দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের নির্বাচনের প্রথম দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
সমিতির সদস্য ৩৭ হাজার হলেও এবারের ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৭৩১। প্রথম দিনে ২ হাজার ৭৫৯ জন আইনজীবী ভোট দেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়। এই সংখ্যা মোট ভোটারের তুলনায় অনেক কম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার একইভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের প্রথম দিনে আওয়ামী লীগের সমর্থক হাতেগোনা কয়েকজন আইনজীবীকে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে দেখা গেছে। তবে তারা ভোট দিয়েছেন কি না জানা যায়নি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের আইনজীবী নেতাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করছে। ভোটগ্রহণের হারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে একশ্রেণির আইনজীবী জানান।
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে সাদা প্যানেল এবারের নির্বাচনে অনুপস্থিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলেও তারা অংশগ্রহণের অনুমতি পাননি।
এবারের নির্বাচনে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। নীল ও সবুজ এই দুই প্যানেলে সম্পাদকীয় পদে ১৩ জন এবং কার্যকরী সদস্য পদে ১০ জনসহ মোট ২৩টি পদের বিপরীতে মোট ৪৬ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আটজনসহ মোট ৫৪ জন আইনজীবী প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেল এবং জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ের আশা করছেন। প্রতিবারের মতো দুদিন ভোট গ্রহণ শেষে আগামীকাল ফলাফল ঘোষণা করা হবে।