জামায়াতে ইসলামী কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের কর্মসূচি পালনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হোক। আরেকটি আবেদনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। এতে বলা হয়, তারা (জামায়াতে ইসলামী) রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন। হাইকোর্টের রায়ে তাদের নিবন্ধন অবৈধ। আদালত অবমাননার অভিযোগে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।
এমএ/