নরসিংদীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে পেটানোর হুমকি দিয়ে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের কারণে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রবিবার (৩ ডিসেম্বর) অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিক এ আদেশ দেন।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের সামনে থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নরসিংদী নিয়ে আসা হয়। পরে বিকেল ৫টায় তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের আদালতে হাজির করা হলে রবিবার শুনানির দিন ধার্য করে কারাগারে পাঠায়।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাফায়েত আহম্মেদ পলাশ এ বিষয়ে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানান, মামলাটি দুপুরে শুনানি হলেও আদেশ বিকেলে দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২ জানুয়ারি।
এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমনের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা আদালতের সামনে সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেয়। পরে নরসিংদী মডেল থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে নরসিংদী ক্লাব লিমিটেডের মিলনায়তনে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামকে বিজয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমনের দেওয়া বক্তব্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে পেটানোর হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘কোনো স্বতন্ত্র-মতন্ত্র আমরা চিনি না, মাইরের ওপরে কোনো ওষুধ নাই। ছাত্রলীগের কোনো পোলাপান স্বতন্ত্ররে মানতো না, নরসিংদী শহরে ও সদরের কোনো এলাকায় তাকে জায়গা দেওয়া হবে না।’
রিমনের দেওয়া এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (১৯৭২ সনের রাষ্ট্রপতি আদেশ নং ১৫৫)-এর ৭৩ ও ৮৪ (ক) এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর ধারা ১১ (ক)-এর লঙ্ঘন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বাদী হয়ে আহসানুল ইসলাম রিমনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন।
এর আগে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নরসিংদী-১ নির্বাচনী এলাকার নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সদস্য নাহিদুর রহমান নাহিদ ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমনকে শোকজ করেন। এ ছাড়া আইন ভঙ্গের কারণে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে শোকজ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শাহিন/জোবাইদা/অমিয়/