সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সরকারের গঠন প্রক্রিয়া এবং সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে ওই সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন ও দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ মুহসিন রশিদ জনস্বার্থে এই রিট দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেন। রিটে একটি কমিশন গঠন করে এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করার আরজি জানানো হয়েছে।
মুহসিন রশিদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া যেসব সিদ্ধান্ত বর্তমান সংসদ বা সরকার পাস করেছে, সেগুলো এই রিটের আওতায় আসবে না। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী বলেন, ‘বলা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের অভিমত নিয়ে রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টাদের শপথ দিয়েছেন। কিন্তু ওই অভিমতে ‘প্রধান উপদেষ্টা’ নাকি ‘রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা’ হিসেবে শপথ দেওয়ার কথা ছিল, তা অনুসন্ধান করা দরকার।’
তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের অভিমত অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না বা তার কার্যপরিধি নির্ধারিত ছিল কি না—তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কমিশনের মাধ্যমে এই অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন চর্চার ঝুঁকি থাকবে, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কার্যক্রম আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। এরপর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকার গঠন ও শপথের আগে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়েছিলেন বলে আদালত প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন তোলা হয়েছে।